জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আমাদের শাস্ত্র-পুরাণ-তন্ত্রে দুর্গা ও কালী নিয়ে যত চর্চা, জগদ্ধাত্রী নিয়ে তত নেই। এর ফলে অনেকেই হয়তো সেই ভাবে জানেন না, কীভাবে এই দেবীর উৎপত্তি, কোথায় তাঁর উল্লেখ মেলে, কী তাঁর প্রণামমন্ত্র ইত্যাদি। এ নিয়ে বহু মানুষের কৌতূহল আছে।
1/6শক্তিদেবতার বহু প্রকার মূর্তির মধ্যে একটি এই জগদ্ধাত্রী। প্রসিদ্ধ দশমহাবিদ্যার রূপ ছাড়াও আদ্যাশক্তির আরও অসংখ্য রূপ পুরাণে বা তন্ত্রে রয়েছে। তারই একটি এই জগদ্ধাত্রী রূপ।
2/6ক্যাত্যায়নীতন্ত্রে জগদ্ধাত্রীর বর্ণনা মেলে। ক্যাত্যায়নীতন্ত্রে একটি উল্লেখ আছে, কার্তিকী শুক্লা নবমীতে এই আদ্যাশক্তি জগদ্ধাত্রী প্রকটিত হন।
3/6সেখানে বলা আছে, দেবগণের হিত, দুর্বৃত্তের দমন ও জগতের শান্তিবিধানের জন্য ত্রেতা যুগের প্রারম্ভে কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের মঙ্গলবারে এই দেবী আবির্ভূত হলেন!
4/6শুম্ভ-নিশুম্ভের বধের পরে দেবতারা যে-ভাষায় দেবীর স্তব করেছিলেন, বলা হয়, সেখানেই দেবী জগদ্ধাত্রীর একটা ইঙ্গিত ছিল। তাঁরা বলেছিলেন-- ''বিশ্বেশ্বরী, ত্বং পরিপাসি বিশ্বং বিশ্বাত্মিকা ত্বং ধারয়সীতি বিশ্বম!'' অর্থ-- ''তুমি বিশ্বেশ্বরী, তাই বিশ্বকে পালন করো, তুমি বিশ্বাত্মিকা, তাই বিশ্বকে ধারণ করো।'' এখানে এই 'বিশ্বকে ধারণ করা'র ধারণার মধ্যেই জগদ্ধাত্রীর ইঙ্গিত নিহিত মনে করা হয়!
5/6শ্রীরামকৃষ্ণও যেনন ঠিক এই ভাবনাতেই জগদ্ধাত্রী রূপের বর্ণনা দিয়েছেন। সহজ-সরল ভাষায় অপূর্ব সেই বর্ণনায় তিনি বলছেন-- ''জগদ্ধাত্রী রূপের মানে জানো? যিনি জগৎ ধারণ করে আছেন। তিনি না ধরলে, না পালন করলে জগৎ পড়ে যায়''!
6/6জগদ্ধাত্রীর প্রণামমন্ত্র জানেন তো?--
''জয়দে জগদানন্দে জগদেক প্রপূজিতে। জয় সর্বগতে দুর্গে জগদ্ধাত্রি নমোহস্তুতে।। দয়ারূপে দয়াদৃষ্টে দয়ার্দ্রে দুঃখমোচনি। সর্বাপত্তারিকে দুর্গে জগদ্ধাত্রি নমোহস্তুতে।। ''