'জন্তু-জানোয়ারের মানুষকে ঘরে ঠেসে রাখা হয়েছে', মণিপুর নিয়ে জানালেন তৃণমূলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দল
কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দলের অন্যতম সদস্য সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, মণিপুরের বর্তমান অবস্থা ভয়াবহ। ওখানে যে অত্যাচার হয়েছে, যে নৃশংসতা, যে ভয়াবহতা ,এটা ভাবা যায় না যে কোন সভ্য সমাজে হতে পারে।

শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়: তৃণমূলের প্রতিনিধি দল বুধবার মনিপুরের রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে এবং সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিট কথা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মনিপুরের রাজ্যপালের আগে থেকেই পরিচয় রয়েছে। তৃণমূল সুত্রে দাবি, কথা প্রসঙ্গে রাজ্যপাল প্রতিনিধিদলকে জানান যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মণিপুরে আসার অনুমতি যখন পাননি তখন তিনি পশ্চিমবঙ্গে দুই জনজাতির মানুষদের ডেকে তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করতে পারেন।
আরও পড়ুন, Manipur Violence: মণিপুরের ঘটনায় গ্রেফতার ১, ট্যুইটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার
কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দলের অন্যতম সদস্য সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, মণিপুরের বর্তমান অবস্থা ভয়াবহ। ওখানে যে অত্যাচার হয়েছে, যে নৃশংসতা, যে ভয়াবহতা ,এটা ভাবা যায় না যে কোন সভ্য সমাজে হতে পারে। এটা হতে দিয়েছে, ওখানকার শুধু রাজ্য সরকার নয় কেন্দ্রের সরকার সমানভাবে দায়ী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েকজন সাংসদকে পাঠিয়েছিলেন বলে আমরা দেখতে পেলাম কী ঘটনা সেখানে ঘটেছে। নেত্রী যেতে চেয়েছিলেন জুন মাসে তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমরা যা দেখে এসেছি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। ওখানে রাজ্যপাল নিজে বলছেন, ৬০ হাজার আধা সামরিক মোতায়েন করেছেন কিন্তু ওখানে মানুষকে পরিষেবা বা মানুষকে সুরক্ষিত রাখা সঠিক বন্দোবস্ত করা হয়নি। আমরা যা দেখে এসেছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলব। নিশ্চয়ই এটার যা ব্যবস্থা নেওয়ার উনি আমাদের পাঠিয়েছেন আমরা জানাবো তারপর সিদ্ধান্ত হবে।
মণিপুরে রিলিফ পাঠানো নিয়ে তিনি বলেন, আমরা তো সব ব্যবস্থা নিতে পারব না। সবটাই আমার নেত্রী নেবে। কিন্তু আমরা জেনেছি কী খাদ্যদ্রব্য, কী বস্তু বেবি ফুড পর্যাপ্ত পরিমাণে তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে না। প্রায় জন্তু-জানোয়ারের মতো একেক জনকে একেকটা ঘরে ঠেসে রাখা হয়েছে। কোন আলো নেই, পাখা নেই। ৫ হাজার বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৫৭ হাজার মানুষ ক্যাম্পে রয়েছে। আবার ৬০ হাজার আধা সামরিক বাহিনী নেমেছে। কিন্তু কাজটা মানুষের স্বার্থে যেটা হওয়া উচিত ছিল সেটা ঠিকভাবে হচ্ছে না।
মনিপুরের সব বিধ্বস্ত অঞ্চলে তারা যেতে পেরেছে কিনা সেই প্রসঙ্গে যদিও সাংসদ বলেন, মোটামুটি সব জায়গায় আমরা গিয়েছি। ইম্ফলে নেমে হেলিকপ্টারে করে পাহাড়ে গিয়েছি। যে দুর্গম অঞ্চলে জনজাতি গোষ্ঠী তারা বলছে, আমরা অত্যাচারিত। আবার সমতলে যারা রয়েছে, তারা বলছে আমরা অত্যাচারিত। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে দুই তরফে আহত মানুষ রয়েছে, নিহত মানুষ রয়েছে, ঘরছাড়া মানুষ রয়েছে। এটা সরকারের দেখা উচিত ছিল। রাষ্ট্র নেতা সবার। কোনও রাজনৈতিক দলের না। কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। এত ব্যর্থ কেন্দ্রীয় সরকার ভারতবর্ষ অনেকদিন দেখিনি।