প্রেমে হাবুডুবু! বিয়ে করতে ইউক্রেন থেকে আরামবাগ ছুটে এলেন রুশ তরুণী

১৫ অগাস্ট বিয়ে করেছেন প্রসেনজিত। আর তারপরই সুদূর ইউক্রেন থেকে আরামবাগ এসে হাজির 'প্রেমিকা' লোপাচুক নাদিয়া।

Updated By: Aug 28, 2018, 06:18 PM IST
প্রেমে হাবুডুবু! বিয়ে করতে ইউক্রেন থেকে আরামবাগ ছুটে এলেন রুশ তরুণী

নিজস্ব প্রতিবেদন : দেশি পাত্রের বিদেশি কনে। গল্পটা হতে পারত এরকম। বাঙালি 'প্রেমিকের' টানে সুদূর ইউক্রেন থেকে ছুটে এসেছিলেন 'প্রেমিকা'। কিন্তু বাধ সাধল প্রেমিক নিজেই। রুশ তরুণী লোপাচুক নাদিয়া শুধুই তাঁর 'বন্ধু' মাত্র। এমনটাই দাবি করলেন সদ্য বিবাহিত প্রসেনজিত কর্মকার। উড়িয়ে দিলেন (বলা ভালো, এড়িয়ে গেলেন) রুশ তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা। যদিও, না বললেই বা মানছে কে? ভিনদেশি 'প্রেমিকা'কে দেখতে রীতিমতো থানায় ভিড় জমালেন স্থানীয়া বাসিন্দারা।

হুগলীর আরামবাগের তালারপাড় এলাকার বাসিন্দা প্রসেনজিত কর্মকার। পেশায় মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী। গত ১৫ অগাস্ট বিয়ে করেন প্রসেনজিত। আর তারপরই সুদূর ইউক্রেন থেকে আরামবাগ এসে হাজির 'প্রেমিকা' লোপাচুক নাদিয়া। রুশ তরুণীর বয়স কুড়ির ঘরে। জানা গেছে, গত ২৩ অগাস্ট ইউক্রেন থেকে মাস তিনেকের ভিসা নিয়ে তিনি প্রথমে দিল্লিতে আসেন। তারপর দিল্লি থেকে কলকাতা। এরপর কলকাতা থেকে ২৫ অগাস্ট শনিবার আরামবাগ পৌঁছে স্থানীয় একটি হোটেলে ওঠেন। তারপরই শোরগোল পড়ে যায় আরামবাগে। ঘরের ছেলের ভিনদেশি প্রেমিকা? উত্সুক হয়ে পড়েন সবাই।

আরও পড়ুন, মানুদা, প্রিয়দা, সুব্রতদা... স্মৃতির সরণি বেয়ে ছাত্র রাজনীতির পাঠ দিলেন মমতা

জানা যায়, বছর দেড়েক আগে ফেসবুকে রুশ তরুণীর সঙ্গে আলাপ হয় আরামবাগের যুবক প্রসেনজিতের। তারপর ফেসবুকেই ভাব জমে ওঠে। আরও চেনা পরিচিতি বাড়ে। প্রসেনজিত দাবি করেছেন, রুশ তরুণী লোপাচুক নাদিয়া শুধুই তাঁর 'ভালো বন্ধু'। কিন্তু শুধুই কি বন্ধুত্বের টানে সুদূর ইউক্রেন থেকে আরামবাগ পাড়ি? হোটেল ম্যানেজার জানিয়েছেন, হোটেলে উঠেই লোপাচুক  প্রসেনজিতের খোঁজ করতে থাকেন। তারপরই তিনি প্রসেনজিতকে ডেকে পাঠান। আর প্রসেনজিত আসতেই হোটেলের ঘরের ভিতর দুজনে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। কথা কাটাকাটির আওয়াজ পেয়েই আরামবাগ থানায় খবর দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ।

যদিও, লোকজনের প্রশ্নের মুখে রুশ তরুণী লোপাচুক নাদিয়াও প্রসেনজিতকে 'বন্ধু' বলেই উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, "প্রসেনজিত্ আমার বন্ধু। আমি ইন্ডিয়াকে ভালোবাসি।" কিন্তু, কানাঘুষো বলছে, তিনি প্রসেনজিতকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। প্রসেনজিতকে বিয়ে করার জন্যই তিনি ইউক্রেন থেকে ৫৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ উজিয়ে আরামবাগ এসেছিলেন। প্রসঙ্গত, ১৫ অগাস্ট বিয়ে করেছেন প্রসেনজিত। মনে করা হচ্ছে, সেই খবর পেয়েই হয়তো আরামবাগে নিজের 'প্রেমিকে'র কাছে আসার সিদ্ধান্ত নেন লোপাচুকা।

আরও পড়ুন, ধর্ষণ না বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক? পুকুর পারে উদ্ধার গৃহবধূর নগ্ন দেহ

মঙ্গলবার লোপাচুকাকে আরামবাগ থানায় নিয়ে আসা হলে ভিড় জমে যায়। রুশ তরুণীকে দেখতে ভিড় জমান স্থানীয়রা। পরে অবশ্য প্রসেনজিতের 'হাত ধরেই' কলকাতায় ফেরার উদ্দেশে পথ ধরেন লোপাচুকা নাদিয়া।