দলে অপরিহার্য নয়, দু'নৌকায় পা না দিয়ে বেরিয়ে যাক সব্যসাচী, বললেন ফিরহাদ হাকিম

 আইন বিরুদ্ধ কাজ বুঝে সম্ভবত মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থার রাস্তাতেই তৃণমূল। পুরসভার কাজ সুষ্ঠুভাবে চালাতে নিজেদের মধ্যে কথা বলা হবে বলে জানিয়েছেন তাপস চট্টোপাধ্যায়।

Updated By: Jul 8, 2019, 04:10 PM IST
দলে অপরিহার্য নয়, দু'নৌকায় পা না দিয়ে বেরিয়ে যাক সব্যসাচী, বললেন ফিরহাদ হাকিম

নিজস্ব প্রতিবেদন:   সব্যসাচী দত্তকে নিয়ে তৃণমূলের অস্বস্তি চরমে। দলের আপত্তি আমল না দিয়েই মুকুল রায়ের সঙ্গে ফের বৈঠকে সব্যসাচী। বিধাননগরের মেয়রের ভবিষ্যত্ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিতর্কের পরও নিজের অবস্থানেই বিধাননগরের মেয়র। ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়কে আপাতত দায়িত্ব সামলানোর ভার দেওয়া হয়েছে। আইন বিরুদ্ধ কাজ বুঝে সম্ভবত মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থার রাস্তাতেই তৃণমূল। পুরসভার কাজ সুষ্ঠুভাবে চালাতে নিজেদের মধ্যে কথা বলা হবে বলে জানিয়েছেন তাপস চট্টোপাধ্যায়।

 

এদিন নিজের দফতরেই উপস্থিত ছিলেন তাপস চট্টোপাধ্যায়। দলীয় নেতা ও কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। মেয়রের দায়িত্ব পেতে চলেছেন, সেই হিসাবে বৈঠক করছেন নাকি ডেপুটি মেয়র হিসাবে কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, এই প্রশ্ন তাঁকে করা হয়। জি ২৪ ঘণ্টাকে তিনি সরাসরি জানান, “পুরসভায় এভাবে  মিটিং ডাকা যায় না। তাই মিটিং ডাকছি না। ডেপুটি মেয়র হিসাবে আমার অধিকার আছে। কথা আমি বলতেই পারি। কাউন্সিলরদের সঙ্গে কথা বলা আমার দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব আমি পালন করব।” তাঁকে আরও প্রশ্ন করা হয়, ডেপুটি মেয়র হিসাবে আদৌ কি তিনি কাউন্সিলরদের কোনও নির্দেশ দিতে পারবেন? তিনি বলেন, “আমি নিজের দফতর নিয়ে নির্দেশ দিতে পারব। মেয়র ইন কাউন্সিল তাঁর নিজের দফতর নিয়ে ভাববেন।” তিনি আরও বলেন, “কে থাকবেন, কে থাকবেন না, দল সিদ্ধান্ত নেবে।  এভাবে উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।”

কথা বলা প্রসঙ্গেই এদিন সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তাপস চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “তিনি বাইরে গেলেই সৌজন্যে খাতিরেও দায়িত্ব ডেপুটি মেয়রকে দিয়ে যান না। এটা তাঁর কালচারের মধ্যেই নেই। ওঁর সৌজান্য শুধু মুকুল রায়ের জন্যই। অন্য আর কারোর জন্যই ওঁর  সৌজান্য নেই।”

সব্যসাচীর বিদায় সময়ের অপেক্ষা, দায়িত্বে আপাতত ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়

সব্যসাচী দত্তকে নিয়ে ফের সরব ফিরহাদ হাকিম। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন,  “দল কোনও বিশৃঙ্খলা মানবে না। অনেকবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সব্যসাচী যা করেছে, দলের পক্ষে অস্বস্তিকর। দলে থেকে এসব সহ্য করা যায় না।”তিনি আরও বলেন, “সব্যসাচী দলের পক্ষে অপরিহার্য নয়। দলের যে বিপদে ফেলছে তার সঙ্গে বারবার কথা নয়।”  সব্যসাচী দত্তকে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “ যাওয়ার হলে চলে যাও। কীসের জন্য অপেক্ষা করছ? দু’নৌকোয় পা রাখলে তো ডুবে যাবে।”

সব্যসাচী বিতর্কের পর টানটান উত্তেজনা বিধাননগর পুরসভায়। সব্যসাচীর  বিরুদ্ধে কি আজই অনাস্থার নোটিশ ? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ।