পাটিসাপটা

Update: January 13, 2013 15:20 IST

পৌষ সংক্রান্তি এসে গেল। এই সময়টা এলেই মনটা কেমন পিঠে পিঠে করে ওঠে। নলেন গুড়ের পিঠে না খেলে আর বাঙালির শীতকাল কি! আর পিঠের রাজা পাটিসাপটা। চালের গুঁড়োর মোড়কে পিঠের কামড়ে কামড়ে পাওয়া যায় গুড়, নারকেলের পুর। ক্ষীরের পাটিসাপটাও সমান লোভনীয়। দু`রকম রেসিপিই তুলে দিলাম আপনাদের জন্য।

নারকেল পাটিসাপটা

কী কী লাগবে

যে কোনও সুগন্ধি আতপ চালের গুঁড়ো- ২৫০ গ্রাম
ময়দা-২৫০ গ্রাম
মিহি করে কোরানো নারকেল-১ কাপ
খেজুড় গুড়- ১৫০ গ্রাম
দুধ- ২ কাপ
ভাজার জন্য সাদা তেল

কীভাবে বানাবেন

প্রথমে গুড় আর লারকেল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। কড়াইতে তেল দিয়ে ঢিমে আঁচে নারকেল, গুড়ের মিশ্রণ দিয়ে পাক দিন। সুন্দর গন্ধ বেরোলে এক কাপ দুধ দিয়ে আঁচ বাড়িয়ে ভাল করে পাক দিন। পুর আঠালো হয়ে কড়াইয়ের গা ছেড়ে এলে নামিয়ে নিন। ক্রমাগত নাড়তে থাকবেন। খেয়াল রাখবেন পুর যেন কড়াইতে লেগে না যায়।

এবারে চালের গুঁড়ো, গুড় ও দুধ দিয়ে ঘন গোলা তৈরি করুন। গোলা বেশি পাতলা হলে পিঠে ভাজার সময় চাটুতে লেগে যাবে। ননস্টিক প্যানে অল্প তেল দিয়ে প্যানে ছড়িয়ে দিন। হাতায় করে গোলা তুলে প্যানে দিয়ে হাতার পিছন দিয়ে ছড়িয়ে দিন। মাঝখানে লম্বা করে নারকেলের পুর দিয়ে কাঠের হাতা দিয়ে পাটিসাপটা রোল করে নিন। পিঠে ভাজার পুরো পদ্ধতিটাই কিন্তু একদম ঢিমে আঁচে হবে। প্রতিটা পিঠে ভেজে তোলার পর পাতলা ন্যাকড়া দিয়ে ননস্টিক প্যান একটু মুছে নিয়ে পরের পিঠের জন্য তেল দেবেন।

ক্ষীরের পাটিসাপটা

কী কী লাগবে


খোয়া ক্ষীর-১৫০ গ্রাম
সুগন্ধি আতপ চালের গুঁড়ো- ২৫০ গ্রাম
ময়দা-২৫০ গ্রাম
খেজুড় গুড়- ১৫০ গ্রাম
দুধ- ১ কাপের একটু বেশি
ভাজার জন্য সাদা তেল

কীভাবে বানাবেন

ক্ষীর আর গুড় একসঙ্গে মিশিয় অল্প দুধ দিয়ে একটু পাতলা করে নিন। কড়াইতে তেল দিয়ে ঢিমে আঁচে ক্ষীর, গুড়ের মিশ্রণ পাক দিয়ে নিন। আঠালো হয়ে গা ছেড়ে এলে নামিয়ে ফেলুন। পাক দেওয়ার সময় ক্রমাগত নাড়তে থাকবেন।

চালের গুঁড়ো, ময়দা, গুড় ও দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন গোলা তৈরি করুন। ননস্টিক প্যানে অল্প তেল দিয়ে প্যানে ছড়িয়ে দিন। হাতায় করে গোলা তুলে প্যানে দিয়ে হাতার পিছন দিয়ে ছড়িয়ে দিন। মাঝখানে লম্বা করে ক্ষীরের পুর দিয়ে কাঠের হাতা দিয়ে পাটিসাপটা রোল করে নিন।







Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।