ভারত-পাক সীমান্ত মুছে দিয়ে জেগে আছে জাল্লিকাট্টু

মানচিত্রে সীমান্তের রেখাটা টেনে দিয়েছে রাজনীতি। রাজনৈতিক কারণে ভাগ হয়েছে দেশ। কিন্তু এক সময় এক থাকার সুবাদে সংস্কৃতিগত বেশ কিছু মিল রয়েছে দুদেশের। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এপারে নিষিদ্ধ, আর ওপারে মহাগৌরবে চলে ষাঁড়ের খেলা।      

Updated By: Feb 10, 2017, 11:42 PM IST
ভারত-পাক সীমান্ত মুছে দিয়ে জেগে আছে জাল্লিকাট্টু

ওয়েব ডেস্ক: মানচিত্রে সীমান্তের রেখাটা টেনে দিয়েছে রাজনীতি। রাজনৈতিক কারণে ভাগ হয়েছে দেশ। কিন্তু এক সময় এক থাকার সুবাদে সংস্কৃতিগত বেশ কিছু মিল রয়েছে দুদেশের। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এপারে নিষিদ্ধ, আর ওপারে মহাগৌরবে চলে ষাঁড়ের খেলা।      

ষাঁড়ের গোঁতা খেয়ে মৃত্যু প্রতিবার হতো। দুঃসাহসিক এই খেলা বন্ধের নির্দেশ দেয় আদালত। কিন্তু সেই নির্দেশের জেরেই শিকড়ে টান লাগে। যুগ-যুগান্তর ধরে চলে আসা সংস্কৃতির জাল্লিকাট্টু বন্ধ হয়ে যাবে ! প্রতিবাদে সামিল হন লাখো মানুষ। ফেরাতে হবে জাল্লিকাট্টু।

এ ছবি ইসলামাবাদের থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের পিন্দ সুলতানি এলাকার। যুগ-যুগান্তর ধরে পাকিস্তানের গ্রামে গ্রামে চলে আসছে এই ষাঁড়ের খেলা। এখন এই খেলা মানুষের সংস্কৃতির অঙ্গ। কবে কখন এই খেলা হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্তটা নিয়ে থাকেন গ্রামের মাতব্বররাই। খেলার জন্য অনেকটা জায়গা লাগে বলেই খেলার আয়োজন হয় সাধারণত ফসল কাটার পর। দূর দূরান্ত থেকে ভিড় করেন মানুষ। মেলার চেহারা নেয়।

আরও পড়ুন- রাজনীতিতে রজনীকান্ত, জল্পনার ঢেউ দেশ জুড়ে

এই খেলার জন্য অবশ্য বিশেষ ধরণের ষাঁড়ের ব্যবস্থা করা হয়। সেই ষাঁড় মাসে একবারের বেশি দৌড়তে পারে না। আর যাঁর ষাঁড় জয়ী হয়, সেই মালিকের বুক ফুলে ওঠে গর্বে। আগে অবশ্য পুরস্কার বাবদ মিলত ষাঁড় বা জমি। যুগ বদলেছে। এখন জমি আর ষাঁড়ের জায়গায় এসেছে ওয়াশিং মেশিন বা টেলিভিশন সেট। তবে জৌলুস এতটুকুও কমেনি।

আরও পড়ুন-  ওয়েলিংটন সৈকতে আটকে মৃত্যু অসংখ্য তিমির

হিংসা বিধ্বস্ত দেশ। লাগাতার সন্ত্রাস। প্রতি মুহূর্তে অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতায় বেঁচে থাকেন এখানকার মানুষ। তবু এই খেলা সে সব কিছুকেই অনায়েসেই ভুলিয়ে দিতে পারে। সংস্কৃতির শিকড়ে সমস্ত দুশ্চিন্তা ভুলে মেতে উঠতে পারেন পাকিস্তানের গ্রামগুলির মানুষ।