এফডিআই নিয়ে সরকারকে হলফনামা পেশের নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

খুচরো ব্যবসায়ে বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়ার পর ছোট ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কী পদক্ষেপ করেছে? এ বিষয়ে কেন্দ্রকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

ওয়ালমার্ট ইস্যুতে উত্তাল রাজ্যসভা

খুচরো ব্যবসায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআইকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় খুচরো ব্যবসা বিষয়ক সংস্থা ওয়াল মার্টের একটি রিপোর্ট। সম্প্রতি ওয়াল মার্ট মার্কিন সেনেটে একটি রিপোর্ট পেশ করেছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের বিশাল খুচরো ব্যবসার বাজার ধরার লক্ষ্যে, ওয়াল মার্ট ২০০৮ সাল থেকে ভারতে টানা লবি করে গিয়েছে। তার জন্য গত চার বছরে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা খরচ করেছে ওই সংস্থা। ওয়ালমার্টের এই রিপোর্টের ভিত্তিতে উত্তাল হয়ে ওঠে আজকের রাজ্যসভা।

ভারতে এফডিআইকে স্বাগত আমেরিকার

খুচরো ব্যবসায় বিদেশি বিনিয়োগকে অনুমোদন দিয়েছে ভারতীয় সংসদ। সংসদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিদেশ দফতরের মার্ক টোনার আশাপ্রকাশ করেছেন, এবার, উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশগুলির মতোই ভারতের খুচরো বাজারেও বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়বে। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, এর ফলে ভারতের কৃষক সমাজের পাশাপাশি উপকৃত হবেন ছোটো ব্যবসায়ীরাও।

রাজ্যসভাতেও জয়ী এফডিআই

খুচরো ব্যবসায়ে বিদেশি লগ্নিতে আর কোনও বাধা রইল না।  লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও এফডিআই বিরোধিতার প্রস্তাব পরাস্ত হল। তবে প্রস্তাবের পক্ষে ও বিপক্ষে ঠিক কতগুলি ভোট পড়েছে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অস্পষ্টতা। দ্বিতীয়বার গণনার পর জানানো হয়, প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ১২৩টি। বিপক্ষে পড়েছে ১০২টি ভোট। যদিও সরকারপক্ষের দরকার ছিল ১১৭টি ভোট।

এফডিআই ভোট: রাজ্যসভায় জিতল সরকার

এফডিআই নিয়ে আজ রাজ্যসভায় ভোটাভুটি। গতকাল বহুজন সমাজ পার্টি সমর্থনের ঘোষণার পর ভোটাভুটিতে বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেইসঙ্গেই ওয়াকআউটের কথা ঘোষণা করেছে সমাজবাদী পার্টি।

সমর্থনের প্রতিশ্রুতি বহেনজির, রাজ্যসভাতেও স্বস্তিতে এফডিআই

গতকাল ওয়াকআউট করে লোকসভায় সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। আজ রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে খুচরো বিতর্কের ভোটাভুটিতে সরকারকে সরাসরি সমর্থনের করলেন বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতী। অন্যদিকে, রাজ্যসভাতেও ভোটদানে বিরত থাকবে সপা। আজ দলের পক্ষ থেকে একথা জানিয়েছেন সাংসদ নরেশ আগরওয়াল। আজ রাজ্যসভায় মায়াবতী বলেন খুচরো ব্যবসায় বিদেশী বিনিয়োগ সমর্থন না করলেও এই মুহূর্তে সরকারের পাশেই থাকবে বিএসপি। সপার ৯ সাংসদ সহ অনুপস্থিত থাকবেন ইডেনে খেলতে আসা মনোনীত সাংসদ সচিন তেন্ডুলকরও। ফলে ম্যাজিক ফিগার ১২৩ থেকে কমে দাঁড়াবে ১১৭। বসপার ১৫ সাংসদের সমর্থন পেলে ইউপিএ-র পক্ষে মোট ভোট দাঁড়াবে ১১৯।

এফডিআই ইস্যুতে আজ রাজ্যসভায় ভাগ্য পরীক্ষা কেন্দ্রের

গতকাল লোকসভায় শীতকালীন অধিবেশনের সবচাইতে বড় পরীক্ষাটা উতরে গেছে কেন্দ্রের ইউপিএ-২ সরকার। বিরোধীদের প্রস্তাব খারিজ করে এফডিআই ইস্যুতে জয় পেয়েছে কেন্দ্র। সৌজন্যে অবশ্যই 'সপা' আর 'বসপা'-র 'বন্ধুত্ব পূর্ণ' ওয়াকআউট। আজ রাজ্যসভায় খুচরো ব্যবসায় বিদেশি বিনিয়োগ ইস্যুতে আবার যুদ্ধে নামল সরকার। ইতিমধ্যে থেকে রাজ্যসভার উচ্চকক্ষে এফডিআই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। ভোটাভুটি হবে শুক্রবার। সরকারের চিন্তা বাড়িয়ে দিল সমাজবাদী পার্টি। বাজ্যসভায় সপা সরকারকে ভোট দেবে না বলে জানিয়ে দিলেন সপা নেতা নরেশ অগ্রবাল। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন লোকসভার মত রাজ্যসভাতেও জয়
পাবে সরকারই। 

এফডিআই যুদ্ধ: লোকসভায় ২৫৩/২১৮-তে জয়ী সরকার

বিরোধীদের প্রস্তাব খারিজ। স্বস্তিতে ইউপিএ-২। পক্ষে ভোট ২৫৩, বিপক্ষে ২১৮। চিত্রনাট্যে সাজানো টানটান উত্তেজনার অবসান ঘটল খুচরো ব্যবসায় বিদেশি বিনিয়োগ যুদ্ধে সরকারের জয়ের মধ্যে দিয়ে। সংসদে বিরোধী দলনেত্রী সুষমা স্বরাজের আনা প্রস্তাবের পক্ষে ২১৮টি ভোট পড়ে। মনমোহন সিংয়ের সরকার ২৫৩টি ভোট পেয়েছে।

ভোটাভুটি থেকে এসপি, বিএসপির ওয়াক আউট

ইঙ্গিত ছিল আগেই। কংগ্রেসকে অক্সিজেন যোগাতে এফডিআই এর ভোটাভুটি থেকে শেষমুহুর্তে ওয়াক আউট করল বহুজন সামাজবাদী পার্টি। সংসদ থেকে বেরিয়ে এসেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতারাও।  ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হওয়ার ঠিক আগে বিএসপি ও এসপি নেতারা একে একে ওয়াক আউট করেন। এই দুই সহযোগী দলের সরে আসার পর, কংগ্রেসের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছতে আর কোনও অসুবিধা থাকল না বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।