লোবার রেশ না কাটতেই তেহট্টে ফের পুলিসের গুলি, মৃত ১

Last Updated: Wednesday, November 14, 2012 - 11:36

ফের গুলি চালাল পুলিস। এবার নদিয়ার তেহট্টে। জগদ্ধাত্রী পুজোর অনুমতি নিয়ে বচসার জেরে আজ সকালে তেহট্টে পুলিস গুলি চালায়। পুলিসের গুলিতে অশোক সেন নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম আরও দু'জন।
প্রাথমিক ভাবে পুলিস গুলি চালানোর ঘটনা অস্বীকার করে। তার কিছু পরেই ২৪ ঘণ্টার হাতে পুলিসের গুলি চালানোর ছবি এসে পৌঁছয়। ফলে দুবরাজপুরে সরকার গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করলেও নদিয়ার তেহট্টে কিন্তু সরকারের কাছে মুখরক্ষার কোনও পথ থাকল না। কারণ সংবাদমাধ্যমের ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে বাড়ির ছাদ থেকে ক্ষুব্ধ জনতার ওপর বেপোরায়া গুলি চালিয়েছে পুলিস। এরপর তল্লাসির নামে বাড়ি বাড়ি ঢুকে পুলিসের বিরুদ্ধে নির্যাতন চালানোর অভিযোগও উঠেছে।
পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে পড়ে যে মহাকরণে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বসে। যদিও এডিজি আইনশৃঙ্খলা সুরজিত কর পুরকায়স্থের দাবি, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালিয়েছে পুলিস।
জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে পুলিস প্রশাসনের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে অশান্তি চলছিল স্থানীয় মানুষের। অভিযোগ, একটি সংগঠনকে এ বছর পুজোর অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। যদিও গত দশ বছর ধরে তারা পুজো করে আসছে। প্রতিবাদে আজ সকালে তেহট্টের হাউলিয়া মোর অবরোধ করে তেহট্টের সমস্ত পুজো উদ্যোক্তারা। এর পরেই পুলিসের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ বাধে। অভিযোগ, অবরোধে প্রথমে লাঠি ও পরে গুলি চালায় পুলিস।
স্বয়ং এসডিপিও শৈলেশ শাহের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ এনেছে উত্তেজিত জনতা। পরে মহাকরণে এডিজি আইনশৃঙ্খলা সুরজিত কর পুরকায়স্থ বলেন আত্মরক্ষার কারণেই তিনি গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিস। পুলিসের গুলিতে জখম হন বেশ কয়েকজন। গুলিবিদ্ধ দুই ব্যক্তি হাসা ঘোষ ও অশোক সেনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিত্সার জন্য কৃষ্ণনগরে নিয়ে আসার পথে অশোক সেনের মৃত্যু হয়।
এই পুজো নিয়ে এর আগে সর্ব দলের বৈঠকও হয়। অভিযোগ, সেই বৈঠকের সুপারিশও মানেনি প্রশাসন। রবীন দেবের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছে বাম প্রতিনিধি দল।
ঘটনার পরে উত্তেজিত জনতা বেশ কয়েকটি পুলিসের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।



First Published: Wednesday, November 14, 2012 - 17:45


comments powered by Disqus