close

News WrapGet Handpicked Stories from our editors directly to your mailbox

'আসব, দেখব, জয় করব,' ভোটের পর বদলে গিয়েছে বিজেপি নেতাদের হাবভাব

বঙ্গ বিজেপির অন্দরে, পর্ব ২

Anjan Roy | Updated: Jul 11, 2019, 10:15 PM IST
'আসব, দেখব, জয় করব,' ভোটের পর বদলে গিয়েছে বিজেপি নেতাদের হাবভাব

অঞ্জন রায়

লোকসভা ভোটের পর থেকে দিশেহারা বিজেপির। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর আগেই বদলে গিয়েছে রাজ্য নেতাদের হাবভাব। ভাবখানা এমন যেন 'আসব, দেখব, জয় করব'। আন্দোলন, কর্মসূচি বা লড়াইয়ের দরকার নেই। ক্ষমতা আসছে বুঝে মাথাচাড়া দিয়েছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও।           
 
৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসন জয়। ২২টি আসনে দ্বিতীয় স্থান। স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গের মাটিতেই এটাই সেরা ফল। সম্ভবত বিজেপিও এতটা আশা করেনি। এবার রাজ্য দখলের হাতছানি গেরুয়া শিবিরের। এতবড় জয়ের পর শাসক দল বিভ্রান্ত, সেই সুযোগে সংগঠন বাড়ানোর মসৃণ পথ বিজেপির সামনে। ঠিক সেই সময়ে কার্যত কর্মসূচিহীন রাজ্য বিজেপি। কেন এমন হল, তার কোনও উত্তর পাচ্ছেন না দলের কর্মীরা। তবে একটা বিষয় নজর এড়াচ্ছে না তাঁদের। লোকসভা ভোটের পর বদলে গিয়েছে নেতাদের হাবভাব। বিজেপি নেতার মনে করছেন, শাসনে তাঁরা এসেই গিয়েছেন। নবান্ন দখল সময়ের অপেক্ষা।

জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়ে হয়ে উঠেছে শাসক দল। জনসংযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতারা। শুধু তাই নয়, সময়ের দাবি মেনে প্রশান্ত কিশোরের মতো রণনীতিকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। সূত্রের খবর, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মুখ্যমন্ত্রীও প্রশান্তের নির্দেশে কথা বলছেন, চলছেন এবং কর্মসূচি নিচ্ছেন। এতেও অবশ্য হেলদোল নেই বিজেপির রাজ্য নেতাদের। প্রশান্তকে নিয়ে কটাক্ষ করে ভাবছেন বাজিমাত করে দেবেন। কেউ বলছেন, ভাড়া করা সৈনিক। কারও কটাক্ষ, মমতার জনপ্রিয়তা তলানিতে। নিজের উপরে ভরসা নেই। কিন্তু একটা জিনিস তাঁরা ভুলে যাচ্ছেন। জনপ্রিয়তার মাপকাটিতে এই মুহূর্তে যাঁর সমান ভূভারতে কেউ নেই, সেই নরেন্দ্র মোদীও একবার নয়, দু-দুবার প্রশান্তের হাত ধরেছিলেন। ২০১২ সালে গুজরাট ও ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে মোদীর ভোটগুরু ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। মোদীর বেলায় প্রশান্ত ভোট রাজনীতির অংশ হলে মমতার ক্ষেত্রে কেন ভাড়ার সৈন্য? জবাব নেই বিজেপি নেতাদের কাছে।           

রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ মনে করছে, লোকসভা ভোটে বিজেপির নীতি আদর্শের জয় হয়নি। মমতাকে সরানোর জন্য বিকল্প খুঁজছিলেন মানুষ। এরইসঙ্গে রাজ্যজুড়ে প্রবল মেরুকরণের হাওয়া। হিন্দুবহুল এলাকাগুলিতে   বিজেপি ধারেকাছে ঘেঁষতে পারেনি বিরোধিরা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তা। তাঁকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চেয়ে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরাও ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২১ সালের লড়াই হবে আলাদা। তখন নরেন্দ্র মোদীর মুখ থাকবে না বিজেপির কাছে।

বিজেপি নেতা-কর্মীদের একাংশ মনে করছে, বিজেপি নেতাদের বদলে যাওয়া চালচলন ভালোভাবে নিচ্ছেন না মানুষ। আন্দোলনবিমুখ অবস্থানও বিজেপির সম্ভাবনায় জল ঢালছে। অত্যাধিক আত্মবিশ্বাসের জেরে তীরে এসে তরী ডুবতে পারে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রুখতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ চাইছেন নিচুতলার কর্মীরা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই কি মিশন ২০২১-এর পথে কাল হয়ে দাঁড়াবে?   

আরও পড়ুন- ভোটের পর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দিশেহারা রাজ্য বিজেপি, শিকেয় কর্মসূচি