ফের সুদ বাড়াল আরবিআই

মুদ্রাস্ফীতির হার এখনও যথেষ্ট চড়া থাকায় ফের একদফা সুদ বৃদ্ধির রাস্তায় হাঁটল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।

Updated By: Oct 25, 2011, 10:23 AM IST

মুদ্রাস্ফীতির হার এখনও যথেষ্ট চড়া থাকায় ফের একদফা সুদ বৃদ্ধির রাস্তায় হাঁটল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। বাড়ান হল রেপো রেট (স্বল্পকালীন ভিত্তিতে ব্যাঙ্কগুলি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের থেকে যে সুদের হারে ঋণ পায়) এবং রিভার্স রেপো রেট (বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যে সুদের হারে ধণ নেয়)।
মঙ্গলবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আর্থিক নীতি প্রকাশের সময় রেপো রেট এবং রিভার্স রোপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট (১০০ বেসিস পয়েন্টে ১ শতাংশ) করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়। এর ফলে রেপো রেট ৮.৫ এবং রিভার্স রোপো রেট ৭.৫ শতাংশে পৌঁছোল।
একদিকে লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতি অন্যদিকে অর্থনৈতিক বিকাশ হারে স্লথ গতি। এই দুয়ের টানাপোড়েনে আরও একবার কড়া আর্থিক নীতির পথেই হেঁটেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। সেপ্টেম্বরের শেষে পাইকারি মূল্য সূচক পৌঁছে যায় ৯.৭২ শতাংশে। আটই অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে খাদ্রদ্রব্যের মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ১০.৬
শতাংশ। আবার, চলতি বছরের অগাস্ট পর্যন্ত শিল্পক্ষেত্রে বিকাশের হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৪.১ শতাংশে। চলতি আর্থিক বছরের প্রথম তিন মাসে অর্থনৈতিক বিকাশের হার মাত্র ৭.৭ শতাংশ। এই অবস্থায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কড়া আর্থিক নীতির মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করবে, নাকি, আর্থিক নীতি শিথিল করে বাড়তি বিনিয়োগের রাস্তা খুলে দেবে - তা নিয়ে কৌতুহল ছিল। শেষপর্যন্ত, আর্থিক নীতি আরও আঁটোসাঁটো করে ফের একবার সুদের হার বাড়ালো রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ২০১০ সালের মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৩ দফায় রোপো রেট এবং রিভার্স রোপো রেট বাড়ানোর দাওয়াই প্রয়োগ করল। কিন্তু তার সুফল না মেলায় প্রশ্ন উঠল নীতির কার্যকারিতা নিয়ে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার বাড়ানোর ফলে বাড়লে হোম ও কার লোনের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিও সুদ বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে এই খাঁড়ার কোপ নেমে আসবে মধ্যবিত্ত উপভোক্তা মহলে।
মঙ্গলবার ঋণ নীতি ঘোষণা করতে গিয়ে আরবিআই গভর্নর ডি সুব্বারাও বলেন, মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণের জন্য গৃহীত অবস্থান বজায় রাখা প্রয়োজন। তিনি মেনে নিয়েছেন, মুদ্রাস্ফীতির উর্দ্ধগতি খুবই উদ্বেগের বিষয়। তবে তাঁর আশা, ডিসেম্বরের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতির হার নিম্নমুখী হতে শুরু করবে। তবে খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকতে পারে। সেই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠাপড়ার ওপর মুদ্রাস্ফীতির ওঠানামা অনেকটাই নির্ভর করবে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। এদিন আরবিআই ঘোষিত ঋণনীতিতে অবশ্য ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (নগদ জমার অনুপাত) অপরিবর্তিত থাকছে। আর্থিক বৃদ্ধির ধারা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কারণ, প্রাথমিক ভাবে আর্থিক বৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হলেও ডি সুব্বারাওয়ের পূর্বাভাস, কার্যক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৭.৬ শতাংশের বেশি হবে না। তবে ডিসেম্বর মাস থেকে মুদ্রাস্ফীতি কমতে শুরু করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর। চলতি আর্থিক বছরের শেষে মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ সাত শতাংশে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন তিনি।