)
নিজস্ব প্রতিবেদন: ডার্বি যুদ্ধ জয়ের পর গত ম্যাচে মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে পয়েন্ট নষ্ট করেছে এটিকে মোহনবাগান। যদিও দলের খেলায় খুশি এটিকে মোহনবাগানের হেড কোচ জুয়ান ফেরান্দো। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে তাঁর দলের ফুটবলাররা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। যে খেলোয়াড়রা ফর্মে নেই, তাঁদের ওপরও আস্থা হারাতে নারাজ তিনি। হায়দরাবদ যথেষ্ট শক্তিশালী মেনে নিয়েও আশাবাদী তিনি।
প্রশ্ন: প্রথম লেগের মুখোমুখিতে শেষ মুহূর্তের গোলে জয় হাতছাড়া করেছিল এটিকে মোহনবাগান। এ বারেও কি সে রকমই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন?
জুয়ান ফেরান্দো: এখন পরিস্থিতি সম্পুর্ণ আলাদা। সব দলই বিভিন্ন দিক দিয়ে বদলে গিয়েছে। এর মধ্যে অনেক কিছু হয়ে গিয়েছে। কোয়ারান্টাইন, চোট-আঘাত। গত ম্যাচে যে পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল এটিকে মোহনবাগান, এ বার সেটা এক রকম হবে না।
প্রশ্ন: হায়দরাবাদের মতো শীর্ষস্থানীয় ও দাপুটে দলের বিরুদ্ধে তা হলে কি পরিকল্পনা থাকবে আপনাদের?
জুয়ান ফেরান্দো: পরিকল্পনা অন্য রকম হলেও আমাদের স্টাইল সবারই জানা। আমরা পায়ে বল রাখতে চাই, জায়গা বার করতে চাই। জায়গা কাজে লাগিয়ে আক্রমণে উঠতে চাই। ওডিশা, এসসি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে আমি খুশি। আমরা এখন আগের চেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করছি, যেটা ভাল। এ ভাবেই তো গোল আসবে।

প্রশ্ন: গত ম্যাচে কিয়ান নাসিরিকে খেলা শেষের পাঁচ মিনিট আগে নামালেন। ওকে কি আরও আগে নামালে ভাল হত?
জুয়ান ফেরান্দো: না, একেবারেই না। প্রথমত, কিয়ান একশো শতাংশ তৈরি নয়। কারণ, ওর হাঁটুতে কিছু সমস্যা রয়েছে। তা ছাড়া নতুন স্টাইলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ওর অনেকটা সময় লাগবে। ওকে বিশেষ মুহূর্তে নামানো যেতে পারে, যেমন এসসি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে আমরা ওকে নামিয়েছিলাম সিস্টেম বদল করার জন্য। তাতে ওর ভূমিকা ছিল। কিন্তু মুম্বই ম্যাচে সিস্টেম বদলে যে সিস্টেমে খেলি, তাতে ওকে তেমন প্রয়োজন ছিল না। শুধু ওকে নামিয়ে চোটের ঝুঁকি বাড়ানোর কোনও মানে হয় না। ওর সুরক্ষার দিকটাও আমাদের দেখতে হবে।
প্রশ্ন:গত ম্যাচে ডেভিড উইলিয়ামসকে বসাতে হয়েছিল চোটের জন্য। ও কি ৯০ মিনিট খেলতে পারবে?
জুয়ান ফেরান্দো: আমাদের অনেক খেলোয়াড়ই এখনও মাঠে নামার মতো একশো শতাংশ অবস্থায় নেই। এটা অন্যান্য দলগুলোরও সমস্যা। গত কয়েক সপ্তাহে এত সমস্যার মধ্যে দিয়ে আসতে হয়েছে আমাদের যে অনেকেই পুরোপুরি সুস্থ নয়। এটা আমাদের কারও সমস্যার জন্য নয়, পরিস্থিতির জন্য।
প্রশ্ন: হায়দরাবাদের শক্তিগুলো কোথায়?
জুয়ান ফেরান্দো: ওরা একসঙ্গে খেলে। ওদের দর্শন, পরিকল্পনা সবই একই রকম। ওরা যা করে একসঙ্গেই করে। তার ওপর ওগবেচের মতো ফরোয়ার্ড আছে ওদের দলে, যে এখন আগুনে ফর্মে আছে। প্রায় প্রতি ম্যাচেই গোল করছে ও। একজন ২০-২৫ বছরের ছেলের মতো খেলছে। হুয়ানানকে নিয়ে গড়া ওদের রক্ষণ বেশ শক্তিশালী। মাঝমাঠে জোয়াও ভিক্টর যে রকম সাহায্য করে দলকে, তেমনই আকাশ মিশ্র ফুল ব্যাকের মতো খেলে। এডু ফাঁকা জায়গা পেলেই তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। ওদের অনেক কিছুই আছে যা ওদের ভাল ফুটবল খেলতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন: ওগবেচের কথা বললেন, ডিফেন্ডারদের কাছে যিনি দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছেন। ওঁকে থামানোর কোনও উপায় আছে?
জুয়ান ফেরান্দো: না, শুধু ওগবেচেকে নিয়ে পরিকল্পনা করে তো লাভ নেই। ওদের দলে অনেক ভাল ভাল খেলোয়াড় রয়েছে, যাদের আটকানোর কথাও ভাবতে হবে আমাদের। ওগবেচে তারকা ঠিকই। কিন্তু তার পিছনে ওর গোটা দলটা আছে, যাদের আটকাতে না পারলে কোনও লাভ নেই।

প্রশ্ন: হায়দরাবাদের আক্রমণ যেহেতু শক্তিশালী, তাই আপনার রক্ষণের শক্তি বাড়ানোর ব্যাপারে কী ভাবছেন?
জুয়ান ফেরান্দো: আমার মনে হয় আক্রমণই রক্ষণের সবচেয়ে ভাল উপায়। তবে আমরা যদি আক্রমণে ভাল উঠি, তা হলে আমাদের রক্ষণকেও শক্তপোক্ত থাকতে হবে।
প্রশ্ন: কিন্তু আপনাদের স্টাইলে যেখানে পাসের গুরুত্ব বেশি, সেখানে মিসপাসের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই নিয়ে কী বলবেন?
জুয়ান ফেরান্দো: আমরা জিততে চাই। তাই গোল করতে চাই। গোল করতে হলে জায়গা বানাতে হবে, যে জায়গা প্রতিপক্ষ ছাড়ছে, সেই জায়গা কাজে লাগাতে হবে এবং আক্রমণে উঠতে হবে। আমরা যে স্টাইলে খেলি, সেটা খুব একটা সোজা নয়। গত এক মাস ধরে এই স্টাইল নিয়ে কাজ করছি আমরা, যার মধ্যে ২০ দিন কেটে গিয়েছে কোয়ারান্টাইনেই। তবু আমরা চেষ্টা করছি প্রতি দিন উন্নতি করার এবং তা করবও।
প্রশ্ন: অনেক ম্যাচেই আপনারা জেতার জায়গা থেকে ফিরে এসেছেন এবং তিন পয়েন্ট পাননি। এর পরেও কি লিগ টপার হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা আপনাদের আছে বলে মনে করেন?
জুয়ান ফেরান্দো: এটাই আমাদের লক্ষ্য। প্রতি ম্যাচে তিন পয়েন্টের জন্য নামছি আমরা। পরের দুটো ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরের দুটো ম্যাচে জিততে পারলে আমরা লিগ টেবলের শীর্ষে পৌঁছে যাব। তবে বেশি দূর ভাবলে আমাদের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তার চেয়ে বরং পরের ম্যাচ নিয়েই বেশি ভাবা যাক এবং তার পরে প্রতি ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে হবে। শেষ ছ’টা ম্যাচে শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধেই খেলতে হবে আমাদের। তবে এখন বিপক্ষদের নিয়ে বেশি ভেবে লাভ নেই। নিজেদের নিয়েই বেশি ভাবতে হবে, নিজেদের ওপরই ফোকাস করতে হবে বেশি।