রাজ্যে ফের মৃত্যু সোয়াইন ফ্লুয়ে, প্রশ্নের মুখে স্বাস্থ্য দফতর

রাজ্যে ফের সোয়াইন ফ্লুয়ে মৃত্যু। এবার দক্ষিণ কলকাতার একটি নার্সিংহোমে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচ।  এদিকে সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত অরুণ দত্তগুপ্তের মৃত্যুতে বিতর্কে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের ভূমিকা। প্রশ্নের মুখে স্বাস্থ্য দফতরও।

Updated By: Feb 23, 2015, 09:40 PM IST
রাজ্যে ফের মৃত্যু সোয়াইন ফ্লুয়ে, প্রশ্নের মুখে স্বাস্থ্য দফতর

কলকাতা: রাজ্যে ফের সোয়াইন ফ্লুয়ে মৃত্যু। এবার দক্ষিণ কলকাতার একটি নার্সিংহোমে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচ।  এদিকে সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত অরুণ দত্তগুপ্তের মৃত্যুতে বিতর্কে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের ভূমিকা। প্রশ্নের মুখে স্বাস্থ্য দফতরও।

সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত বৃহস্পতিবার মিন্টো পার্কের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি হন আসানসোলের বাসিন্দা অরুণ দত্তগুপ্ত। শুক্রবার সোয়াব টেস্টের জন্য নমুনা পাঠানো হয় বেলেঘাটার নাইসেডে। ওইদিনই সোয়াব টেস্টের রিপোর্টে দেহে সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের প্রমান মেলে। অভিযোগ, এরপরই রোগীকে বেলেঘাটা আইডিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। শনিবার, বিকেলে নিকট আত্মীয়দের না জানিয়েই অরুণবাবুকে রেফারের জন্য ভেন্টিলেশন থেকে বের করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু ভেন্টিলেশন থেকে বের করার পর নার্সিংহোম চত্বরে অ্যাম্বুলেন্সেই মৃত্যু হয় তাঁর।

যদিও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিন্টোপার্কের ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ।

অরুণ দত্তগুপ্তের মৃত্যুতে তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধেও। শনিবার বৃদ্ধের মৃত্যু হলেও, এই খবর রবিবার গোপন রেখেছিল স্বাস্থ্য দফতর। আজ বিধানসভায় বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। যদিও স্বাস্থ্য কর্তাদের সাফাই, নার্সিংহোম থেকে তথ্য পেতে দেরি হয়েছিল।

নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের পাল্টা দাবি, তারা সময় মত তথ্য দিয়েছেন রাজ্যকে। এই চাপান উতোরের ফলে বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোমের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের সমন্বয়ের অভাবের বিষয়টা সামনে চলে এল।

সোয়াইন ফ্লুয়ে অরুণ দত্তগুপ্তের মৃত্যুতে প্রশ্নের মুখে রাজ্যের সোয়াইন ফ্লু মোকাবিলার পরিকাঠামোও। সোয়াব পরীক্ষার রিপোর্ট সময়ে না আসায়, অরুণ দত্তগুপ্তকে সঠিক চিকিত্সা দেওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান নাইসেডই এরাজ্যে একমাত্র সোয়াইন ফ্লু পরীক্ষা কেন্দ্র। পরীক্ষার জন্য রাজ্যের নিজস্ব কোনও ব্যবস্থা নেই। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় নাইসেডেও  চাপ বাড়ছে। ফলে রিপোর্ট আসতে সময় লাগছে। ২৪ ঘণ্টার জন্য সন্দীপ সরকারের এবং দেবব্রত ঘোষের রিপোর্ট,কলকাতা।