লক্ষ্য একুশ, 'ভার্চুয়াল সভায়' পরবর্তী নির্বাচনের রূপরেখা স্পষ্ট করলেন শাহ

বুঝিয়ে দিয়েছেন নির্বাচনী প্রচারে কোন কোন ইস্যগুলি তাঁদের কর্মকর্তারা তুলে ধরবেন। এতদিনের চেনাজানা ইস্যুগুলোর সঙ্গে আমপান আর করোনা যে বিজেপির প্রচারে আলাদা গুরুত্ব পাবে, তা এখন নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

Updated By: Jun 9, 2020, 11:08 PM IST
লক্ষ্য একুশ, 'ভার্চুয়াল সভায়' পরবর্তী নির্বাচনের রূপরেখা স্পষ্ট করলেন শাহ

নিজস্ব প্রতিবেদন: দিল্লি থেকে বাংলায় সভা করলেন অমিত শাহ। সৌজন্যে প্রযুক্তি। রায়গঞ্জের সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীর ভাষায়, বাংলার বিজেপি কর্মীদের সাহস প্রদান করলেন। অমিত শাহ কী বলেছেন, তা এডিট পেজের অধিকাংশ দর্শকই শুনেছেন। অমিত শাহের কোন কথার কী মানে? অমিত শাহ তাঁর বক্তৃতার মধ্যে একটা ব্যাপারে কোনও ধোঁয়াশা রাখেননি। সোজা সাপটা ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন  দু-হাজার একুশের নির্বাচন নিয়ে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী। বুঝিয়ে দিয়েছেন নির্বাচনী প্রচারে কোন কোন ইস্যগুলি তাঁদের কর্মকর্তারা তুলে ধরবেন। এতদিনের চেনাজানা ইস্যুগুলোর সঙ্গে আমপান আর করোনা যে বিজেপির প্রচারে আলাদা গুরুত্ব পাবে, তা এখন নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

বক্তব্যের শুরুতেই বাংলার মহাপুরুষদের তালিকায় হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরের নাম নিয়েছেন অমিত শাহ। তারপর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতাকে জুড়ে দিয়েছেন মতুয়াদের প্রতি অবিচারের সঙ্গে। বিজেপি যে নমশুদ্র ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করবে তা এই বক্তব্যেই স্পষ্ট। এই আইনের বিরোধিতা করছে তৃণমূল সরকার। 

আরও পড়ুন: 'কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে... করোনা এক্সপ্রেস-ই হবে আপনার প্রস্থান পথ', হুঁশিয়ারি অমিতের

তিন তালাককে নিষিদ্ধ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তিন তালাক নিষিদ্ধ করে আইন এনেছে বিজেপি সরকার। অমিত শাহ তা সাফল্য হিসেবেই উল্লেখ করলেন। কেন করলেন? মুসলিম মহিলাদের ঘুরিয়ে বার্তা দিয়ে অমিত শাহ কি মমতার মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক ভাঙতে চাইলেন? তিন তালাক কি বাংলার হিন্দু ভোটারদেরও বার্তা দিল না? তৃণমূল ঘোষিতভাবে তিন তালাকের বিরোধিতা করেছিল।   

উরি, পুলওয়ামা, বালাকোটের পলিটিক্যাল ডিভিডেন্ট বাংলাতেও রয়েছে। অমিত শাহ পাকিস্তানের ঘরে গিয়ে বদলা নেওয়ার সাফল্য দাবি করেছেন। অনুচ্ছেদ তিনশো সত্তর রদ, পঁয়ত্রিশের এ ধারার অবলুপ্তির সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে ঘিরে বাঙালির আবেগকে। 

অযোধ্যার জমি মামলায় রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অমিত শাহের দাবি, মোদী সরকার সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিতেই মামলার নিষ্পত্তি রয়েছে। রামমন্দির গঠনের কৃতিত্বও দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলার প্রচারে রাম মন্দিরের ছোঁয়া  থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। 

আমপান ও করোনা ত্রাণে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাজ্য বিজেপি যে প্রচার করবে, তা অমিত শাহের বক্তব্যে স্পষ্ট। পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে আক্রমণ করার সুযোগও হাতছাড়া করেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

প্রবীণ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বডি ল্যাঙ্গুয়েজে যে কনফিডেন্সের ছোঁয়া আজকে দেখা গেল, তা আগে ছিল না। তবে পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেনি তৃণমূল। অমিত শাহকে জবাব দিয়েছেন বাংলার অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।