)
মৌমিতা চক্রবর্তী: 'নো ভোট টু বিজেপি'-একুশের বিধানসভা নির্বাচনে এই স্লোগান তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায়-সহ মাঠে-ময়দানে প্রচার করেছে বামেরা। কিন্তু এর ফসল কতটা ঘরে তুলেতে পারল লাল ব্রিগেড? উত্তর, ভোটের ফলাফলে নজিরবিহীন ভাবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা থেকে মুছে গিয়েছে বামেরা। ফলে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া সিপিএম-এর রাজ্য সম্মেলনে (CPIM State Conference 2022) বামেদের সেই স্লোগান নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেল।
নেতৃত্বের তরফে কার্যত স্বীকার করে নেওয়া হল যে, 'নো ভোট টু বিজেপি' স্লোগনের সুফল তুলতে ব্য়র্থ বামেরা। উল্টে এর ফায়দা তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। বিজেপিবিরোধী (BJP) সমস্ত ভোট ঝুলিতে টানতে সক্ষম হয়েছে রাজ্যের শাসকদল। অর্থাৎ বিজেপি-বিরোধী (BJP) মুখ হিসাবে মানুষ যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই (CM Mamata Banerjee) মেনে নিয়েছে, সেটাও কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন সিপিএম (CPIM) নেতারা। প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে শুরু হওয়া এই রাজ্য সম্মোলনে (CPIM State Conference 2022) যে রিপোর্ট পেশ হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে "এ রাজ্যে 'নো ভোট টু বিজেপি' স্লোগান তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) পক্ষে গিয়েছে। রাজ্যের সাধারণ মানুষ বিজেপির জয়লাভের আগ্রাসী পরিকল্পনাকে বানচাল করেছে। কিন্তু প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে বিজেপি তার অবস্থান ধরে রেখেছে। স্বাধীনোত্তর পশ্চিমবাংলার বিধানসভা এই প্রথম কমিউনিস্ট এবং বাম প্রতিনিধিত্বহীন হয়েছে। রাজ্যে এইরকম বিপর্যয়কর পরিস্থিতি মুখোমুখি মুখোমুখি আমাদের পার্টি কোনওদিনই হয়নি।"
তিন কৃষি আইনের বিরোধিতায় দেশব্যাপী কৃষক আন্দোলন হয়েছে। সামনে থেকে সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রবীণ বাম নেতা তথা অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভার নেতা হান্নান মোল্লা (Hannan Mollah)। সিপিএম (CPIM)-এর ব্যাখ্যা, পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্য রাজ্যের ভোটেও সেই আন্দোলনের ফসলও ঘরে তুলতে ব্যর্থ বামেরা। কৃষক আন্দোলনের ফলে মানুষের মনে বিজেপিবিরোধী যে মনোভাব তৈরি হয়েছিল, তা নিজেদের ভোটবাক্সে টানতে পারেনি লাল ব্রিগেড। রাজ্য সম্মেলনে (CPIM State Conference 2022) পেশ হওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, "পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে দেশব্যাপী বিজেপি বিরোধী যে মনোভাব গড়ে ওঠে, বিশেষ করে কৃষক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তার সুফল পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যে বিজেপি বিরোধী জনগণের বিপুল সংখ্য়াগরিষ্ঠ অংশের ভোট তৃণমূল পেয়েছে।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্য সম্মেলনে পেশ করা রিপোর্টে কার্যত সিপিএম নেতারা মেনে নিয়েছেন কোথাও মানুষের মন বুঝতে এবং মানুষকে তাঁদের কথা বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন নেতারা। একই সঙ্গে বঙ্গ ব্রিগেডের দূরদর্শিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।