China-র নতুন সীমান্ত আইন কী? কেন বিরোধিতায় ভারত?

এই আইন চীনের সীমানাকে 'পবিত্র এবং অলঙ্ঘনীয়' করে তোলে। ভারতে, কেউ কেউ এটিকে বর্তমান অবস্থানে অনড় থাকার জন্য একটি চীনের একটি  প্রচেষ্টা হিসেবে মনে করলে। 

Updated By: Oct 28, 2021, 01:11 PM IST
China-র নতুন সীমান্ত আইন কী? কেন বিরোধিতায় ভারত?

নিজস্ব প্রতিবেদন: ২৩ অক্টোবর, ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটি, চীনের আনুষ্ঠানিক কিন্তু শীর্ষ আইন প্রণয়ন সংস্থা, দেশের স্থল সীমান্ত এলাকার সুরক্ষার জন্য একটি নতুন ভূমি আইন পাস করেছে যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

আইনটি যদিয় বিশেষভাবে ভারতের সাথে সীমান্তের জন্য নয়; কিন্তু ভারতের সঙ্গে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার সীমানা নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে, এবং কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে এটি ১৭ মাস ধরে চলে আসা সামরিক অচলাবস্থার সমাধানে আরও বাধা তৈরি করতে পারে। অন্যরা মনে করেন আইনটি শুধুই শব্দমাত্র, আসলে  সম্পর্ককে তিক্ত করছে তাদের কার্যকলাপ। 

সীমান্ত প্রতিরক্ষা জোরদার করতে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় উন্মুক্তকরণ, এই ধরনের এলাকায় জনসেবা ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন, জনগণের জীবন ও সেখানে কাজকে উৎসাহিত করতে এবং সীমান্ত প্রতিরক্ষার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে রাষ্ট্র বিভিন্ন কাজ করতে পারে। সীমান্ত এলাকায় সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নেও কাজ করতে পারে তারা। 

বাস্তবে, এটি সীমান্ত এলাকায় সাধারন মানুষের বসতি স্থাপনের জন্য পরামর্শ দিচ্ছে। আইনটি চীনকে "বিরোধ এবং দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত সমস্যাগুলি সঠিকভাবে সমাধানের জন্য আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলির সাথে স্থল সীমান্ত সম্পর্কিত বিষয়গুলি পরিচালনা করতে, সমতা, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরামর্শের নীতিগুলি অনুসরণ করতে বলে"। 

আরও পড়ুন: Afghanistan: প্রথমবার টিভিতে মোল্লা ওমরের ছেলে, পাবলিক ইমেজ তৈরির চেষ্টা Taliban-র 

ভারত সহ ১৪টি দেশের সঙ্গে চীনের ২২,৪৫৭ কিলমিটারের স্থল সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্তবর্তী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে মঙ্গলিয়া, এবং রাশিয়া। যদিও ভারতের মত এই দেশগুলির সঙ্গে চীনের সীমান্ত সম্পর্কিত কোনও সমস্যা নেই। ভারত ছাড়া শুধুমাত্র ভুটানের সঙ্গে তাদের ৪৭৭ কিলমিটার লম্বা সীমান্তে সমস্যা রয়েছে।

পূর্ব লাদাখের সমস্যা সমাধানের জন্য দীর্ঘস্থায়ী আলোচনার সময়ে চীনের সীমানাকে "পবিত্র এবং অলঙ্ঘনীয়" করে তোলে এমন একটি আইনের ঘোষণা ইঙ্গিত করে যে বেজিং বর্তমান অবস্থানে তার অস্তিত্ব আরও মজবুত করতে পারে। এই আইনের ফলে  Line of Actual Control-এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব PLA-র কাছে চলে যাবে। অন্যদিকে আমাদের দেশে অবস্থা অন্যরকম। এখানে সিমান্তের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মধ্যে কার কাছে থাকবে সেই সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব রয়েছে। 

পর্যবেক্ষকদের মতে এই আইন প্রনয়নের ফলে PLA এখন চীনের সীমান্তের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে বাধ্য এবং এর ফলেই ভারত সহজে চীন সিমান্তে তাদের অবস্থান থেকে সরে আসতে পারবে না। 

বর্তমান অচলাবস্থার মধ্যে এই আইন পাস করিয়ে একটি স্পষ্ট একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এখন যেহেতু একটি আইন তৈরি হয়েছে, পরবর্তীকালে কোনও চুক্তির সাথে আপস করতে সমস্যা হবে। এই আইনের ফলে আগামি দিনে আলোচনা আরও কঠিন হবে। তারা ভারতের কাছ থেকে আরও অনেক কিছু দাবি করতে পারে। 

অন্যদিকে কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন যে, প্রতিটি দেশ তার আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার কাজে জড়িত, এটি যে কোনও সরকারের কাজ। বড় প্রশ্ন হল সবার এলাকা কি, এবং সেখানে আমরা একে অপরের সাথে একমত নই। মূল সমস্যা আইন নয়, মূল বিষয় তারা তাদের সামরিক বাহিনীর সাথে কি করছে। ২০২০ সালের মে থেকে তারা কি করেছে, ভারত যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সেই বিষয়গুলিই বাস্তব পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে।        

(Zee 24 Ghanta App দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির লেটেস্ট খবর পড়তে ডাউনলোড করুন Zee 24 Ghanta App)