আজ ভোট দেবে বর্ধমান আর সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম

Last Updated: Sunday, July 14, 2013 - 23:39

রাজ্য সরকার, নির্বাচন কমিশনের দাবি নির্বিঘ্নেই মিটেছে প্রথম দাফার পঞ্চায়েত ভোট। কাল দ্বিতীয় দফা। ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর ও হুগলির মানুষ। ইতিমধ্যেই পৌঁছতে শুরু করেছে ভোট গ্রহণকারী আধিকারিকরা। তিন জেলা থেকেই দিনভর এসেছে উত্তেজনার খবর। মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রশাসনের বিশেষ নজরে রয়েছে বর্ধমান জেলা। ওদিকে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন, দ্বিতীয় দফাতেও কান্দ্রীয় বাহিনীকে কার্যত ঠুঁটো জগন্নাথ করে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক হিংসা সত্ত্বও নির্বিকার রয়েছে প্রশাসন। যে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে রাজ্যে পরিবর্ত হয়েছে। আজ ভোট সেখানে। আদালতের আঙিনায় টানাপোড়েনে এখনও নির্ধারিত হয়নি সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকদের ভাগ্য। নন্দীগ্রাম হারিয়েছে শিল্প স্বপ্ন। রাজ্যে পরিবর্তনের পর কাল প্রথম জনতার রায় দেওয়ার পালা সেখানে।
দ্বিতীয় দফার ভোট বিস্তারে
২০০৮ এর ফলাফল:
২০০৮-এ পূর্ব মেদিনীপুরে জেলা পরিষদের ৫৩টি আসনের মধ্যে ১৬টিতে জিতেছিল বামেরা। তৃণমূলের দখলে গিয়েছিল ৩৫টি আসন। ২৫টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে ৪টিতে জয়লাভ করে বামেরা। ২১টি পঞ্চায়েত সমিতি দখল করে তৃণমূল। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরে ২২৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৫৭টিতে জয়লাভ করে বামেরা। ১৪৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস ১টি গ্রাম পঞ্চায়েতে জয়লাভ করে।
 
২০০৮-এ বর্ধমানে জেলা পরিষদের ৬৭টি আসনের মধ্যে ৬৩টিতে জিতেছিল বামেরা। তৃণমূলের দখলে গিয়েছিল ২টি আসন। জেলা পরিষদের ১টি আসনে জয়লাভ করে কংগ্রেস। ৩১টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে ২৬টিতে জয়লাভ করে বামেরা। ৫টি পঞ্চায়েত সমিতি দখল করে তৃণমূল। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বর্ধমানে ১৬৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১৪৯টিতে জয়লাভ করে বামেরা। ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস ৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতে জয়লাভ করে।
২০০৮-এ হুগলিতে জেলা পরিষদের ৪৭টি আসনের মধ্যে ৩৬টিতে জিতেছিল বামেরা। তৃণমূলের দখলে গিয়েছিল ১১টি আসন। ১৮টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে ১৩টিতে জয়লাভ করে বামেরা। ৫টি পঞ্চায়েত সমিতি দখল করে তৃণমূল। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে হুগলিতে ২১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১৫১টিতে জয়লাভ করে বামেরা। ৫৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস ২টি গ্রাম পঞ্চায়েতে জয়লাভ করে।
   
বুথ পরিসংখ্যান:
পূর্ব মেদিনীপুরের ২৫টি ব্লকে অতি-স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা ১৫০। স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা ৩৫৪। জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে ৪৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
বর্ধমানের ৩১টি ব্লকে অতি-স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা ১৭৪৩। স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা ১৩১৯। জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে ৫৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
হুগলির ১৮টি ব্লকে অতি-স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা ৭৩৮। স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা ৮১৮। জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে ৩৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
পূর্ব মেদিনীপুরে ৩৩৩৬টি ভোটকেন্দ্রে মোট বুথের সংখ্যা ৩৯৭৭। একটি বুথ নিয়ে গঠিত ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৭৪৩।
বর্ধমানে ৩২৬২টি ভোটকেন্দ্রে মোট বুথের সংখ্যা ৪৭৯৫। একটি বুথ নিয়ে গঠিত ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৫২।
হুগলিতে ২৪২৯টি ভোটকেন্দ্রে মোট বুথের সংখ্যা ৩৭৭১। একটি বুথ নিয়ে গঠিত ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৫৭।
অর্থাৎ, তিন জেলার মোট ১২৫৪৩টি বুথের মধ্যে ৬০৫২টি বুথ বা ৪৮ শতাংশের বেশি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া ভোট হচ্ছে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূলের জয়ী আসন:
  
পূর্ব মেদিনীপুরে পঞ্চায়েত সমিতির ৬৬১টি আসনের মধ্যে ১১০টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে তৃণমূল। গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩৩৭৮টি আসনের মধ্যে ৪৭৮টিতে জয়ী হয়েছে তারা।
বর্ধমানে পঞ্চায়েত সমিতির ৭৭৯টি আসনের মধ্যে ১২৫টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে তৃণমূল। কংগ্রেস ও নির্দল প্রার্থীরা ১টি করে আসনে জয়লাভ করেছেন। গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪০৬৭টি আসনের মধ্যে ৭৯৯টি আসনে জয়ী হয়েছে শাসকদল। ১টি আসনে জিতেছে কংগ্রেস। ৫টি করে আসনে জয়লাভ করেছেন বাম ও নির্দল প্রার্থীরা।
হুগলিতে জেলা পরিষদের ৫০টি আসনের মধ্যে ৬টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গেছে তৃণমূল। পঞ্চায়েত সমিতির ৬০৭টি আসনের মধ্যে ২১৭টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে তারা। গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩১৯২টি আসনের মধ্যে ১২০৭টি আসনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ১৩টি আসনে জিতেছেন নির্দল প্রার্থীরা।



First Published: Monday, July 15, 2013 - 07:02


comments powered by Disqus