)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের (Lok Sabha Election 2024) আগে কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচন (Karnataka Assembly Election 2023) ছিল বিজেপি (BJP) এবং কংগ্রেস (Congress) দুই দলের কাছেই ‘অ্যাসিড-টেস্ট’। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির কাছে পরীক্ষা ছিল কর্নাটক জয়ের মাধ্যমে লোকসভা ভোটের আগে দাক্ষিণাত্যে ক্ষমতা বিস্তার করা। কংগ্রেসের কাছে লড়াইটা ছিল অস্তিত্ব রক্ষার। শেষ হাসি হাসলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। কর্নাটকে হেরে যাওয়ায় বস্তুত গোটা দক্ষিণ ভারত থেকেই বিদায় নিল নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi)। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর 'ভারত জোড়ো' যাত্রার পর, এই প্রথম দেশের কোনও বড় রাজ্যে ভোট হল। সেই ভোটে জয়ের পর নিচুতলার কর্মীরা যে উজ্জীবিত হবেন, তা বলাই বাহুল্য। আর তাই এমন দাপুটে জয়ের পর সেই রাজ্যের সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানালেন রাহুল।
তাই নির্বাচনে জিতেই রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, "সবার আগে কর্নাটকের সাধারণ মানুষদের ধন্যবাদ জানাই।" এরপরেই তিনি যোগ করেন, "কর্নাটকের এই নির্বাচনে একদিকে ছিল কর্পোরেট পাওয়ার। অন্যদিকে ছিল এই রাজ্যের সাধারণ ও গরিব মানুষ। তবে কর্পোরেট জগতকে হারিয়ে আম জনতার জয় হল।" সেই বক্তব্য শেষ হতেই এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, "এক কথায় এই জয়কে কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন?" রাহুলের ছোট্ট জবাব ছিল, "কর্নাটকে ঘৃণা হেরেছে, ভালোবাসা জিতেছে।'
— ANI (@ANI) May 13, 2023
ম্যাজিক ফিগার পেরোতেই হাত শিবিরে উল্লাস। গোটা কর্নাটক জুড়ে আবিরের উল্লাস। এমনকি কর্নাটক জয়ের জন্য দিল্লি-সহ বাকি রাজ্যের নোতরাও বাড়তি অক্সিজেন পেয়েছেন। এই নির্বাচনের আগে দেশ জুড়ে সাড়া ফেলে দেয় 'ভারত জোড়ো' যাত্রা। দক্ষিণ থেকে উত্তর ভারতে কয়েকমাস ধরে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে পথযাত্রা করেন রাহুল গান্ধী। যাতে যোগ দিয়েছিলেন খেলা থেকে বিনোদুনিয়ার তারকারাও। বিজেপি সরকারের কাছে রীতিমতো মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় রাহুল তথা কংগ্রেসের এই কর্মসূচি। তারই ফল এবার প্রতিফলিত হচ্ছে কর্নাটকে। রাহুলের ভারত জোড়ো যাত্রাই ভোটের সমীকরণে যাবতীয় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে বলে মনে করছে হাত শিবির।
— ANI (@ANI) May 13, 2023
আর কর্নাটক দখল করেই রাহুলের 'ভারত জোড়ো' যাত্রার একটি পুরনো ভিডিয়ো পোস্ট করল দল। যেখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে শোনা যাচ্ছে, “আমি অজেয়, আমি আত্মবিশ্বাসী, আমি অপ্রতিরোধ্য।” এদিকে দক্ষিণ ভারতের পাঁচ রাজ্য— অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং তেলঙ্গানার মধ্যে শুধুমাত্র কর্নাটকে ক্ষমতায় ছিল বিজেপি। আর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে সরকারে রয়েছে বিজেপি সমর্থিত এনআর কংগ্রেস। তাই কর্নাটক ছিল নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ভোটপ্রচারে বার বার কর্নাটকে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে কাজ করল না ‘মোদী-ম্যাজিক’।
‘ভারত জোড়ো’ যাত্রার একটা দীর্ঘ সময় শুধু কর্নাটকেই পাড়ি দিয়েছেন রাহুল। সব মিলিয়ে লোকসভা ভোটের বছর খানেক আগে দক্ষিণের রাজ্যে এই জয় যে কংগ্রেসকে নতুন করে অক্সিজেন যোগাল, সেটা নতুন করে আর বলার অপেক্ষা রাখে না।