মেহুলকে ‘ক্লিন চিট’ দিয়েছে ভারতই, দাবি অ্যান্টিগা সরকারের

হঠাত্ কেন অ্যান্টিগার মতো দরিদ্র এবং ছোটো দেশে নাগরিকত্ব নিতে গেলেন মেহুল? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সঙ্গে সে দেশে প্রত্যার্পণের বিষয়ে কোনও চুক্তি নেই

Updated By: Aug 5, 2018, 01:44 PM IST
মেহুলকে ‘ক্লিন চিট’ দিয়েছে ভারতই, দাবি অ্যান্টিগা সরকারের
ফাইল চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঋণখেলাপিতে অভিযুক্ত শিল্পপতি মেহুল চোকসিকে ‘ক্লিন চিট’ দিয়েছিল ভারতই, বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আনল অ্যান্টিগা সরকার। এই ক্যারাবিয়ান দ্বীপের মেহুল চোকসির নাগরিকত্ব বিষয়ে সে দেশের প্রশাসন স্পষ্ট জানায়, ভারতের পুলিসই এই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে ক্লিনচিট দেয়।

জানা গিয়েছে, মেহুল চোকসি বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক অভিযোগ নেই, এমন শিলমোহর দেওয়া হয় ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুম্বইয়ের রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিস থেকে। অ্যান্টিগা এবং বারবুডার সিটিজেনশিপ বাই ইনভেস্টিগেশন ইউনিট (সিআইইউ)-র তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়।

আরও পড়ুন- ওবামার মতো ট্রাম্পও কি উপস্থিত থাকবেন প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে!

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, গত বছর নভেম্বরে অ্যান্টিগার নাগরিকত্ব পান মেহুল চোকসি। চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দেশ ছাড়া হয় মেহুল। ওই মাসের ১৫ তারিখে সে দেশের নাগরিকত্ব পেতে শপথ নেন তিনি। মেহুল চোকসি এবং ভাগ্নে হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদীর বিরুদ্ধে ২৯ জানুয়ারি সিবিআইয়ের কাছে অভিযোগ জানায় পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক।

উল্লেখ্য, মেহুল এবং নীরবের বিরুদ্ধে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাঙ্ক পিএনবি থেকে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার আত্মসাত্ করার অভিযোগ ওঠে। যখন এই খবর প্রকাশ্যে আসে, দেশ ছাড়া হয় পরিবার-সহ মেহুল এবং নীরব। ‘মামা-ভাগ্নে’ ব্রিটেনেই আশ্রয় নিয়েছে বলে প্রথমে অনুমান করেন সিবিআই তদন্তকারীরা। সাহায্য নেওয়া ইন্টারপোলেরও। পরে, মেহুলই জানিয়েছেন ১.৩ কোটি টাকার বিনিয়মে অ্যান্টিগার নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন তিনি। অ্যান্টিগা-তে ব্যবসা বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৩২ দেশের ভিসা-ফ্রি ভ্রমণের সুবিধাও মেহুল আদায় করে নেয় বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন- হলিউডের কায়দায় চুরি সুইডেনের রাজপরিবারের সোনার মুকুট

হঠাত্ কেন অ্যান্টিগার মতো দরিদ্র এবং ছোটো দেশে নাগরিকত্ব নিতে গেলেন মেহুল? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সঙ্গে সে দেশে প্রত্যার্পণের বিষয়ে কোনও চুক্তি নেই। যার সুযোগ নিয়েছেন ধুরন্ধর চোকসি। অ্যান্টিগার প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, যে সময় মেহুলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারেনি দিল্লি। এমনকি মেহুলের বিরুদ্ধে ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে দু’দুটি অভিযোগ আনে ভারতের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি। প্রথম মামলায় জিতে যায় মেহুল। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে সেবি কোনও প্রমাণ দাখিল না করতে পারায় মেহুলের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ খারিজ হয়ে যায়। অ্যান্টিগা প্রশাসনের দাবি, মেহুলের বিরুদ্ধে সিবিআই যখন সক্রিয় হয়েছে, ততক্ষণে তার নাগরিকত্বের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে।

মেহুলের গ্রেফতারে অ্যান্টিগুয়া সরকারকে দিল্লি একাধিকবার অনুরোধ করেছে বলে সূত্রে খবর। জল-স্থল- অন্তরীক্ষে যেখানে মেহুলকে দেখা যাবে, তাকে গ্রেফতার করার আর্জি জানায় দিল্লি। কিন্তু এ দিনের সিআইইউ-র বিবৃতি থেকে স্পষ্ট, মেহুলের প্রত্যার্পণে কোনও ভূমিকা নিতে নারাজ অ্যান্টিগুয়া প্রশাসন। এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল।

আরও পড়ুন- ইমরানের দাওয়াত কি পাকা, তৈরি হচ্ছে সংশয়!