লোকসভা ভোটের আর বেশি দেরী নেই। বাংলায় এবার কতগুলি আসন পাবে বিজেপি?

জ্যোর্তিময় কর্মকার: বাইশেই চব্বিশের সমীক্ষা! এই মুহুর্তে যদি লোকসভা ভোট হয়, তাহলে বাংলার কতগুলি আসন পাবে তৃণমূল? গোপনে সমীক্ষা চালাল জোড়াফুল শিবির। সেই সমীক্ষার এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট জি ২৪ ঘণ্টার হাতে।
রাজ্য়ে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আরও বিপাকে তৃণমূল। ইডি-র হাতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির পর এবার সিবিআই-র জালে এসএসসি কমিটির প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহা। গ্রেফতার করা হল কমিটির সদস্য অশোক সাহাকেও। এদিন সকালে প্রথমে দু'জনকেই নিজাম প্যালেসে ডেকে পাঠান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। সাত ঘণ্টা ধরে চলে ম্যারাথান জেরা। শেষপর্যন্ত রাতে এসপি সিনহা ও অশোক সাহাকে গ্রেফতার করা হয়। কেন? তাঁদের বক্তব্যে বিস্তর অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে।
এদিকে গরু পাচারকাণ্ডে ফের সিবিআইয়ের তলব এড়িয়ে গেলে অনুব্রত মণ্ডলও। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সিবিআইয়ের মুখোমুখি হতে পারবেন না তিনি, এদিন নিজাম প্য়ালেসে গিয়ে জানিয়ে আসেন অনুব্রত মণ্ডল। দুর্নীতি ইস্যুতে যখন ব্যাকফুটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল, ঠিক তখনই ২৪-র লোকসভা ভোট ফল নিয়ে সমীক্ষা চালাল তৃণমূল। তাও আবার অত্য়ন্ত গোপনে! বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সমীক্ষায় কী জানা গেল? সূত্রের খবর, সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, এখনই ২৪-র লোকসভা ভোট হলে, বাংলায় ৪২টির মধ্যে ৩৮টি আসন পাবে তৃণমূল। আর বিজেপি? ৪টি। দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার রানাঘাট ও পুরুলিয়া। এই সমীক্ষাকে রিপোর্টকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। জি ২৪ ঘণ্টাকে তিনি বললেন, 'স্বপ্নের খিচুড়িতে কেউ ১ চামচ, কেউ ২ চামচ মেশাতে মেশাতেই ৩৮ চামচে পৌঁছে দিয়েছে। স্বপ্ন দেখা ভালো। তাতে শরীর ও মন দুই ভালো থাকে। তবে একটা সাধুবাদ জানাচ্ছি, গতবার বলেছিলে ৪২-এ ৪২। ২০১৯ বিজেপি ফিনিস। এবার অন্তত সেই ঔদ্ধত্যটা দেখাননি'। দাবি করলেন, 'আমাদের আসনসংখ্য়া গোনা ২০২৪-র পর শুরু হবে'।
এদিকে কয়েকদিন আগেই আবার 'ডিসেম্বরের পর এই সরকার কার্যত থাকবে না' বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলনেতার 'ভবিষ্যদ্ববাণী', '২০২৪ সালে লোকসভা ও বিধানসভা ভোট একসঙ্গে হবে। দেখতে থাকুন'। কেন এমন কথা বললেন? জল্পনা তুঙ্গে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া, 'এখানে বিরোধী দলনেতা কী বলছেন, কী ধরণের জ্যোতিষ জানি না। ওঁকে বিহারে নিতে যেতে পারত। বিহারটা সামলে দিতে পারতেন। উনি যত কম কথা বলেন, দলের পক্ষে ভালো। ওঁর পক্ষে ভালো' । বিহারে বিজেপির সঙ্গে জোট ভেঙেছেন নীতীশ কুমার। কংগ্রেস ও আরজি-র সমর্থনের ফের মুখ্য়মন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছে তিনি।