মাস্ক পরে আসতে বলায় হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীকে বেধড়ক মার রোগীর আত্মীয়ের

 রোগীর আত্মীয় ওই যুবক নিরাপত্তারক্ষীর উপর চড়াও হয়। তাঁর মুখে, চোখে কিল-ঘুসি মারতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন ওই নিরাপত্তা রক্ষী।

Updated By: Jan 30, 2021, 05:40 PM IST
মাস্ক পরে আসতে বলায় হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীকে বেধড়ক মার রোগীর আত্মীয়ের
নিজস্ব চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদন : মাস্ক (Mask) ছাড়াই হাসপাতালে ঢুকতে যাচ্ছিলেন রোগীর পরিবারের লোকেরা। বাধা দেন হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী। আর সেই কারণে ওই নিরাপত্তারক্ষীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল রোগীর পরিজনের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে Canning Sub Divisional Hospital)। মারধরের চোটে গুরুতর জখম হয়েছেন অশোক মন্ডল নামে ওই নিরাপত্তারক্ষী। বর্তমানে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় ক্যানিং থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে ক্যানিং থানার পুলিস। যদিও ঘটনার পর থেকেই পলাতক মারধরে অভিযুক্ত যুবক।

জানা গিয়েছে, এদিন মাতলা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মিঠাখালি গ্রামের বাসিন্দা মারুফ মিদ্দে নামে এক রোগীকে চিকিৎসার জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে (Canning Sub Divisional Hospital) নিয়ে আসে তাঁর পরিবারের লোকেরা। অভিযোগ, সেই সময় রোগীর আত্মীয় এক যুবকের মুখে মাস্ক ছিল না। নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্বে থাকা ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের কর্মী অশোক মন্ডল ওই যুবককে মাস্ক (Mask) পরে আসতে বলেন। এরপরই রোগীর আত্মীয় ওই যুবক নিরাপত্তারক্ষীর উপর চড়াও হন। তাঁর মুখে, চোখে কিল-ঘুসি মারতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন ওই নিরাপত্তা রক্ষী। তাঁকে বাঁচাতে ছুটে আসেন হাসপাতালের চিকিত্সক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীরা। এদিকে বেগতিক বুঝে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় মুল অভিযুক্ত ওই যুবক। 

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের (Canning Sub Divisional Hospital) সুপার চিকিত্সক অপূর্ব লাল সরকার। তিনি বলেন, “হাসপাতালের মধ্যে এমন ঘটনা বাঞ্ছনীয় নয়। যে বা যারা এমন বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ক্যানিং থানার পুলিসকে জানিয়েছি।” প্রসঙ্গত, বিগত বেশ কিছুদিন ধরে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল থেকে শিশুচুরির ঘটনা ঘটছিল। এছাড়াও হাসপাতাল চত্বর থেকে বিভিন্ন জিনিস চুরি যায়। এরফলে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়ায়। তারপর থেকেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আরও বাড়ানো হয় হাসপাতালের নিরাপত্তা। প্রমাণপত্র ছাড়া হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বরে অবৈধ গাড়ি পার্কিংও বন্ধ করে দেয় পুলিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন, বাঁধা মঞ্চেই হবে সভা, ফোনে Shantanu Thakur-কে জানান Amit Shah : Mukul