)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ৩০ ঘণ্টারও বেশি ভুয়ো গ্রেফতারি! এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল হায়দরাবাদে। সাইবার প্রতারকদের হাতে পরে প্রায় ৩০ ঘণ্টা 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' হয়ে থাকার পর কার্যত 'প্রযুক্তিগত ত্রুটি'র কারণেই মুক্তি পেলেন হায়দরাবাদের একটি আইটি কর্মী। ৪৪ বছরের ওই ব্যাক্তিকে রীতিমত ভয় দেখানো হয়েছিল এই বলে যে, তিনি কোনও টাকা পাচারের ঘটনায় যুক্ত রয়েছেন! যা একদমই মিথ্যা। তবে, পুলিশের তৎপরতার জেরেই ওই ব্যক্তিকে কোনও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত, ২৬ অক্টোবর ভোর রাত থেকে। যা চলে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত। কারণ, প্রতারকরা সেই তথ্যপ্রযুক্তিকে ফোন করে বলেছিল, তারা মুম্বাই পুলিস। একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে তারা ওই ব্যক্তিকে একটি ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে বারবার ভয়েস কল ও ভিডিয়ো কল করে। শুধু তাই নয়। ওই ব্যক্তি যাতে প্রতারকদের সঙ্গে কথাবার্তা না বন্ধ করে সেই কারণে বারবার ভয় দেখানো হয় তাকে।
পুলিস সূত্রে জানা যায়, প্রতারকরা দাবি করে, ওই ব্যক্তি টাকা পাচারে যুক্ত বলে তাদের কাছে খবর রয়েছে। এবং সেই কারণে হায়দরাবাদেরর ওই তথ্য প্রযুক্তি কর্মীর কাছে ৪০ লক্ষ টাকা দাবি করে সাইবার প্রতারকরা। অবশেষে ২৭ অক্টোবর ভোর বেলায় কল রাখার পর। আক্রান্ত ব্যক্তি হায়দরাবাদ সাইবার ক্রাইম থানায় খবর দেন এবং বুঝতে পারেন তিনি একটি প্রতারণার ফাঁদে পড়েছিলেন।
ভয় দেখিয়ে ওই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীকে গ্রেফতার করার ভয় দেখানো হয় এবং সব শেষে সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। শেষমেশ ২৭ অক্টোবর ভোর ৪টে নাগাদ 'কল ড্রপ' হওয়ার কারণে প্রতারকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ওই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর। এরপরই তিনি সাইবার ক্রাইম পুলিশের সাহায্য চেয়ে তাদের ফোন করেন।
এরপর পুলিস তাঁকে আশ্বস্ত করে এবং মাথা ঠাণ্ডা রাখতে বলে। হায়দরাবাদের একটি পুলিস কনস্টেবল প্রায় একঘণ্টা ধরে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। যাতে তিনি কোনরকমের ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে নেন। যদিও নম্বর ব্লক করে দেওয়া হয়। তবে, এইসব কিছুর পরেও ওই ব্যক্তি কোনও অভিযোগ দায়ের করতে রাজি হননি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)