'আজ আমার জন্মদিন' ভেন্টিলেশনের নল খুলতেই জানালেন রোগী! করোনা ওয়ার্ডেই পালন হল বিশেষ দিন

কার্যত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে রোগীর অভিজ্ঞতা কেমন? সুবীর কুমার দত্ত বলছেন, "আমার মুখ থেকে নলটা খুলে নেওয়ার পরে আমি কথা বলতে পারলাম। যখন চিকিৎসককে বললাম, আজ আমার জন্মদিন

Updated By: Aug 24, 2020, 11:58 PM IST
'আজ আমার জন্মদিন' ভেন্টিলেশনের নল খুলতেই জানালেন রোগী! করোনা ওয়ার্ডেই পালন হল বিশেষ দিন

নিজস্ব প্রতিবেদন: করোনা আক্রান্ত রোগী কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, খারাপ পর্যায় কাটিয়ে ভেন্টিলেশনর নল খুলতেই রোগী জানালেন আজ তাঁর জন্মদিন। শোনা মাত্রই শুরু হল তোড়জোড়। এরপরই আড়ম্বরে আইসিইউ-র মধ্যেই পালন হল রোগীর জন্মদিন। এ যেন একেবারে গল্পের মতো। পুনর্জন্ম-ই বটে। জন্মদিনে মৃত্যুর মুখ থেকেই কার্যত ফিরলেন রোগী। 

এদিন গোটা ঘটনার সাক্ষী থাকলেন অফিস ওয়ার্ডের চিকিৎসক থেকে নার্স, কর্মী, টেকনিশিয়ান সকলেই। ওনার স্ত্রী-ও কোভিড পজিটিভ হয়ে আমরি ঢাকুরিয়াতে ভর্তি রয়েছেন। যদিও এখন তিনি সুস্থ। এদিন তাঁর স্ত্রীও হুইল চেয়ারে এসে হাজির হলেন স্বামীর পাশে জন্মদিন পালনে।

আরও পড়ুন: দেড় লক্ষ ছুঁই ছুঁই রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, মোট মৃত্যু ২,৮৫১ জনের

১৬ অগাস্ট শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড পজিটিভ হয়ে ভর্তি হন  সুবীর কুমার দত্ত (৫৯)। সামান্য উপসর্গ ছিল। আইসিইউ কনসালটেন্ট চিকিৎসক রূপক কুন্ডু বলেন, "মাইল্ড সিমটম নিয়েই আমরা চিকিৎসা করছিলাম সুবির বাবুর। কিন্তু ২০ আগস্ট হঠাৎই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। 

রেস্পিরাটরি রেট হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়ে প্রতি মিনিটে দাঁড়ায় ৫০ থেকে ৬০। সাধারণ স্বাভাবিক মানুষের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে সেটা ১৪ থেকে ১৮ বা ২০। সেদিন দ্রুত ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয় তাঁকে। ২৩ অগাস্ট কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় তাঁর। সেটা তো আমরা কোনক্রমে সামালই। আজ সমস্ত প্যারামিটার স্বাভাবিক থাকায় তাকে ভেন্টিলেটর থেকে বের করানো হয়। বেরিয়েই তিনি জানান আজ তার জন্মদিন।"

আরও পড়ুন:  সবুজসাথীর সাইকেল তৈরি হবে বাংলাতেই! নয়া শিল্পে বাড়বে কর্মসংস্থান, আশাবাদী মমতা

কার্যত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে রোগীর অভিজ্ঞতা কেমন? সুবীর কুমার দত্ত বলছেন, "আমার মুখ থেকে নলটা খুলে নেওয়ার পরে আমি কথা বলতে পারলাম। যখন চিকিৎসককে বললাম, আজ আমার জন্মদিন। তারপরই তাঁরা জন্মদিন পালনের ব্যবস্থা করেছেন। মনে হচ্ছে আমি নতুন জীবন পেয়েছি।" 

তাঁর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা দত্তে কথায়, "অমিও করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছি। আমার স্বামী ভেন্টিলেশনে চলে যাবার পর চিন্তায় ছিলাম। ভাবছিলাম এই লড়াইয়ে জিততে পারবে কিনা। আজ সকালে শুনলাম ভেন্টিলেশন খুলে দেওয়া হয়েছে এবং জন্মদিন পালন করা হবে। আমি কতটা খুশি বলে বোঝাতে পারব না। সকলকে  শ্রদ্ধা প্রণাম ধন্যবাদ।" একদিকে 59 তম জন্মদিন অন্যদিকে ভেন্টিলেশন থেকে মুক্তি এই দুই নিয়েই পালন হল জন্মদিন।