রাজনীতির অঙ্ক ঝুঁকে প্রণবের দিকেই

Update: June 13, 2012 09:13 IST

কংগ্রেস এখনও তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তবে দশ জনপথ সূত্রের খবর, প্রণব মুখোপাধ্যায়কেই প্রার্থী করতে পারেন সোনিয়া গান্ধী। প্রণববাবুর নাম নিয়ে জল্পনা মাথাচাড়া দেওয়ার পর সমর্থনের সমীকরণও অনেকটাই পাল্টে গেছে। দিল্লির রাজনীতির অঙ্ক বলছে, প্রণববাবুর নামে আপত্তি না-ও তুলতে পারে তৃণমূল। সেইসঙ্গে অন্যান্য দলের সমর্থনও পেয়ে যেতে পারেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ফলে অনেকটাই পাল্লা ভারি সাকিন কীর্ণাহারের এই রাজনীতিকের।

সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করতে গতকালই দিল্লি পৌঁছেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেস সভানেত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক। দশ জনপথ সূত্রের খবর, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে একরকম সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন সোনিয়া গান্ধী। জল্পনা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতি পেলেই তাঁর নাম সামনে আনবে কংগ্রেস।

কিন্তু প্রশ্ন হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি রাষ্ট্রপতি পদে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের নাম সমর্থন করবেন? বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ সামনে উঠে আসছে।

১- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল আপত্তি ছিল, তাঁর সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। সোনিয়ার সঙ্গে বৈঠকের পর সেই অভিযোগের অবকাশ থাকবে না।
 
২- বাঙালি হিসাবে এই প্রথম কোনও ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সামনে উঠে আসছে। এই অবস্থায় বাঙালি আবেগের কথা মাথায় রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তি করার সুযোগ নেই।
 
৩-ইউপিএ-র প্রার্থীতে আপত্তি করলে সেক্ষেত্রে বিজেপির প্রার্থীকে সমর্থন করতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের দিকে তাকিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর পক্ষে তা সম্ভব নয়।
 
৪- এসপি, বিএসপি, এআইএডিএমকে-র সঙ্গে তৃণমূলের কথা হলেও রাষ্ট্রপতি পদে কোনও সর্বসম্মত নাম ঠিক হয়নি। ফলে প্রণব মুখোপাধ্যায়কে সমর্থন করা ছাড়া বিকল্প নেই। 
 
৫- প্রণব মুখোপাধ্যায়ের নাম ইতিমধ্যেই সমর্থন পেয়েছে অধিকাংশ  রাজনৈতিক দলের। এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে একক বিরোধিতার কোনও সুযোগ নেই।

৬- শেষ পর্যন্ত উপরাষ্ট্রপতি পদে যশবন্ত সিংয়ের নাম মেনে নিলে প্রণব মুখোপাধ্যায় ক্ষেত্রে বিজেপিরও সমর্থন পেতে পারে কংগ্রেস। সেক্ষেত্রে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন প্রণববাবু।
 
৭-রাজনৈতিক অঙ্ক বলছে, প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রার্থী হলে এবং বিজেপিও প্রার্থী দিলে, পাল্লা ভারি প্রণববাবুর দিকেই। ফলে তৃণমূলের সমর্থন না পেলেও প্রণববাবুই এগিয়ে থাকবেন।
 
৮-রাজ্যের অর্থনৈতিক প্যাকেজ নিয়ে প্রণববাবুর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু ক্ষোভ আছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু তারপরও সরাসরি প্রণববাবুর বিরোধিতা করা কঠিন তৃণমূলের পক্ষে। কারণ, রাজ্য এখনও পর্যন্ত যে বাড়তি অগ্রাধিকার পেয়েছে তাতে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সহযোগিতার কথা সকলের জানা।



Post Your Comment

Total Comments:1

I like 24ghanta

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।