)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেটে ওপেনারদের ইতিহাস লেখা হলে তাঁর নামটা একদম ওপরেরে দিকেই থাকবে। তিনি শিখর ধাওয়ান (Shikhar Dhawan)। ব্যাট হাতে দলকে একটা বড় রানের মঞ্চ তৈরি করে দেওয়ার অন্যতম সেরা কারিগর ছিলেন। ধাওয়ান প্রাক্তন নন, বর্তমান ক্রিকেটারই। তবে ছিলেন লেখা হল কারণ, ধাওয়ান এই মুহূর্তে আর কোনও ফরম্যাটেই ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনায় নেই। তবে ধাওয়ান বরাবরের মতোই রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। জীবনে ঝড় বয়ে গেলেও, তা বুঝতে দেন না তিনি। তবে আসন্ন এশিয়াডের দলে (Asian Games 2023) ডাক না পেয়ে দুঃখই পেয়েছেন ধাওয়ান। তবে তরুণ দলের হাতে ব্যাটন দেখে খুশিও হয়েছেন তিনি।
সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধাওয়ান বলেন, ' দেখুন এশিয়ান গেমসের দলে আমার নাম না দেখে, বেশ আঘাত পেয়েছিলাম। কিন্তু তারপর আমি অন্য ভাবে ভাবলাম। সেটা মেনে নিতেই হবে। আমি খুশি যে রুতুরাজ গায়কোয়াড় এই দলটার নেতৃত্ব দেবে। সব তরুণ ক্রিকেটাররা রয়েছে। আমি নিশ্চিত ওরা খুবই ভালো করবে।' তবে কামব্যাকের আশা এখনও ছাড়ছেন না ধাওয়ান। বরাবরই তিনি ভীষণ ইতিবাচক একজন ক্রিকেটার। জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার প্রসঙ্গে ধাওয়ান বলেন, 'আমি তৈরিই থাকব। সেজন্যই নিজেকে এত ফিট রাখি। সবসময় সুযোগ থাকে, হতে পারে এক বা কুড়ি শতাংশ। আমি নিজের ট্রেনিং এখনও উপভোগ করি। খেলাটার মতোই। কিছু জিনিস আমার হাতে আছে। যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তার প্রতি শ্রদ্ধাশীলই থাকব।'
ধাওয়ান নিয়মিত জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে যান। একটা রুটিনের মধ্যে নিজেকে রাখেন। ভবিষ্যতের কথা তিনি সেঅর্থে ভাবেন না। জাতীয় দলে না খেলেলও, আগামী বছর আইপিএলের আগে ধাওয়ান ঘরোয়া ক্রিকেট খেলবেন। কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে সৈয়দ মুস্তাক আলি ও পঞ্চাশ ওভারের সংস্করণে বিজয় হাজারে ট্রফি রয়েছে। এসব নিয়ে ধাওয়ান বলছেন, 'আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও নির্বাচকের সঙ্গেই কথা বলিনি। আমি এনসিএ-তে যাই। ওখানকার সুযোগ সুবিধা দারুণ। আমি এনসিএ উপভোগ করি। আমার কেরিয়ারকে শেপে রাখার জন্য এনসিএ-র কাছে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমাকে আইপিএলের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আশা করি সৈয়দ মুস্তাক আলি ও বিজয় হাজারে খেলব।' গতবছর ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শেষবার দেশের জার্সিতে ওয়ানডে খেলেছেন ধাওয়ান। ২০২১ সালে শেষবার খেলেছেন নীল জার্সিতে ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম ফরম্যাট। আর ওদিকে ২০১৮ সালে অন্তিম টেস্ট খেলেছেন তিনি। ধাওয়ানের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ বললেই চলে।
১৯ তম এশিয়ান গেমসের আসর বসতে চলেছে চিনে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এশিয়ার সেরা ইভেন্ট। এই নিয়ে তৃতীয়বার এই গেমস আয়োজন করবে চিন। চিনের রাজধানী বেজিংয়ে ১৯৯০ সালে এশিয়াড হয়েছে। ২০২০ সালে গুয়াংঝাউতে হয়েছে। এবার এশিয়া কাপ হবে হাংঝাউতে। এবারের এশিয়া কাপ অন্য় একটি কারণে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এবার এশিয়াডে ক্রিকেট ফিরছে। ২০১৪ সালে ইনচিয়নে এশিয়াডে শেষবার ক্রিকেটের আসর বসেহছিল। তবে ২০১৮ সালে জাকার্তা এশিয়াড থেকে ক্রিকেট বাদ পড়েছিল। ফের এশিয়াডে থাকছে বাইশ গজের ব্যাটল। বিসিসিআই মেয়েদের পূর্ণশক্তির দল পাঠাচ্ছে, তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে ভারতীয় নির্বাচকরা একেবারে বেঞ্চ পরখ করে নিচ্ছে। ভারতীয় পুরুষ দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়।
এশিয়াডে ভারতীয় পুরুষ দল: রুতুরাজ গায়কোয়াড় (অধিনায়ক), যশস্বী জয়সওয়াল, রাহুল ত্রিপাঠী, তিলক বর্মা, রিঙ্কু সিং, জীতেশ শর্মা, ওয়াশিংটন সুন্দর, শাহবাজ আহমেদ, রবি বিষ্ণোই, আবেশ খান, অর্শদীপ সিং, মুকেশ কুমার, শিবম মাভি, শিবম দুবে ও প্রভসিমরন সিং। স্ট্যান্ড বাইতে আছেন- যশ ঠাকুর, সাই কিশোর, ভেঙ্কটেশ আইয়ার, দীপক হুডা ও সাই সুদর্শন। স্ট্যান্ড বাইতে আছেন: যশ ঠাকুর, সাই কিশোর, ভেঙ্কটেশ আইয়ার, দীপক হুডা ও সাই সুদর্শন।