কৃষ্ণনগর কলেজের বাঙালি গণিতের অধ্যাপক এখন বিশ্ব সেরা বিজ্ঞানী

এই চিপ থাকলে সহজে ঠান্ডা হয়ে যাবে কম্পিউটার ল্যাপটপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি।

Updated By: Nov 29, 2020, 12:18 PM IST
কৃষ্ণনগর কলেজের বাঙালি গণিতের অধ্যাপক এখন বিশ্ব সেরা বিজ্ঞানী

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় সেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় রয়েছে বাঙালির নাম। ইনি  নদীয়ার কৃষ্ণনগর গভমেন্ট কলেজের অধ্যাপক কালিদাস দাস। ন্যানো ফ্লুইড উপরে কাজ করে বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীর পালক জুড়েছে তাঁর মুকুটে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয় ডক্টর কালিদাস দাসের  ন্যানো ফ্লুইড এর ইউটিলিটি সম্পর্কিত গবেষণা। যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসা পেয়েছে। 

২০২০ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ১ লক্ষ ৫৯ হাজার বিজ্ঞানী স্থান পেয়েছে। সেই সেরার তালিকায় রয়েছে প্রায় ১৪৯২ জন ভারতীয়। কালিদাস দাসের গবেষণা, মানব জীবন এবং শিল্পে ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে। বিজ্ঞানীর মতে চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহার করলে খুলে যেতে পারে একাধিক বন্ধ দুয়ার।  

ন্যানো ফ্লুইড আসলে এক প্রকার তরল পদার্থ। যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে উপযুক্ত কুলেন্ট তৈরিতে সাহায্য করে। বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল লেভেলে ব্যাপক প্রসার ঘটেছে যেমন গাড়ি, মোবাইল ,কম্পিউটার। সবেতেই এর ব্যবহার হওয়ার ফলে দীর্ঘক্ষণ  মোবাইল , কম্পিউটার চালানো হলেও গরম হবে না। এক্ষেত্রে ন্যানো ফ্লুইড চিপ আকারে  থাকবে। এই চিপ থাকলে সহজে ঠান্ডা হয়ে যাবে কম্পিউটার ল্যাপটপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি।

চিকিৎসা ক্ষেত্রেও এর ব্যাপক প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। যেমন টিউমারের ক্ষেত্রে যেখানে একটি ব্যারিকেড তৈরি হয় সেই ব্যারিকেড ভেঙে সঠিক  জায়গায় ইনজেকশন বা  ওষুধ পৌঁছাতে পারে না কোষগুলির মধ্যে। এই পর্যায়ে ইঞ্জেকশন এর মাধ্যমে নানোফ্লুইড প্রবেশ করিয়ে সঠিক জায়গায় ওষুধ পৌঁছনো সম্ভব হবে বলে দাবি বাঙালি বিজ্ঞানীর। 

অন্যদিকে, ক্যান্সারের ক্ষেত্রে রে দিলে শরীরের সংশ্লিষ্ট অংশ পুড়ে যায়। এক্ষেত্রে যদি সেখানে ন্যানো চিপ ভরে দেওয়া যায়, সেখানে দিয়ে ওষুধ দেহে প্রবেশ করিয়ে ক্যান্সারের কোষকে ধ্বংস করা সম্ভব হবে। শিল্প ক্ষেত্রে নেনোফ্লুইড  প্রভাব থাকলেও এখনও পর্যন্ত চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়নি। দ্রুত এর ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০০৮ সাল থেকেই তিনি নেনোফ্লুইডের উপরে কাজ করে চলেছেন বাঙালি বিজ্ঞানী। 

ন্যানো ফ্লুয়েড কীভাবে কাজ করছে, তাঁর গাণিতিক মডেল তৈরি করেন। প্রতিবছর পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গাতে বিভিন্ন রকম গবেষণামূলক কাজ হলেও এতদিন তার সঠিক কোনও ডেটাবেস তৈরি হয়নি কোথাও। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সেই সমস্ত পৃথিবীব্যাপী গবেষকদের একটি তালিকা তৈরি করছেন।

বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করছেন অনেকেই, ওয়েস্ট বেঙ্গল এ ন্যানোফ্লুইড নিয়ে কাজ করছেন নদীয়ার কালিদাস বাবু। ভারতের যে সমস্ত গবেষক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন তারা সকলেই বিশ্ববিদ্যালয় , আইআইটি সহ বিভিন্ন উচ্চ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। সেখানে কালিদাস বাবু স্নাতকস্তর থেকেই গবেষণা করেছেন। 

কালিদাস বাবুরবাড়ি নদীয়ার কল্যাণী এ ব্লকে। ছোটবেলা থেকেই গ্রাম্য পরিবেশে মানুষ হয়েছিলেন তিনি। ছোটবেলায় ইচ্ছা ছিল শিক্ষক হবেন। বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজ করে বিশ্বের সেরা টু পার্সেন্ট বিজ্ঞানীর তালিকা নাম প্রকাশ হওয়ায় যথেষ্ট উচ্চসিত নিজেই। কৃষ্ণনগরের একটি গভমেন্ট কলেজের তিনি অধ্যাপনা করার পাশাপাশি গণিত নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বেশ কিছু বছর ধরেই।

Tags: