সিরিজে সমতার স্বপ্ন বিসর্জনের পথে

Last Updated: Sunday, December 16, 2012 - 19:58

শেষ পর্যন্ত বোধহয় `ট্রট`-এ এসে ডুবে গেল ভারতের সিরিজে সমতা ফেরাবার তরী। কুক, কেপি, কমপটনকে দ্রুত প্যাভিলিয়নবাসী করেও ম্যাচ জেতার লড়াই থেকে কয়েক যোজন দূরে ছিটকে গেলেন ধোনিবাহিনী। দলের প্রাথমিক বিপর্যয়কে সামলে নিয়ে জমাটি পার্টনারশিপ গড়ে তুলছেন ট্রট আর বেল। ইতিমধ্যে চতুর্থ উইকেটে দু`জনে কার্যকরি ৬৭ রান যোগ করে ফেলেছেন। চতুর্থ দিনের শেষে ইংল্যান্ড ১৬৫ রানে এগিয়ে রয়েছে। ক্রিজে ব্যক্তিগত ৬৬ রানে অপরাজিত ট্রট। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিচ্ছেন বেল (২৪)। হাতে ৭ উইকেট আর একটা গোটা দিন নিয়ে কাল মাঠে নামবেন ব্রিটিশরা। একটা ড্র। তাহলেই কেল্লাফতে। কালকের দিনটা কাটিয়ে দিতে পারলেই ভারতের মাটিতে দীর্ঘ ২৮ বছর পর সিরিজ জয়ের গৌরব লাভ করবেন কুকরা। তাই বিন্দুমাত্র তাড়াহুড়ো না করে নাগপুরের ২২গজ আঁকড়ে থাকাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
গতকাল কোহলি আর ধোনির অসামান্য যুগলবন্দীর সাক্ষী ছিল নাগপুরের বিতর্কিত পিচ। আজ ম্যাচ শুরুর ১ ঘণ্টা পর ৯ উইকেটে ৩২৬ রানে ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ধোনি। উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজদের ইনিংসে যত দ্রুত সম্ভব দাঁড়ি টেনে দিয়ে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের আর একবার সুযোগ করে দেওয়া। মোটকথা অন্তত একবার জয়ের জন্য সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপানো।
শুরুটাও মোটামুটি আশাজনক হয়েছিল। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে ১৩ রানে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান কুক। যদিও প্রথম ইনিংসের মত এই ইনিংসেও আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা এক্ষেত্রে ভারতীয়দের কাছে কিছুটা কৃতজ্ঞতার দাবি রাখেন। রবীন্দ্র জাদেজা বিধ্বংসী কেপিকে ৬ রানে আউট করার পর তখনও লড়াইয়ে টিকে ছিল ভারত। কিন্তু দিনের শেষে ট্রট আর বেল দায়িত্ব নিয়ে টিম ইন্ডিয়ার জেতার স্বপ্নকে ভেন্টিলেশনে পাঠিয়ে দিলেন।
তবে ভারত-ইংল্যান্ড সিরেজের অন্তিম টেস্টের পানসে চতুর্থ দিনে কিছুটা মশলার যোগান দিল কোহলি-ট্রট ঝগড়া। ইশান্ত শর্মার বলে ট্রটের আউটের জোরালো আবেদন নাকচ করেন ধর্মসেনা। এর পরেই ট্রট আর কোহলির মধ্যে উতপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
অবশ্য এখনও ভারতের ম্যাচ জেতার স্বপ্ন পুরোপুরি নিহত হয়নি। পঞ্চম দিনের প্রাক্কালেই ভারতীয় বোলারদের একটা অসাধারণ স্পেল মৃতপ্রায় জেতার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে তুলতে পারে।
কিন্তু সেক্ষেত্রে বাধা তিনটি। এক- নাগপুরের খামখেয়ালি পিচ তার বাউন্সি চরিত্র বিসর্জন দিয়ে এখন নির্জীবি,অসম্ভব ধীর। দুই- পিচে জমে যাওয়া দুই ইংরেজ ব্যাটসম্যান এখনও পর্যন্ত এই পিচে যথেষ্ট স্বচ্ছন্দের সঙ্গে ব্যাটিং করেছেন। তাঁদের ভাবগতিক দেখে মোটেও মনে হচ্ছে না দ্রুত তাঁরা ড্রেসিং রুমে কেপিদের সঙ্গী হতে ইচ্ছুক। তিন- অধুনা ভারতীয় বোলিং স্কোয়াডে কারও নাম অনিল কুম্বলে নাম। যাঁরা আছেন তাঁদের কাছে মিরাক্যেলের প্রার্থনা করা অনেকটা ক্লাস ফাইভের বাচ্চার কাছে টেনের অঙ্ক কষে দেওয়ার আবদার করার মত। তবুও চাষা তো আশাতেই বাঁচে। সেই আশাকেই ভরসা করে কালকেও নাগপুরের দিকে তাকিয়ে থাকবে ১২০ কোটির দেশ।



First Published: Sunday, December 16, 2012 - 19:58


comments powered by Disqus