)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিকৃত করে রবীন্দ্র সঙ্গীত ও নজরুলগীতি গাওয়ায় বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত নায়ক গায়ক হিরো আলমের উপর বেজায় চটেছেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রিয় মানুষেরা। অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন থানায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার আশরাফুল আলম সঈদ ওরফে হিরো আলমকে জিজ্ঞাবাসাদ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগ। জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি আর কখনো অনুমতি ছাড়া পুলিশের পোশাক পরবেন না এবং বিকৃত করে রবীন্দ্র ও নজরুলসংগীত গাইবেন না এই মর্মে মুচলেকা দিয়েছেন হিরো আলম।
ঢাকা গোয়েন্দা পুলিসের অতিরিক্ত কমিশনার সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, হিরো আলমের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ এসেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই বুধবার ডেকে পাঠানো হয় তাঁকে। কেন পুলিসের পোশাক পরে তিনি ভিডিয়ো বানিয়েছেন তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কনস্টেবলের ড্রেস পরে সে ডিআইজির চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি, তিনিই এ ব্যাপারে অবগতই নয়। এদিন শিল্পী সমিতিকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে, পুলিসের পোশাক পরে অভিনয় করতে হলে অনুমতি নিতে হবে। যদিও হিরো আলম শিল্পী সমিতির সদস্য নন।
হিরো আলমকে ডেকে কী জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়? তাঁকে কী নির্দেশ দেয় পুলিস? সে বিষয়ে অভিনেতা গায়ক বলেন, ‘আমাকে কয়েকটা অভিযোগের ভিত্তিতে ডাকা হয়েছিল। আমি রাতের রানি নামের একটা গান করেছিলাম। সে গান নিয়ে আপত্তি ছিল দুইজন মডেলের। এরপর রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে অভিযোগ ছিল। আমাকে হারুন স্যার বলেছেন, সুর ছাড়া রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া যাবে না। তার মানে আমি রবীন্দ্রসংগীত গাইব না এটা তো না। আমাকে ভালো কনটেন্ট বানাতে বলেছেন। আমি চেষ্টা করব ভালো কনটেন্ট বানাতে। গান করলে ভালো গান করব। আমি এবার থেকে ভালো ভিডিয়ো বানাব।’
বহুবার নেট মাধ্যমেই হিরো আলমের গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়েছেন বাংলাদেশের সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ। তবে লাভ কিছুই হয়নি। অগত্যা হিরো আলমকে আটকাতে মানববন্ধনেরও আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ অপসংস্কৃতি প্রতিরোধ সংস্থা (BOPS)। গত ১৪ জুন মঙ্গলবার ঢাকার প্রেস ক্লাবে মানববন্ধনের আয়োজন করেন বাংলাদেশ অপসংস্কৃতি প্রতিরোধ সংস্থার সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি, প্রযোজক, পরিচালক বিপ্লব শরিফ। সাধারণ সম্পাদক, ধারাভাষ্যকার আরিফুল ইসলাম কাজল সহ আরও অনেকে। সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে , 'এতদিন হিরো আলমকে অন্যায়ভাবে প্রশয় দিয়েছেন অনেকেই। তারই ফল হিসাবে একের পর এক বেসুরো ও ভুল গান শুনতে হচ্ছে। এটাতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। শুধুই বেসরো গানই নয়, হিরো আলমের বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। রবীন্দ্রসঙ্গীত বিকৃত করার অভিযোগে আমরা হিরো আলমকে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।'
কিছুদিন আগেই হিরো আলমকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে এই কথা ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও সেই গুজব নস্যাৎ করে দিয়েছেন তিনি নিজেই।