গুরুংয়ের নির্দেশে মোর্চা থেকে বিনয় তামাংকে বহিষ্কারের ভাবনা : রোশন গিরি

Updated By: Aug 31, 2017, 09:08 PM IST
গুরুংয়ের নির্দেশে মোর্চা থেকে বিনয় তামাংকে বহিষ্কারের ভাবনা : রোশন গিরি
ছবি সৌজন্য : টুইটার

ওয়েব ডেস্ক : বনধ প্রত্যাহার নিয়ে মোর্চার অন্দরে আড়াআড়ি ভাগ হয়েছে আগেই। এবার সেই দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে চলে এল। এমনকি, বনধ প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করার জন্য বিমল গুরুংয়ের কোপ পড়তে চলেছেন মোর্চা নেতা বিনয় তামাং। আগামীকাল তাঁকে ও অনীক থাপাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আজ সাফ জানিয়ে দিলেন মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি। সেই সঙ্গে পাহাড়ে গোর্খাল্যান্ডের দাবি না মানা পর্যন্ত বনধ প্রত্যাহারের কোনও সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়ে দিলেন রোশন।

এদিকে, ২৯ অগাস্ট নবান্নে পাহাড় ইস্যুতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন মোর্চা নেতা বিনয় তামাং। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় সেই বৈঠকের দ্বিতীয় পর্ব হতে চলেছে। তার আগে আজ বিকেলে মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে স্থির করা হয় শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ১২ তারিখ বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাহাড়ে বনধ শিথিল করা হবে। সেই কথা ঘোষণা করা মাত্রই বিমল গুরুং কোপের মুখে পড়তে হল দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা প্রথম সারির নেতা বিনয় তামাংকে।

আরও পড়ুন- পাহাড়ে বনধ প্রত্যাহার নিয়ে প্রকাশ্যে 'বিমল-বিনয় দ্বন্দ্ব'

গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে পাহাড়ে ৮০ দিন ধরে চলছে বনধ। বিপর্যস্ত জনজীবন। কার্যত ভেঙে পড়েছে অর্থনীতি। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে মোর্চার অন্দরেই দুটি ভাগ হয়ে যায়। বিনয় তামাংয়ের নেতৃত্বে একদল মোর্চা নেতা পাহাড়ে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার পক্ষে। অন্যদিকে, গোর্খাল্যান্ড না মেলা পর্যন্ত একই রকমভাবে পাহাড়কে অচল করেই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে বিমল গুরুং অ্যান্ড কোম্পানি। সেই পরিস্থিতিতেই দুই পক্ষ এখন নিজেদের অবস্থানে অনড়।

আজ রোশন গিরি সাফ জানিয়ে দেন, ''পাহাড়েও নেতা একজনই। তিনি বিমল গুরুং। তিনি যখন বলেছেন বনধ প্রত্যাহার করা হবে না, তখন তা বাস্তবেই হবে না।'' বিনয় তামাং নিয়েও যে দল এবার কড়া অবস্থানের পথে তাও জানিয়ে দেন রোশন। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে আগামীকাল একটি রেজলিউশিন নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, বনধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বন্দ্বের মাঝে পাহাড়ে নতুন করে শুরু হয়েছে অশান্তি। কার্শিয়ং, কালিম্পং সহ একাধিক এলাকায় মোর্চা সমর্থকরা ভাঙচুর চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

.