লকডাউনে ভারতে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের রক্তে সুগারের মাত্রা প্রায় ২০% বেড়ে গিয়েছে!

এই সমীক্ষা অনুযায়ী, মূলত মানসিক চাপের কারণেই ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। 

Edited By: সুদীপ দে | Updated By: Jun 27, 2020, 05:12 PM IST
লকডাউনে ভারতে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের রক্তে সুগারের মাত্রা প্রায় ২০% বেড়ে গিয়েছে!
—প্রতীকী চিত্র।

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিগত ৫-৬ মাস ধরে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছেন বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক থেকে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ। এ পর্যন্ত সারা বিশ্বের প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের প্রাণ কেড়েছে এই ভাইরাস। মাস তিনেকেরও বেশি সময় ধরে লকডাউনের জেরে ঘরবন্দি বিশ্বের কয়েক লক্ষ মানুষ। করোনার ঠেলায় অন্যান্য রোগ বা রোগীর স্বাস্থ্য পরিষেবা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অবহেলিত বা বিপর্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি একটি সমীক্ষার রিপোর্ট উদ্বেগ বাড়াল ডায়াবেটিসের রোগীদের। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই দীর্ঘ লকডাউন কালে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে সুগারের মাত্রা প্রায় ২০% বেড়ে গিয়েছে!

সম্প্রতি ভারতের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী অ্যাপ ‘BeatO’ ভারতের ৮,২০০ ডায়াবেটিসের রোগীদের নিয়ে সমীক্ষা চালায়। ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সমীক্ষায় জানা যায়, ভরতের ডায়াবেটিসের রোগীদের মধ্যে মার্চ থেকেই রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এই ক’মাসের গড়ে হিসাবে লকডাউনে প্রায় ২০% বেড়ে গিয়েছে রক্তে সুগারের মাত্রা।

‘BeatO’-র এই সমীক্ষা অনুযায়ী, মূলত মানসিক চাপের কারণেই ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্ম ক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা, আর্থিক সমস্যা ইত্যাদির কারণেই বেড়েছে এই মানসিক চাপ যা বাড়িয়ে দিয়েছে রক্তের সুগারের মাত্রাকেও।

আরও পড়ুন: সঠিক ভাবে মাস্ক না ব্যবহার করলে পড়তে পারেন করোনার কবলে, জেনে নিন উপায়

সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, উত্তর, পশ্চিম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। লকডাউনে ত্রিপুরায় ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা প্রায় ৩৮ শতাংশ, নাগাল্যাণ্ডে ৩০ শতাংশ, মণিপুরে ২৮ শতাংশ, উত্তরাখণ্ডে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই তুলনায় অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যগুলিতে ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা ২০ থেকে ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।