পুলিসের হেফাজতে বাবা-ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যু! অত্যাচারের অভিযোগ, কাল বন্ধের ডাক

এই ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা বাবা ও ছেলের মৃতদেহ নেবে না পরিবার।

Updated By: Jun 25, 2020, 05:58 PM IST
পুলিসের হেফাজতে বাবা-ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যু! অত্যাচারের অভিযোগ, কাল বন্ধের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদন - পুলিসের হেফাজতে থাকা অবস্থায় বাবা ও ছেলের মৃত্যুতে গোটা তামিলনাড়ু এখন উত্তাল। লকডাউনে নির্ধারিত সময়ের থেকে বেশিক্ষণ দোকান খোলা রাখার অভিযোগ ছিল জয়রাজ ও তাঁর ছেলে পেন্নিসের বিরুদ্ধে। বাবা-ছেলেকে রাতের বেলা থানায় নিয়ে যায় পুলিস। পরদিন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় জয়রাজ ও তাঁর ছেলেকে। জয়রাজের বুকে প্রচণ্ড ব্যথা ছিল। পেন্নিসে প্রবল জ্বর। দুজনের একজনকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। জয়রাজ ও পেন্নিসের মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করেছে তাঁদেরর পরিবার। জানানো হয়েছে বাবা ও ছেলের উপর অকথ্য নির্যাতন করেছিল পুলিস। এই ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা বাবা ও ছেলের মৃতদেহ নেবে না পরিবার।

এই ঘটনার জেরে গোটা তামিলনাড়ুতে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে। আগামীকাল বহু জায়গায় ব্যবসায়ীরা বন্ধের ডাক দিয়েছেন। 
জয়রাজের মেয়ে বলেছেন, ''দাদা ও বাবার উপর অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছিল পুলিস। ওই দিন রাতে আমাদের কাউকে থানায় থাকতে দেওয়া হয়নি। পুলিস বলছে বাবা ও দাদা হঠাৎ করে মাটিতে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাবা ও দাদার শরীরে কোনও গুরুতর অসুখ ছিল না। আমরা দোষী পুলিসকর্মীদের শাস্তি চাই। দাদা ও বাবাকে খুন করা হয়েছে।'' পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বাবা ও ছেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছেয। বিশেষ করে মলদ্বার, যৌনাঙ্গ এবং বুক ও পিঠের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছেয পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে আসার পরই পরিবারের তরফে দুজনের মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করা হয়।

আরও পড়ুন- চারবার লাভ ম্যারেজ! বউয়ের জন্যই মর্মান্তিক পরিণতি হল যুবকের

সংস্থানপূরমে একটি মোবাইলের দোকান চালাতেন বাবা ও ছেলে। লকডাউনে নির্ধারিত সময়ের থেকে কিছুক্ষণ বেশি খোলা রেখেছিলেন দোকান। সেই সময় পুলিস দোকান বন্ধ করতে বলায় তর্কাতর্কি হয়। বাবা ও ছেলেকে থানায় নিয়ে যায় পুলিস। রাতে পুলিসি হেফাজতে রাখা হয় তাঁদের। পরদিন দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। তুতিকোরিনের এসপি ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিসও। পুলিসের নির্দেশ অমান্য করেছেন বাবা ও ছেলে। এমনকী পুলিসকর্মীদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও পরিবারের তরফে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।