বার্থ সার্টিফিকেটের জন্য মা'কে 'কুপ্রস্তাব' তৃণমূল নেতার! স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন ছোট্ট মেয়ের!

দশটা বাজলেই মন খারাপ। বন্ধুরা সব স্কুলে যাবে। কিন্তু ওর যাওয়া হবে না। বছর পাঁচেকের ছোট্ট মুসকান। মায়ের কাছে বায়না ধরে স্কুলে যাওয়ার জন্য। একলা মায়ের চোখ দিয়ে জল গড়ায়। মুসকানের বায়না বাড়ে। স্কুলে তাকে যেতেই হবে। পড়াশুনা করে মায়ের দুঃখ ঘোচাতে চায় সে। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার দরজা বন্ধ। স্কুলে ভর্তি হতে চাই জন্মের শংসাপত্র বা বার্থ সার্টিফিকেট। মুসকানের বার্থ সার্টিফিকেট নেই। তাই স্কুলেও ভর্তি হতে পারছে না ছোট্ট মেয়ে।  জন্মের পর থেকেই মুসকানের বাবা নিরুদ্দেশ। রাজমিস্ত্রীর কাজ করেই মেয়েকে বড় করছেন মা।

Updated By: Jun 13, 2016, 10:45 AM IST
বার্থ সার্টিফিকেটের জন্য মা'কে 'কুপ্রস্তাব' তৃণমূল নেতার! স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন ছোট্ট মেয়ের!

ওয়েব ডেস্ক: দশটা বাজলেই মন খারাপ। বন্ধুরা সব স্কুলে যাবে। কিন্তু ওর যাওয়া হবে না। বছর পাঁচেকের ছোট্ট মুসকান। মায়ের কাছে বায়না ধরে স্কুলে যাওয়ার জন্য। একলা মায়ের চোখ দিয়ে জল গড়ায়। মুসকানের বায়না বাড়ে। স্কুলে তাকে যেতেই হবে। পড়াশুনা করে মায়ের দুঃখ ঘোচাতে চায় সে। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার দরজা বন্ধ। স্কুলে ভর্তি হতে চাই জন্মের শংসাপত্র বা বার্থ সার্টিফিকেট। মুসকানের বার্থ সার্টিফিকেট নেই। তাই স্কুলেও ভর্তি হতে পারছে না ছোট্ট মেয়ে।  জন্মের পর থেকেই মুসকানের বাবা নিরুদ্দেশ। রাজমিস্ত্রীর কাজ করেই মেয়েকে বড় করছেন মা।

কঠিন লড়াই। মুসকানের বাবা নেই। সকাল হলেই রাজমিস্ত্রীর জোগাড়ের কাজে বেরিয়ে পড়েন মুসকানের মা। দিনভর হাড়ভাঙা পরিশ্রম। কোনওদিন কাজ জোটে। কোনও দিন জোটে না। খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয় মুসকানের মাকে। অভাব, অনটন নিত্য সঙ্গী। সন্ধ্যে নামলে ক্লান্ত, অবসন্ন শরীরে ঘরে ফেরেন মুসকানের মা। মেয়েকে পড়তে বসান। কালো স্লেটে ফুটে ওঠে মুসকানের স্বপ্ন। বড় হওয়ার স্বপ্ন। ফুটে ওঠে বর্ণমালা। রাত হলেই আতঙ্ক। একলা মায়ের বিপদ অনেক। বার্থ সার্টিফিকেটে বের করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে কূপ্রস্তাব দিয়েছেন নেতারা। কখনও এসেছে ঘুষের দাবি। অভাবের কাছে নিজেকে বিক্রি করেননি মুসকানের মা। আপোসের পথ ছেড়ে সুবিচারের দাবি জানিয়েছেন মুসকানের মা।

বার্থ সার্টিফিকেটের জন্য খাদাল গোবরা পঞ্চায়েত অফিসে গিয়েছিলেন মুসকানের মা। সেখানেই  তৃণমূলের এক দাপুটে নেতা নিজে এসেই  মুসকানের মাকে বার্থ সার্টিফিকেট বের করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। মুসকানের মায়ের অভিযোগ, নেতার বাড়িতে যেতেই নেতার অন্য রূপ। তাঁকে কূপ্রস্তাব দেন ওই নেতা। কূপ্রস্তাবে রাজি না হলে কোনও কাজ হবে না বলেও জানিয়ে দেন ওই নেতা। এখানেই শেষ নয়। মুসকানের মায়ের অভিযোগ, এলাকার বিভিন্ন স্কুলেও মুসকানকে ভর্তি না করার ফতোয়া জারি করেছেন ওই নেতা। মুসকানের মায়ের প্রশ্ন, শুধুমাত্র বার্থ সার্টিফিকেটের অভাবে চিরতরে স্কুলের দরজা বন্ধ হয়ে যাবে তার মেয়ের, এ কেমন বিচার।

মুসকানকে বড় হতেই হবে। ছোট্ট মেয়ে জানিয়েছে সে স্কুলে যেতে চায়। তার এই স্বপ্নকে সফল করতে চব্বিশ ঘণ্টার খবরের জের। মুসকানকে স্কুলে ভর্তি করার বিষয়ে উদ্যোগী হল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারীর নির্দেশ, গঙ্গাধরপুরে মুসকানের মায়ের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূল নেতা। মুসকানকে স্কুলে ভর্তি করার জন্য যাবতীয় সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।