)
বিক্রম দাস: রক্ষকই ভক্ষক? বিএসএফের হাতে গণধর্ষণের শিকার মহিলা! রেহাই পেল না ২ বছরের শিশুও। মায়ের কোল থেকে তাকে ছুঁড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক। গ্রেফতার অভিযুক্ত ২ বিএসএস কনস্টেবল। ঘটনাস্থল, উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা।
উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া। বেআইনিভাবে সীমান্ত পার করেন অনেকেই। সঙ্গে চোরাচালান। ওই মহিলার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে? পুলিস সূত্রে খবর, পাসপোর্ট, ভিসা ছিল না। বাগদা থানা এলাকা দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কোলে ছিল ২ বছরের শিশুসন্তান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ওই মহিলাকে ধরে ফেলেন সীমান্তে কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানরা। ক্য়াম্পে নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। এরপর ক্য়াম্প লাগোয়া নির্জন জায়গায় বিএসএস জওয়ান ও আধিকারিকরাই ওই মহিলাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। এমনকী, তাঁর কোল থেকে ছুঁড়ে ফেলা হয় শিশুসন্তানকে। এখনও পর্যন্ত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ২ কনস্টেবলকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। গুরুতর জখম অবস্থায় নির্যাতিতা ভর্তি হাসপাতালে।
এর আগে, সীমান্তে বিএসএফের এক্তিয়ার আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়, ১৫ কিমি নয়, সীমান্তের ভিতরে ৫০ কিমি পর্যন্ত তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত, এমনকী প্রয়োজনে গ্রেফতারও করতে পারবেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন তৃণমূল। এমনকী, ভোটাভুটিতে প্রস্তাবও পাস হয় বিধানসভায়। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন তৃণমূলের ১১২ জন বিধায়ক, বিপক্ষে বিজেপির ৬৩ জন বিধায়ক।
বিধানসভায় আলোচনায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন,'BSF মানে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের সেনা মনে করা হচ্ছে। বিএসএফ-এর মতো দেশভক্ত একটা সংগঠনকে যেভাবে সমালোচনা করছেন তাতে মনে হচ্ছে যেন আমরা বাইরের কোথাও দাঁড়িয়ে কথা বলছি। দার্জিলিংয়ে তাণ্ডবের সময় সেনা নেমেছিল। BSF-এর জন্য পুলিসের ক্ষমতা কোথাও খর্ব করা হয়নি। কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন গুজরাটে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত এক্তিয়ার করেছিল। আমরা বলব এবারও এক্তিয়ার ৫০ নয় ৮০ কিলোমিটার করা উচিত'। তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ ছিল, 'সীমান্ত যাঁদের দেখার কথা তাঁরা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। কেন্দ্রীয় সরকার পিছনের দরজা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে খবরদারি করতে চাইছে'।
এদিকে কয়েকদিন আগে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে এক মহিলা আটক করে বিএসএফ। সীমান্তের কাছে ঘোরাফেরা করছিলেন তিনি। কেন? জানা যায়, ওই মহিলার বাড়ি বাংলাদেশের যশোরের শেখ পাড়ার খানপুর গ্রামে। কাজে দেওয়ার নাম করে তাঁকে এ রাজ্যে নিয়ে আসে রাজু নামে এক যুবক। তারপর তাকে পাচার করে দেওয়া হয় মুম্বইয়ে।