কুক বিক্রমে দিশাহারা ধোনিবাহিনী

Update: December 7, 2012 12:30 IST

ভারত- ৩১৬
ইংল্যান্ড-৩৩৮/১
অ্যালেস্টার কুক-১৮৮
জনাথন ট্রট-৮৭

অ্যালেস্টার কুকের বৃহস্পতি এখন সত্যিই তুঙ্গে। ভারতের মাটিতে তাঁর শতরানের সিলসিলাতো তিন টেস্ট ধরেই অব্যাহত। আপাতত ইডেনের ২২ গজে ভারতীয় বোলারদের নির্বিষ বোলিং নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করছেন। তার সঙ্গে কুকের কিন্তু টিম ইন্ডিয়ার ফিল্ডিংয়ের কাছেও কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। দু`-দুবার তাঁর ক্যাচ ফেলার দুঃসাহস দেখালেন ভারতীয় ফিল্ডাররা! এই রকম একটা ম্যাচে যেখানে হাতে সাকুল্যে ৩১৬টি রান পুঁজি, সেখানে ব্রিটিশ অধিনায়কের প্রতি ভারতীয়দের `বদান্যতার` কোন কিনারা খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। কাল থেকে অবিশ্রান্ত হাত ঘুরিয়েও ভারতীয় শিবিরের প্রাপ্তি মাত্র একটি উইকেট। আজ টেস্টের তৃতীয় দিনে লাঞ্চ পর্যন্ত দুই পেসার আর দুই স্পিনারের প্রচুর কসরত সত্ত্বেও ধোনি এন্ড কোম্পানির প্রাপ্তির ভাঁড়ার সেই শূন্যই। লাঞ্চ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের স্কোর এক উইকেট হারিয়ে ২৯৬। মাঠে ১৬৭ রানে অপরাজিত ক্যাপ্টেন কুক। তাঁর সঙ্গেই ৬৬ রানে ব্যাট করছেন ট্রট।

লাঞ্চে টিম ইন্ডিয়ার মেনুতে প্রথমেই থাকা উচিত কী ভাবে ব্রিটিশ অধিনায়ককে জলদি জলদি বিপক্ষ ড্রেসিংরুমে পাঠানো যায় তার সুলুক সন্ধান। তা না হলে ক্যাপ্টেন কুকের জাহাজ কোন রানের পাহাড়ের দিকে তাঁর দলকে টেনে নিয়ে যাবে, তার অনুমান কিছুটা হলেও করতে পারছেন মাহিরা। ট্রট কিন্তু ইতিমধ্যেই বেশ জমাট বেঁধে বসেছেন। কোন দৈব ক্রমে ভারতীয় বোলাররা যদি ফর্মে ফিরে এসে কুক-ট্রট জুটি ভেঙেও ফেলেন তাতেও বিপদ এখনই কাটছে না। কারণ এর পরের ইংরেজ ব্যাটসম্যানদের নাম গুলো ধারে ও ভারে বেশ ভারী। ইয়ান বেল, ম্যাট প্রায়রতো আছেনই, এখনই কিন্তু পায়ে প্যাড বেঁধে মাঠে নামতে প্রস্তুত হয়ে বসে আছেন কেভিন পিটারসন। ওয়াংখেড়েতেই সম্প্রতি নিজের হারানো ফর্ম ফিরে পেয়েছেন তিনি। তার ঝলক যে ইডেনেও দেখা যাবে না তার কি গ্যারান্টী আছে? নিজের দিনে কেপি যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারেন তা বিলক্ষণ জানেন অশ্বিন-ওঝারা।

বিপদ অবশ্য এতেই কাটছে না। তিন দিন কেটে গেলে ইডেন পিচের চরিত্র কিন্তু এক্কেবারে বদলে যায়। সে কী খেল দেখাবে তার সুলুক সন্ধান বোধ হয় প্রবীর বাবুর কাছেও নেই। ইডেনের ভাঙা পিচে বল কী গতিতে ঘোরে তার সম্মুখ অভিজ্ঞতা টিম ইন্ডিয়ার সকলেরই কম বেশি আছে। এমনিতেই স্পিন পিচে অপরাজেয়র খেতাবটা ভারতীয় দল ওয়াংখেড়েই মোটামুটি বিসর্জন দিয়ে এসেছে। ইডেনেও প্রথম ইংনিসে গুছিয়ে সেই ধারাই বহন করেছে তারা। অতএব সাধু, এখন থেকেই সাবধান হওয়া ভাল।





Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।