ছুটি চেয়ে না পেয়ে চিরতরে মৃত্যুর দেশে 'ছুটি' নিলেন কলকাতা পুলিসের অফিসার

ছুটি চেয়েও মেলেনি। কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যু হল এক পুলিস অফিসারের। দীর্ঘদিন ধরেই ছুটি নিয়ে সমস্যার কথা বলে আসছেন লালবাজারের পুলিস কর্মীদের একটা বড় অংশ। রবিবার রাতে পুলিস অফিসার বাবন তিওয়ারির মৃত্যুর পর তাই ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে পুলিস কর্মীদের মধ্যে। ঘটনার জেরে অস্বস্তিতে পড়েছে সরকার।

Updated By: Jul 21, 2014, 07:36 PM IST
ছুটি চেয়ে না পেয়ে চিরতরে মৃত্যুর দেশে 'ছুটি' নিলেন কলকাতা পুলিসের অফিসার

কলকাতা: ছুটি চেয়েও মেলেনি। কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যু হল এক পুলিস অফিসারের। দীর্ঘদিন ধরেই ছুটি নিয়ে সমস্যার কথা বলে আসছেন লালবাজারের পুলিস কর্মীদের একটা বড় অংশ। রবিবার রাতে পুলিস অফিসার বাবন তিওয়ারির মৃত্যুর পর তাই ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে পুলিস কর্মীদের মধ্যে। ঘটনার জেরে অস্বস্তিতে পড়েছে সরকার।

অন্য দিনের মতো রবিবারও কাজে যোগ দিয়েছিলেন লালবাজার ওয়ারলেস বিভাগের সাব ইন্সপেক্টর বাবন তিওয়ারি। কলেজ স্কোয়ারের মেইন গেটের সামনে ডিউটি ছিল তাঁর। আচমকাই রাত নটা নাগাদ অসুস্থ হয়ে পড়েন উনষাট বছরের বাবন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিত্সকেরা।

বাবন তিওয়ারির পরিবারের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। দফতরে ছুটির আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু ছুটি পাচ্ছিলেন না।

ছুটি নিয়ে পুলিসের নিচুতলার ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। কাজের চাপ যে তাদের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে তা উঠে এসেছে বিভিন্ন সমীক্ষাতেই।  

ইন্ডিয়ান জার্নাল অব সাইকোলজিকাল মেডিসিনে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, রাস্তায় ডিউটি করা কলকাতা পুলিসের  কর্মীদের আশি শতাংশই অতিরিক্ত চাপের শিকার।

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী,
২০১১ সালে রাজ্যে ১৯৩ জন কর্তব্যরত পুলিস কর্মীর মৃত্যু হয়।
২০১২ সালে মৃত্যু হয় ১৩৩ জনের।  
গতবছর সেই সংখ্যাটা ছিল ১৪১।

এই তিন বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মঘাতী হয়েছেন ৫১ জন পুলিস কর্মী। যার অধিকাংশই অতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক অবসাদে।

কাজের অতিরিক্ত চাপের কথাটাই এবার ফের উঠে এল সাব ইন্সপেক্টর বাবন তিওয়ারির মৃত্যুতে।

যদিও বাবন তিওয়ারি ছুটি চেয়ে পাননি এই অভিযোগ মানতে নারাজ লালবাজারের কর্তারা। তাদের দাবি, বাবনের কোনও ছুটির আবেদন বকেয়া নেই। তিনি যে অসুস্থ ছিলেন এমন তথ্যও তিনি দফতরে জানাননি।
লালবাজারের এই সাফাই মানতে নারাজ নীচু তলার পুলিসকর্মীরা।