)
সুতপা সেন: বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন তীব্র হচ্ছে আরও। রাজ্যজুড়ে যখন ধর্মঘট পালন করলেন আন্দোলনকারীরা, তখনও অবস্থানে অনড় মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, 'আপনারা যদি বলেন, কাজ করবেন রাজ্য সরকারের, আর কেন্দ্র সরকারের হারে ডিএ দিতে হবে, এটা তো হয় না।
রাজ্যেপালের আবেদনেও পিছু হটতে রাজি হননি DA আন্দোলনকারীরা। ধর্মতলায় শহিদ মিনারের নিচে অবস্থান ও অনশন চলছে এখনও। শুধু তাই নয়, বকেয়া DA--র দাবিতে রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটও পালন করেছেন যৌথমঞ্চের সদস্যরা। কবে? শুক্রবার, ১০ মার্চ।
এদিকে নবান্ন থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, ধর্মঘটে দিন অফিসে না এলে বেতন ও ছুটি কাটা হবে। এমনকী, চাকরিতে ব্রেক হবে সার্ভিস রেকর্ডও! তাহলে? যাঁরা DA-র দাবিতে ধর্মঘটে শামিল হয়েছিলেন, সেইসব সরকারি কর্মচারীদের ইতিমধ্যেই শোকজ নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।
এদিন আলিপুর জাজেস কোর্টে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক কাঠামো আলাদা। কেন্দ্রীয় সরকারের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, রাজ্য সরকারের নেই। রাজ্য সরকারের টাকা ছাপানোর ক্ষমতাও নেই। আগে আমরা অনেক ট্যাক্স সংগ্রহ করতে পারতাম। এখন তো একটাই ট্যাক্স জিএসটি। এই ট্যাক্সটা তুলে নিয়ে যাই কেন্দ্র। আমাদের ক্ষতি হচ্ছে'। তাঁর আরও বক্তব্য, 'আমরা ১ তারিখে মাইনে দিই। পেনশনটাও দিই। যে সরকার এত মানবিক, সেই সরকারকে নিয়ে ভাববেন না'।
এদিকে এসএসসি গ্রুপ ডি-র পর গ্রুপ সি-তে ৮৪২ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকী, সেই তালিকায় নাম রয়েছে খোদ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ যুব তৃণমূল নেতার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'জেনেশুনে কোনও অন্যায় করিনি। আমরা ক্ষমতায় আসার পর, একটা সিপিএম ক্য়াডারের চাকরি খাইনি'। সঙ্গে আর্জি, 'যাঁরা অন্যায় করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। কিন্তু ছেলেমেয়ে যেন অবিচারের শিকার না হয়, তাঁদের চাকরিটা আইন অনুযায়ী ফিরিয়ে দিন। যদি কোনও ভুল করে থাকে, তাঁকে সুযোগ দেওয়া হোক। দরকার হলে আবার পরীক্ষা দিক'।