সংরক্ষণ বিল: এসপি-বিএসপি দ্বৈরথের মাঝে কেন্দ্র

এফডিআই নিয়ে সংসদে যুদ্ধ জয়ের পর এ বার নতুন সমস্যায় কংগ্রেস। সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে তফশিলি জাতি-উপজাতিদের সংরক্ষণের জন্য আইন চালুর দাবিতে কেন্দ্রকে তিনদিনের সময়সীমা দিয়েছেন মায়াবতী। উল্টোদিকে, এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছেন মুলায়ম সিং যাদব। গতকাল, সংরক্ষণ ইস্যুতে হৈ-হট্টগোলের জেরে মুলতুবি হয়ে যায় রাজ্যসভার অধিবেশন। উত্তরপ্রদেশের যুযুধান দুই দলকে বাগে আনার চেষ্টায় এখন ব্যস্ত কংগ্রসের রাজনৈতিক ম্যানেজাররা।     

Updated By: Dec 11, 2012, 09:00 AM IST

এফডিআই নিয়ে সংসদে যুদ্ধ জয়ের পর এ বার নতুন সমস্যায় কংগ্রেস। সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে তফশিলি জাতি-উপজাতিদের সংরক্ষণের জন্য আইন চালুর দাবিতে কেন্দ্রকে তিনদিনের সময়সীমা দিয়েছেন মায়াবতী। উল্টোদিকে, এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছেন মুলায়ম সিং যাদব। গতকাল, সংরক্ষণ ইস্যুতে হৈ-হট্টগোলের জেরে মুলতুবি হয়ে যায় রাজ্যসভার অধিবেশন। উত্তরপ্রদেশের যুযুধান দুই দলকে বাগে আনার চেষ্টায় এখন ব্যস্ত কংগ্রসের রাজনৈতিক ম্যানেজাররা।     
খুচরো ব্যবসায়ে বিদেশি বিনিয়োগ ইস্যুতে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টির সাহায্য পেয়েছিল কংগ্রেস। রাজ্যসভায় সরকারের পক্ষে ভোট দিয়েছে বহুজন সমাজ পার্টি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই সাহায্যের বিনিময়ে  কংগ্রেসকে সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে তফশিলি জাতি-উপজাতিদের সংরক্ষণের জন্য আইন চালুর শর্ত দিয়েছেন মায়াবতী। এর আগে উত্তরপ্রদেশে তিনি এই আইন চালুর উদ্যোগ নিলেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তা খারিজ হয়ে যায়। ফলে, এ বার সংবিধান সংশোধন করে সংরক্ষণ আইন চালুর দাবিতে সরব বহুজন সমাজ পার্টি নেত্রী।
সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সংরক্ষণ চালু হয়ে গেলে রাজনৈতিক সুবিধা পাবেন মায়াবতী। ফলে, সমাজবাদী পার্টির পক্ষে এই পদক্ষেপকে সমর্থন করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া উচ্চবর্ণের ভোটব্যাঙ্কে ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে মুলায়ম সিং যাদবের। এই পরিস্থিতিতে সমাজবাদী পার্টি নেতারা জানিয়েছেন, সংরক্ষণ বিল পাশের চেষ্টা হলে তাঁরা সংসদ চালাতে দেবেন না।
মায়াবতীর চাপে সরকার নতুন সংরক্ষণ আইন চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে মানতে নারাজ কংগ্রেস। তাদের দাবি, সংসদের বাদল অধিবেশনেই এই বিল উত্থাপিত হয়েছিল। সংখ্যাতত্বের হিসাবে সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন যুগিয়ে চলা মায়া-মুলায়ম দুজনকেই দরকার কংগ্রেসের। উত্তরপ্রদেশের যুযুধান দুই দলকেই এখন বোঝানোর চেষ্টায় দলের শীর্ষ নেতারা।
অন্যদিকে, গোটা বিষয়টিতে এখনও পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি বিজেপি। সংসদ চালানোর দায় তারা ঠেলেছে কংগ্রেসের ঘাড়ে।
সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে তফশিলি জাতি-উপজাতিদের জন্য সংরক্ষণ চালু করতে গেলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। একশো সতেরো তম এই সংশোধনের জন্য দরকার সংসদের দুই কক্ষেই দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন।ফলে, কংগ্রেসের পক্ষে কাজটা মোটেই সহজ নয়।
সুষ্ঠুভাবে অধিবেশন চালাতে সোমবার, সপা, বসপা, কংগ্রেস, বিজেপি নেতাদের সর্বদল বৈঠকে ডাকেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হামিদ আনসারি। যদিও, তারপরও সমস্যা সমাধানের কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।