জবাবি চিঠির পর- কমিশন (১): রাজ্য (১), মনে করছে শাসক দল
জবাবি চিঠিতে কমিশনের সঙ্গে মুখ্যসচিবের সরাসরি সংঘাতে যাওয়াকে জয় হিসেবেই দেখছেন তৃণমূল নেতারা। তাঁদের মতে, কমিশন-সরকার যুদ্ধে রেজাল্ট এখন এক এক। প্রথম রাউন্ডে তারা হেরেছেন। কারণ কয়েকজন অফিসারকে সরাতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মানবেন না বলে হুমকি দিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে হয়েছিল দলনেত্রীকে।
জবাবি চিঠিতে কমিশনের সঙ্গে মুখ্যসচিবের সরাসরি সংঘাতে যাওয়াকে জয় হিসেবেই দেখছেন তৃণমূল নেতারা। তাঁদের মতে, কমিশন-সরকার যুদ্ধে রেজাল্ট এখন এক এক। প্রথম রাউন্ডে তারা হেরেছেন। কারণ কয়েকজন অফিসারকে সরাতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মানবেন না বলে হুমকি দিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে হয়েছিল দলনেত্রীকে।
পাঁচই এপ্রিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ভি এস সম্পতের নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে আসে। পরের দিন দিল্লি ফেরার আগেই বেশ কিছু অফিসারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পায় কমিশন। খোঁজখবরও নেয়। তারপর সাতই এপ্রিল উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলাশাসক, পশ্চিম মেদিনীপুর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং বর্ধমান-বীরভূম-মালদা-মুর্শিদাবাদ এবং ঝাড়গ্রামের পুলিস সুপারকে সরানোর নির্দেশ দেয় কমিশন। তারপরেই রণংদেহী মুখ্যমন্ত্রী।
কমিশনও কড়া মনোভাব নেয়। বুঝিয়ে দেয়, সরকার সিদ্ধান্ত কার্যকর না করলে এমনকী ভোটপর্ব স্থগিতও করে দেওয়া হতে পারে। চাপে পরে অবশ্য নতি স্বীকার করতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। কিন্তু ভাঙলেও মচকাবেন না তিনি।
আটই এপ্রিল রাতে দুর্গাপুরে মুখ্যমন্ত্রী যা বললেন, সেটাই পরের দিন সকালে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিলেন মুখ্যসচিব। অপসারিত অফিসাররা প্রেস্টিজ পোস্টিং-ও পেলেন। ঠিক যে কথাটা আগের রাতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
অফিসারদের অপসারণে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে মুখ্যসচিব লেখেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে ভোট প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত। হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি কমিশনও। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতার ভিডিও খতিয়ে দেখে। আর তারপর পঁচিশে এপ্রিল নবান্নে পৌছয় মুখ্যসচিবের জবাব তলব করে কমিশনের সচিব আর কে শ্রীবাস্তবের চিঠি। সেই জবাবই দিলেন মুখ্যসচিব। কিন্তু নয়ই এপ্রিল সকালে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তির ভাষা আরও কড়া হয় সন্ধ্যায়।
তাতে স্পষ্ট বলা হয়, ভোটের পরেই নিজের নিজের পদে ফেরানো হবে অপসারিত সব অফিসারকেই। এজন্য নতুন কোনও নির্দেশিকা জারির দরকার নেই। সংশোধিত সেই বিজ্ঞপ্তি সরকার নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। যেমন স্পষ্ট নয়, কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ও সরকার কেন কমিশনের সঙ্গে সংঘাতের রাস্তায় হাঁটছে, অতীতে বহুবার যিনি কমিশনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।