চিটফান্ডের টাকা কার মাধ্যমে কোথায় পৌঁছেছে? সিবিআই-এর ম্যারাথন জেরার মুখে মোহতা

সিবিআই সূত্রে খবর, হেফাজতে জেরায় এখনও পর্যন্ত তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন শ্রীকান্ত। তাঁর শারীরিক অবস্থাও ঠিক আছে।

Updated By: Jan 31, 2019, 10:29 AM IST
চিটফান্ডের টাকা কার মাধ্যমে কোথায় পৌঁছেছে? সিবিআই-এর ম্যারাথন জেরার মুখে মোহতা

নিজস্ব প্রতিবেদন: চিটফান্ডের আর্থিক কেলেঙ্কারির শিকড় খুঁজতে রাতভর শ্রীকান্ত মোহতাকে ম্যারাথন জেরা করল সিবিআই। দুই ব্যবসায়ীর বয়ানের সূত্র ধরেই মূলত জেরা করা হয় শ্রীকান্ত মোহতাকে। গৌতম কুণ্ডু ছাড়াও অন্য চিটফান্ড কর্তাদের সঙ্গে শ্রীকান্ত মোহতার কী যোগসূত্র ছিল, তা জানার জন্য দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে এসভিএফ কর্ণধারকে।

সিবিআই সূত্রে খবর, ওই ২ ব্যবসায়ীকে গত বছর অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।  ওই চিটফান্ড কর্তাদের সঙ্গে শ্রীকান্ত মোহতার যোগসাজশ কী? ওই চিটফান্ডগুলির টাকা কী বাবদ? কী উদ্দেশ্যে? কাদের মাধ্যমে? কোথায় গিয়ে শেষমেশ পৌঁছেছে? এসভিএফ কর্ণধারকে দফায় দফায় জেরা করে তার উত্তর খুঁজছে সিবিআই।

রোজভ্যালিকাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতাকে। এসভিএফ কর্তা শ্রীকান্ত মোহতার বিরুদ্ধে রোজভ্যালির ২৪ কোটি টাকার প্রতারণা অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও, সারদা সহ অন্যান্য চিটফান্ড কোম্পানিরও ব্যবসা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তিনি সদর্থক ভূমিকা নেন বলে অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, চিটফান্ড ব্যানিং অ্যাক্ট সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সিবিআই সূত্রে খবর, হেফাজতে জেরায় এখনও পর্যন্ত তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন শ্রীকান্ত। তাঁর শারীরিক অবস্থাও ঠিক আছে।

অন্যদিকে শ্রীকান্ত মোহতার গ্রেফতারির পর তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, গ্রেফতারের দিন কুড়ি আগে থেকেই মোহতাকে পাকড়াও করার প্ল্যান সাজানো হয়েছিল। সকালের মর্নিং ওয়াক থেকে রাতে বাড়ি ফেরা সবটাই থাকত গোয়েন্দাদের রাডারে। SVF কর্ণধারের গতিবিধিও নজরে রাখতে শুরু করেছিল সিবিআই।

এদিকে সেই ঘটনা টের পেতেই পাল্টা ফন্দি আঁটেন ভেঙ্কটেশ কর্ণধার। কোনও জায়গায় বেরোলে রাস্তাতেই একাধিক গাড়ি বদল করতেন শ্রীকান্ত মোহতা। শুধু তাই নয়, গাড়িতে ওড়িশার নম্বর প্লেট লাগিয়েও গোয়েন্দাদের ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন প্রযোজক। কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন, তা যাতে বোঝা না যায়, তারজন্যেই এই ধরণের কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে অনুমান সিবিআইয়ের।

আরও পড়ুন, বিধাননগর স্টেশনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় হাত বাদ গেল যাত্রীর

২৫ জানুয়ারি কসবার এসভিএফ-এর অফিস থেকে শ্রীকান্ত মোহতাকে প্রথমে সিজিও কমপ্লেক্সে তুলে নিয়ে যায় সিবিআই। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। রাতভর জেরার পর ২৬ জানুয়ারি দুপুরে এসভিএফ কর্ণধারকে নিয়ে ভুবনেশ্বর উড়ে যান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তকারী অফিসাররা। রোজভ্যালিকাণ্ডে ধৃত এসভিএফ কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতাকে সেদিন-ই ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় ভুবনেশ্বরের খুরদা রোডের আদালত।