শহিদ হেমন্তকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, সাধ্বী প্রজ্ঞার বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ

প্রতিবাদ জানানো আইপিএস অ্যাসোসিয়েশনের তরফে। এর পরই অভিযোগ দায়ের নির্বাচন কমিশনে। তার এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলেও জানা গিয়েছে।

Updated By: Apr 19, 2019, 08:24 PM IST
শহিদ হেমন্তকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, সাধ্বী প্রজ্ঞার বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদন: নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের হল সাধ্বী প্রজ্ঞার বিরুদ্ধে। শুক্রবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে।

সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরকে মধ্যপ্রদেশের ভোপাল লোকসভা আসন থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। প্রার্থী হওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথম মুখ খোলেন প্রজ্ঞা। তাঁকে জঙ্গি তকমা দিতে পুলিসের বিরুদ্ধে অকথ্য অত্যাচার চালানোর অভিযোগ তোলেন।

আরও পড়ুন: আমার অভিশাপেই জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন হেমন্ত কারকারে : সাধ্বী প্রজ্ঞা

শুক্রবার আরও একধাপ এগিয়ে তিনি তাঁর উপর অত্যাচারের দায় চাপিয়ে দেন শহিদ হেমন্ত কারকারের বিরুদ্ধে। দাবি করেন, তত্কালীন মহারাষ্ট্র অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াডের প্রধানকে হেমন্তকে তিনি অভিশাপ দিয়েছিলেন। তার জন্য জঙ্গিদের গুলিতে ঝাঁঝরা হন ওই আইপিএস।

বিজেপি প্রার্থীর এই মন্তব্যের পরই বিতর্ক ছড়ায়। প্রতিবাদ জানানো আইপিএস অ্যাসোসিয়েশনের তরফে। এর পরই অভিযোগ দায়ের নির্বাচন কমিশনে। তার এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলেও জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: আমি হিন্দু, আমার ধর্মকর্মের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না : যোগী আদিত্যনাথ

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণ হয়। সেই বিস্ফোরণেই অভিযুক্ত সাধ্বী প্রজ্ঞা। তিনি এখন জামিনে মুক্ত। তবে তাঁর বিরুদ্ধে মকোকা আইন প্রত্যাহার করে নিয়েছে এনআইএ। সপ্তাহখানেক আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। তার পরই ভোপাল থেকে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।

তাঁর নাম ঘোষণার পর থেকেই বিতর্ক ছড়িয়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত একজনকে বিজেপি কীভাবে প্রার্থী করে? যদিও সন্ত্রাসের অভিযোগ মানতে নারাজ প্রজ্ঞা। তাঁকে জোর করে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

আরও পড়ুন: হিন্দুত্বকে টার্গেট করতেই আমার উপর অত্যাচার চালানো হয়, দাবি সাধ্বী প্রজ্ঞার

তাই গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিসি অত্যাচারের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার দাবি করেছিলেন, জেলে তাঁকে টানা ২৪ দিন মারধর করা হয়। তাঁকে জল ছাড়া আর কিছুই খেতে দেওয়া হয়নি। মারধরের সময় গালিগালাজ করা হত। বেল্ট দিয়ে মারা হত। উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হত। পোশাক খুলে নিয়ে হুমকি দেওয়া হত।

তাঁর দাবি, শুধু মারধর করে ছেড়ে দেওয়া হত না। মারের জেরে তাঁর সারা শরীরে দাগ হয়ে যেত রক্ত বেরোত। তখন নুন জল গরম করে এনে তাতে হাত ডুবিয়ে দেওয়া হত। কিছুক্ষণ পর ফের মারধর করা হত।

আরও পড়ুন: প্রথমবার একমঞ্চে হাজির হয়ে মায়াবতীর জন্য শ্রদ্ধার বার্তার মুলায়মের

এভাবে মারধরের জেরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলেন। এমন অবস্থা হয়েছিল যে তিনি হাসপাতালের বেডে এপাশ-ওপাশও করতে পারতেন না বলে দাবি করেছেন সাধ্বী প্রজ্ঞা।

বৃহস্পতিবারের বিবৃতির পর কোনও বিতর্ক হয়নি। তবে শুক্রবার সাধ্বীর মন্তব্যের পর বিতর্ক চরমে উঠেছে। এই বিতর্কের দায় নিতে নারাজ বিজেপি। তারা বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে যে এটা সাধ্বী প্রজ্ঞার ব্যক্তিগত মত।