বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যপালের 'হাত-পা বাঁধতে' নয়া বিধি আনল রাজ্য সরকার

নতুন বিধিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্ত্বশাসনের অধিকার খর্ব হবে কি না , সেই প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।

Reported By: শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায় | Edited By: সুদেষ্ণা পাল | Updated By: Dec 10, 2019, 08:08 PM IST
বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যপালের 'হাত-পা বাঁধতে' নয়া বিধি আনল রাজ্য সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদন : লাগাতার বিতর্কের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এবার আচার্য তথা রাজ্যপালের ক্ষমতা খর্ব করতে বিধি প্রণয়নের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। নতুন রুল এনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে কার্যত শিক্ষা দফতরের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। নতুন রুলের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা।

বর্ধমান, যাদবপুর (Jadavpur University) ও সবশেষে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে (Calcutta University)সেনেট মিটিং ও পরিচালনা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে সাম্প্রতিক কালে রাজ্যের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankhar)। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পরিচালনা সংক্রান্ত আইনে নতুন রুল (Rule) তৈরি করল রাজ্য সরকার। বিধানসভায় পেশের পর নতুন বিধি কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়ে গিয়েছে। উপাচার্যের কাজের অধিকার ও কাজের পরিবেশ সংক্রান্ত নতুন এই বিধি অনুযায়ী-

১) বিশ্ববিদ্যালয় আর নিজে কোনও মিটিং ডাকতে পারবে না। রাজ্যের অনুমতি নিতে হবে।

২) রাজ্যপাল নয়, এখন থেকে শিক্ষা দফতরকে জানিয়ে উপাচার্যকে সেনেটের মিটিং ডাকতে হবে।

৩) সাম্মানিক ডিলিট প্রাপকদের নাম বিশ্ববিদ্যালয় পাঠাবে শিক্ষা দফতরে।

৪) রাজ্যপাল নয়, প্রাপকদের নাম চূড়ান্ত করবে শিক্ষা দফতরই।

৫) রাজ্যপাল বিশ্ববিদ্যালয়কে কিছু জানাতে চাইলে বা ব্যবস্থা নিতে চাইলে সরাসরি নয়, শিক্ষা দফতরের মাধ্যমে তা জানাতে হবে।

৬) বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালন সমিতিতে রাজ্যপাল নিজের পছন্দের লোককে বসাতে পারবেন না, সরকার যে ৩ জনকে বেছে দেবে তাদের মধ্যে থেকেই  মনোনীত করতে হবে।

৭) উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার ৩ জনের নাম যে ক্রম অনুসারে পাঠাবে, রাজ্যপালকে সেই ক্রম মেনেই নিয়োগ করতে হবে।

৮) রাজ্যপাল নিজের পছন্দ অনুযায়ী তালিকার দুই বা তিন নম্বরকে নিয়োগ করতে পারবেন না।

৯) কোনও উপাচার্যকে পদ থেকে সরানোর ক্ষেত্রে কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার।

১০) রাজ্যপাল তার সঙ্গে সহমত না হলে সরকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে। পুনর্বিবেচনার পর সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

আরও পড়ুন, "কোন যুক্তিতে SC-ST বিল আটকালেন রাজ্যপাল, বোধগম্য হল না", পাল্টা তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

আরও পড়ুন, রাজ্য সরকার গরুর স্পিডে চলছে, আমি রকেটের স্পিডে কাজ করছি : রাজ্যপাল

প্রসঙ্গত, ১৯৭১-এ গজেন্দ্র গদকর  কমিটি এবং ১৯৯৬ পি সি আলেকজান্ডার  কমিটির সুপারিশ ছিল, রাজ্য সরকারের ভূমিকা ন্যূনতম করতে আচার্যের মাধ্যমেই যত বেশি সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে হবে। কেন্দ্রের মাধ্যমে সেই সুপারিশ এখন সব রাজ্য সরকারের সামনেই রয়েছে। তারপরও এই নতুন বিধিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্ত্বশাসনের অধিকার খর্ব হবে কি না , সেই প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।