দিনের শেষে খালি হাতে মমতা

Last Updated: Tuesday, November 20, 2012 - 20:28

বামেরা আগেই না বলে দিয়েছে, এআইএডিএমকের উত্তর ও সেই না। দিনভর উত্কন্ঠায় রেখে বিজেপিও হতাশ করল। সব মিলিয়ে নিট ফল দিনের শেষে খালি হাতেই থাকতে হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে হতাশ করল জাতীয় রাজনীতির বেশিরভাগ বড় দলেরাই। অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে তৃণমূলের পাশে দাঁড়ানোর কোনও আশ্বাসই দিল না বিজেপি। আজ সকালে বিজেপি সংসদীয় দলের বৈঠকে বিষয়টি ঠেলে দেওয়া হয় এনডিএ বৈঠকে। বিকেলে এনডিএ বৈঠক শেষে বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ যা বললেন তাতে পরিষ্কার, অনাস্থা প্রস্তাবে এই মুহূর্তে সায় নেই বিজেপির। রবিশঙ্কর প্রসাদ জানিয়েছেন, সংসদে এফডিআই ইস্যুতে ভোটাভুটি চেয়ে প্রস্তাব আনবে এনডিএ। অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে অন্যান্য দলের সঙ্গে  আরও আলোচনা হতে পারে বলে বিষয়টিকে একরকম  পাশ কাটিয়ে যাওয়ার রাস্তা নেন রবিশঙ্কর প্রসাদ। তৃণমূলকে আজ হতাশ করেছে এআইডিএমকেও। দলের নেত্রী জয়ললিতা জানিয়েছেন, তাঁর দল অনাস্থা প্রস্তাবের বিরুদ্ধেই ভোট দেবে। অনাস্থা প্রস্তাবে পাশে দাঁড়াচ্ছে না বামেরাও। ফলে দিনের শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে থাকতে হল খালি হাতেই।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে নতুন কৌশল নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তিনি বলেন, বামেরা অনাস্থা আনলেও প্রয়োজনে তা সমর্থন করবে বলে জানান তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার একধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিআইএমের রাজ্য সদর দফতরেও যেতে রাজি তিনি। তবে বামেরা যে তৃণমূলের পাশে নেই তা মঙ্গলবার আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। তাঁর যুক্তি নিশ্চিতভাবে পরাজয় জেনেই অনাস্থা আনার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেক্ষেত্রে নৈতিক জয় হবে মনমোহন সরকারেরই।
বিকেল গড়াতে না গড়াতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় এনডিএ শিবিরও। বিকেলে এনডিএর বৈঠক শেষে বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, সংসদে এফডিআই ইস্যুতে ভোটাভুটি চেয়ে প্রস্তাব আনবে এনডিএ। অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে অন্যান্য দলের সঙ্গে আরও আলোচনা হতে পারে বলে বিষয়টিকে একরকম পাশ কাটিয়ে যাওয়ার রাস্তা নেন রবিশঙ্কর প্রসাদ।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ইস্যুতে শেষপর্যন্ত তৃণমূলের পাশে দাঁড়াচ্ছে না এআইএডিএমকে। অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলে তারা বিপক্ষেই ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন এআইএডিএমকে নেত্রী জয়ললিতা। একই সঙ্গে অবশ্য তিনি জানিয়েছেন, অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থনের জন্য তাঁর সঙ্গে এখনও পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেননি। সংসদে এআইএডিএমকে-র সদস্য সংখ্যা ৯ জন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও একবার ধাক্কা খেয়েছিলেন মমতা। কালামের হয়ে গলা ফাটাতে গিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পরোক্ষে নিজের শক্তি যাচাই করতে ময়দানে নেমেছিলেন মমতা। শেষ অবধি অবশ্য সেভাবে সমর্থন না পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থীকেই সমর্থন করতে বাধ্য হন। জাতীয় রাজনীনিতে কার্যত তারই পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে।



First Published: Tuesday, November 20, 2012 - 20:28


comments powered by Disqus