বিধানসভায় হাতাহাতি! শুভেন্দুর দিকে তেড়ে গেলেন কংগ্রেস বিধায়ক, সামাল দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

 কংগ্রেসের বেঞ্চের দিকে উদ্দেশ করে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, "পরের বার আর জিততে পারবেন না। সাফ হয়ে যাবেন। মুর্শিদাবাদ ফাঁকা করে দেব।" এরপরই ঝামেলা আরও চরমে ওঠে।

Updated By: Sep 6, 2019, 07:38 PM IST
বিধানসভায় হাতাহাতি! শুভেন্দুর দিকে তেড়ে গেলেন কংগ্রেস বিধায়ক, সামাল দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন : বিধানসভায় হাতাহাতি। কাটমানি নিয়ে চাকরিতে নিয়োগ করা হচ্ছে। বিধায়ক প্রতিমা রজকের প্রশ্নে তুলকালাম বাধল বিধানসভায়। পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিকে তেড়ে গেলেন কংগ্রেস বিধায়ক কমলেশ চট্টোপাধ্যায়। ধুন্ধুমার বিধানসভায় পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামতে হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিধানসভার ইতিহাসে প্রথমবার ওয়েলে নেমে হাতাহাতি রুখলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন অধিবেশন চলাকালীন, উত্তরবঙ্গ পরিবহন সংস্থায় নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। টাকার বিনিময়ে এনবিএসটিসি-তে স্থায়ী সরকারি চাকরি মিলছে কিনা? প্রশ্ন তোলেন প্রতিমা রজক। বিধানসভায় দাঁড়িয়েই অভিযোগ করেন, টাকা নিয়ে চাকরিতে নিয়োগ চলছে। মিঠুন বলে একজন বিশাল অঙ্কের কাটমানির বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দিচ্ছে বলে সরব হন তিনি। প্রতিমা রজকের এই মন্তব্যকে ঘিরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভার অন্দরমহল। এই মন্তব্যের জন্য প্রতিমা রজককে সতর্ক করেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারকে অবমাননা করার অধিকার নেই বলে সতর্ক করা হয় প্রতিমা রজককে।

কিন্তু, তাতে অশান্তি কমেনি। প্রতিমা রজকের মন্তব্যের পরই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারী উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, "ওনাকে প্রমাণ করতে হবে। নয়তো বিধানসভার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।" এখানেই শেষ নয়। এরপরই বিধানসভায় কংগ্রেসের বেঞ্চের দিকে উদ্দেশ করে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, "পরের বার আর জিততে পারবেন না। সাফ হয়ে যাবেন। মুর্শিদাবাদ ফাঁকা করে দেব।" বিধানসভায় পরিবহন মন্ত্রীর এই হুঙ্কারের পরই ঝামেলা আরও চরমে ওঠে।

ওয়েলে নেমে পড়েন কংগ্রেস বিধায়ক কমলেশ চট্টোপাধ্য়ায়। শুভেন্দু অধিকারীর দিকে তেড়ে আসেন ভরতপুরের কংগ্রেস বিধায়ক। সেইসময় তাঁর সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে যান সুতির কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এরপরই
তৃণমূল বিধায়ক অমল আচার্যের সঙ্গে হাতাহাতি বেঁধে যায় কংগ্রেস বিধায়ক কমলেশের। ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তখন বিধানসভার অন্দরে। এই পরিস্থিতিতে ওয়েলে নেমে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় নিজে। ওয়েলে নেমে পরিস্থিতি সামাল দেন তিনি। বিধানসভার ইতিহাসে এই প্রথমবার ঝামেলা সামলাতে ওয়েলে নামতে হল মুখ্যমন্ত্রীকে। দলীয় বিধায়কদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গন্ডগোল শান্ত হওয়ার পর কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন, সন্ত্রাস দমনে নয়া উদ্যোগ, স্বতন্ত্র ডিরেক্টরেট হিসেবে কাজ করবে এসটিএফ

অন্যদিকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদের সতর্ক করেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। কড়া বার্তা দেন কংগ্রেস ও সিপিআইএম-এর উদ্দেশে। অধ্যক্ষ বলেন,"বিধানসভার অন্দরে এই অবস্থা কোনওভাবেই কাম্য নয়। আমি আব্দুল মান্নান ও সুজনবাবুকে বলব, কোনও বিধায়ক এরকম আরেক জনের দিকে মারতে উঠে আসছে এটা উচিত নয়, আপনারা দেখুন।" পাশাপাশি, মন্ত্রীদেরও বিরোধী বিধায়কদের প্রশ্নে উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সংযত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। প্রতিমা রজককে বিধানসভায় ক্ষমা চাইতে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেটি বিধানসভার রেকর্ডে রাখা হবে না বলে জানান অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।