দেড় বছরের ছেলেকে কোলছাড়া করতেই গুলি, লুটিয়ে পড়েন সত্যজিত্

বাবার মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্ত পর্যন্তও তার কোলেই ছিল সোমজিত্। শনিবার যখন পাড়ার সরস্বতী পুজোর উদ্বোধনে যাচ্ছিলেন সত্যজিত, ছেলে পিছু নিয়েছিল। 

Updated: Feb 11, 2019, 12:46 PM IST
 দেড় বছরের ছেলেকে কোলছাড়া করতেই গুলি,  লুটিয়ে পড়েন সত্যজিত্

নিজস্ব প্রতিবেদন:  বাবার কোল সবচেয়ে প্রিয় তার। এমনিতে মায়ের সঙ্গে দিনের বেশিরভাগ সময়টা কাটে, কিন্তু বাবাকে দেখতে পেলেই সব ভুলে তার কাছে ছুটে যেত সে। গত দুদিন ধরে বাড়িতে প্রচুর লোকের ভিড়। বাড়ির বসার ঘরে তিল ধারণের জায়গা নেই। সব্বাই রয়েছে, কিন্তু নেই শুধু তার বাবা। ভালো করে কথা ফোটেনি, কিন্তু সত্যজিতের দেড় বছরের ছেলে সোমজিতের চোখের ভাষাই বলে দিচ্ছে,  এসবের মাঝে কাকে খুঁজছে সে...

আরও পড়ুন: আজ কৃষ্ণনগরে অভিষেক, মতুয়া সংঘের প্রতিনিধি দল, বিধায়ক খুনে এখনও সূত্র অধরা

বাবার মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্ত পর্যন্তও তাঁর কোলেই ছিল সোমজিত্। শনিবার যখন পাড়ার সরস্বতী পুজোর উদ্বোধনে যাচ্ছিলেন সত্যজিত, ছেলে পিছু নিয়েছিল। কিছুতেই ছেলেকে বাড়িতে রেখে আসতে পারেননি তিনি। শেষমেশ ছোট্ট সোমজিতের জেদের কাছে হার মেনে বাধ্য হয়েই তাকে নিয়েই সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠানে যান। সেখানে মঞ্চে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। ছেলে ততক্ষণ মন্ত্রী রত্না কর ঘোষের কাছে ছিল। সোমজিতকে নিয়ে খেলায় মেতেছিলেন মন্ত্রী নিজেও। কিন্তু হঠাত্ সোমজিতের খেলনা কেনার বায়না ওঠে। ছেলেকে  সামলাতে কোলে নেন সত্যজিত্। তাকে নানাভাবে ভোলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় ভাইয়ের কোলে দিয়ে বলেছিলেন, ওকে খেলনা কিনে দিতে। ঠিক এই সময়ের ফাঁকে গুলি চলে।

এক বছর তিন মাস বয়সে চোখের সামনে বাবাকে গুলি খেতে দেখেছে সোমজিত্। যদিও কিচ্ছু বোঝেনি সে। ‘বাবা যে আর নেই, আর ফিরবে  না’  , তাও বুঝছে না সোমজিত্, বোঝার কথাও নয়। কিন্তু চারপাশের পরিস্থিতিতে থম মেরে গিয়েছে ছোট্ট শিশুটি।

আরও পড়ুন: বিধায়ক খুনে ওসি ও দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

গত দুদিনে এক মুহূর্তের জন্যও চোখের পাতা পড়েনি স্ত্রী। বাকরুদ্ধ, চোখ ঝাপসা হয়ে গিয়েছে রূপালির। দেড় বছরের সন্তান আর স্বামী নিয়ে সবে তো সুখের সংসার বেঁধেছিলেন। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি যে সব ফুরিয়ে যাবে, তা কে জানত! তাঁকে সান্তনা দেওয়ার ভাষা নেই প্রতিবেশী, আত্মীয়দের। কাঁদতে কাঁদতে গলা শুকিয়ে গিয়েছে তাঁর।

মায়ের কান্না দেখলে সোমজিতকেও সামলানো কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। তাই রূপালির সামনে খুব বেশি ছেলেকে আনা হচ্ছে না।  যখন ছেলেকে কাছে পাচ্ছেন, তখন তাকে বুকে আঁকড়ে এক নিঃশ্বাসে বলে যাচ্ছেন, “কাকে বাবা ডাকবি তুই? তোর কি দোষ ছিল?”

রূপালির আক্ষেপ, “ওঁকে পদ ছেড়ে দিতে বললে, ওঁ ছেড়ে দিত। কিন্তু মেরে কেন ফেলল ওঁকে? আমি কী নিয়ে বাঁচাব…”