)
সোমা মাইতি ও অর্ণবাংশু নিয়োগী: সাগরদিঘিতে তৃণমূলের সংগঠনে রদবদল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা সফরের পর, ব্লক সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল দেবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সাগরদিঘি উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। দায়িত্বে কে? শামসুল হুদা।
ব্যবধান মাত্র ২২ মাসের। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর এবার সাগরদিঘি কেন্দ্রটি হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের। উপনির্বাচনে ২২ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতলেন বাম-কংগ্রেস জোটপ্রার্থী বাইরন বিশ্বাস।
উপনির্বাচনে কেন হার? স্রেফ অন্তর্তদন্তের নির্দেশ নয়, মুর্শিদাবাদের তৃণমূলের নেতৃত্বের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী বলেন, 'সাগরদিঘিতে জোট অনৈতিক। একটা ভোটের ফল সবকিছু ঠিক করে না। পঞ্চায়েতে সব ব্লকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজ করতে হবে'। মুর্শিদাবাদের জন্য আলাদা একটি কমিটি গঠন করে দেন তিনি।
সূত্রের খবর, সাগরদিঘি উপনির্বাচনের হারের পর থেকেই দেবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছিল তৃণমূলের অন্দরেই। শেষপর্যন্ত ব্লক সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল তাঁকে। তৃণমূলের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি খলিলুর রহমান অবশ্য জানিয়েছেন, রাজ্য় কমিটির নির্দেশে ব্লক সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দলের সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক করা হয়েছে দেবাশীষকে।
এর আগে, গত শুক্রবার 'নবজোয়ার' কর্মসূচিতে মুর্শিদাবাদে যান অভিষেক। শুধু তাই নয়, সাগরদিঘি বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেন তিনি। কেন? রানিনগরের জনসভায় অভিষেক বলেন, 'আগামিদিনে সাগরদিঘিতে যাতে উন্নয়ন হয়, তারজন্য মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলুন। কেউ বারণ করছে না। যেখানে আমরা জিতেছি সেখানেও পরিষেবা দিয়েছে। যেখানে হেরেছি সেখানেও পরিষেবা দিয়েছি'।
এদিকে নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস। অভিযোগ, বিধায়ক হওয়ার পর ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। কলকাতা পুলিস, এমনকী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। আগামী সোমবার মামলার শুনানি।