ছয় দশক পেরিয়ে পথের পাঁচালি আজও অমলিন

দেখতে দেখতে ৬০ বছর পূর্ণ হল বাংলা তথা ভারত তথা বিশ্ব চলচ্চিত্রকে নাড়িয়ে দেওয়া সিনেমা 'পথের পাঁচালি'। ৬০ বছর পরেও পথের পাঁচালি নিয়ে ঘোর কাটেনি বিশ্ব চলচ্চিত্রে। আজও দুনিয়ার সেরা সেরা সিনেমার তালিকায় একেবারে প্রথম সারিতে রাখা হয় সত্যজিত্‍ রায় পরিচালিত এই সিনেমাটিকে। কাশ বনের ভিতর দিয়ে অপু-দূর্গার ছুটে যাওয়ার দৃশ্যটা আজও বাঙালির স্মৃতির মণিকোঠা জুড়ে থাকে।

Updated By: Aug 26, 2015, 03:16 PM IST
ছয় দশক পেরিয়ে পথের পাঁচালি আজও অমলিন

ওয়েব ডেস্ক: দেখতে দেখতে ৬০ বছর পূর্ণ হল বাংলা তথা ভারত তথা বিশ্ব চলচ্চিত্রকে নাড়িয়ে দেওয়া সিনেমা 'পথের পাঁচালি'। ৬০ বছর পরেও পথের পাঁচালি নিয়ে ঘোর কাটেনি বিশ্ব চলচ্চিত্রে। আজও দুনিয়ার সেরা সেরা সিনেমার তালিকায় একেবারে প্রথম সারিতে রাখা হয় সত্যজিত্‍ রায় পরিচালিত এই সিনেমাটিকে। কাশ বনের ভিতর দিয়ে অপু-দূর্গার ছুটে যাওয়ার দৃশ্যটা আজও বাঙালির স্মৃতির মণিকোঠা জুড়ে থাকে।

আজ ২৬ অগাস্ট। মাদার টেরিজার জন্মদিন। কেকে পালমারের জন্মদিন। হলিউডের চিরকালীন সেরা শিশু শিল্পী ম্যাকোলা কুলকিনের জন্মদিন। এইসব খ্যাতিনামা মানুষদের স্মরণ করার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব আরও একটি মুহূর্ত সাদরে মনে রাখছেন আজকে। এই দিনেই 'পথের পাঁচালি' সেলুলয়েডে প্রকাশ পায়।

ছয় দশক অতিক্রম করল সত্যজিত্ রায়ের পরিচালিত পথের পাঁচালি। বাঙালির আঙিনা পেরিয়ে বিদেশ বিভুঁইয়ে এখনও সেই কাশফুল প্রান্তর দিয়ে রেলগাড়ির আওয়াজ শোনা যায়। আর ৬০ বছর ধরে আমরাও অপু-দূর্গার মতো রেললাইনে কান পেতে শুনে আসছি পথের পাঁচালির রসায়ন। রসবোধ।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস পথের পাঁচালি সত্যজিত্ রায়ের চলচ্চিত্র কেরিয়ারে একটি মাইলস্টোন। ১৯৫৫ পথের পাঁচালি, তাঁর প্রথম ছবি প্রকাশ পেতেই চলচ্চিত্র জগতে সাড়া পড়ে যায়। সেই বছরই শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় পুরস্কার পান সত্যজিত্ রায়। পরের বছরই কানে বেস্ট হিউম্যান ডকুমেন্ট অ্যাওয়ার্ড সম্মানিত হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমার মধ্যে অবশ্যই রয়েছে সত্যজিত রায়ের চলচ্চিত্র-সিরিজ অপু ত্রয়ী। বার্লিন, কান, নিউইয়র্ক, সান ফ্রান্সিসকোয় বহুবার প্রশংসিত হয়েছে। হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও হবে। তবে বাঙালিদের মনে সত্যজিত রায়ের এই পথের পাঁচালি দৃশ্যায়ন কোনও মহাকাব্যের থেকে কম নয়। প্রত্যন্ত বাংলার গ্রাম্য জীবন অপু-দুর্গার শরীরে এমনভাবে লেপে দিয়েছেন সত্যজিত্ রায় যা আজও আমরা সোঁদা গন্ধ খুঁজে পাই। তারসঙ্গে সর্বজয়া, হরিহর যেন সাহিত্যের জীবন্ত চরিত্র। হয়তো সত্যজিত্ রায়ের এইখানে সার্থকতা।