close

News WrapGet Handpicked Stories from our editors directly to your mailbox

চিনই ভরসা! মধ্যরাতে ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গি’ তকমার নির্ধারণ মাসুদ আজহারের

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জইশকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসাবে চিহ্নিত করার প্রশ্নে নরম অবস্থানে দেখা যেতে পারে বেজিংকে

Somnath Mitra | Updated: Mar 13, 2019, 10:33 AM IST
চিনই ভরসা! মধ্যরাতে ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গি’ তকমার নির্ধারণ মাসুদ আজহারের
ফাইল চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতীয় সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মধ্যরাত সাড়ে ১২টায় জইশ-ই-মহম্মদ সংগঠনকে ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গি তালিকাভুক্ত’ করা হবে। পাশাপাশি ওই সংগঠনের মাথা মাসুদ আজহারকেও চিহ্নিত করা হবে ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গি’ হিসাবে। যদি চিন তার স্বভাবসিদ্ধ আচরণে বাধাদানে বিরত থাকে, তবেই তা সম্ভব। সে দিক থেকে ভারত তো বটেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেনের মতো সন্ত্রাসবাদে বিধ্বস্ত দেশগুলিও তাকিয়ে রয়েছে কী পদক্ষেপ করে চিন?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রক তরফে জানানো হয়েছে, জইশ-ই-মহম্মদ নিরাপত্তা পরিষদের চিহ্নিত জঙ্গি সংগঠন। রাষ্ট্র সঙ্ঘের আন্তর্জাতিক জঙ্গি চিহ্নিত করার প্রস্তাবিত মানদণ্ডে নাম রয়েছে জইশের প্রধান মাসুদ আজহারের। তার বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতার প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি জইশ সংগঠন তৈরির ক্ষেত্রে ওসামা বিন লাদেনের ভূমিকা ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে। নিরাপত্তা পরিষদে মাসুদ আজহারের একটি ভিডিয়ো ভারত তুলে ধরে, যেখানে ভারত বিরোধী বক্তব্য এবং হিংসা ছড়ানোর বার্তা দিতে দেখা গিয়েছে মাসুদকে।

আরও পড়ুন- নিজের সংগঠনের কার্যালয়েই হাফিজ সইদের বক্তৃতা বন্ধ করে দিল পাক পুলিস

২০১৭ সালে ভিটো প্রয়োগ করে জইশকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের তকমা থেকে বাঁচিয়েছিল চিন। মাসুদ আজহার ও তার সংগঠনকে কূটনৈতিক স্তরে পদক্ষেপ করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে ভারত। কিন্তু এ বিষয়ে চিনের সমর্থন পাওয়া তো দূর, পুলওয়ামা ঘটনায় কার্যত পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় চিন। যেখানে খোদ জইশ সংগঠনই পুলওয়ামা নাশকতার দায় স্বীকার করে সেখানে ইমরান খানের দাবি ছিল, জইশের জড়িত থাকার প্রমাণ দিলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখে সন্ত্রাস দমনে কড়া বার্তা দিলেও, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাসুদ আজহারকে মদত দেওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।

আরও পড়ুন- পাকিস্তানের চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার রাজস্থানের নবাব

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জইশকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসাবে চিহ্নিত করার প্রশ্নে নরম অবস্থানে দেখা যেতে পারে বেজিংকে। কারণ, ভিটো প্রদানকারী পাঁচ শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির মধ্যে চিন ছাড়া বাকিরা ভারতের পাশে রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাস ইস্যুতে ক্ষতিগ্রস্ত চিনও। এমনকি, চিন সহমত পোষণ করলে ভারতের তরফে সব ধরনের বাণিজ্যিক সহয়তা মেলার সম্ভবনা রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কযুদ্ধে অনেকটাই বিপর্যস্ত চিনের অর্থনীতি। ভারতের বিপুল বাজার ধরার লক্ষ্যে চিন এ বার ভিটো প্রয়োগে বিরত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাশাপাশি কূটনৈতিকদের একাংশ মনে করছেন, ভিটো প্রয়োগ করলে ব্যাহত হতে পারে চিনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ প্রকল্পের কাজ। কারণ, ওই প্রকল্পের করিডর পাক অধিকৃত কাশ্মীর হয়ে গিলগিট-বালুচিস্তান  এবং খাইবার পাখতুনওয়ার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। যা বালাকোটের অত্যন্ত কাছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখানেই জইশের একাধিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটি রয়েছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ওই সব প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ধ্বংস করতে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। ওই করিডরে জইশের হামাল চালানোর আশঙ্কা করছে বেজিং। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, জইশকে কাজে লাগিয়ে ওই সব এলাকায় করিডরের কাজ চালাচ্ছে চিন।