জেনেই হোক অথবা না জেনেই, নীল আলো শহরে বসানোর জন্য ধন্যবাদ দিতে চাই মুখ্যমন্ত্রীকে

Updated By: Aug 29, 2016, 07:12 PM IST
জেনেই হোক অথবা না জেনেই, নীল আলো শহরে বসানোর জন্য ধন্যবাদ দিতে চাই মুখ্যমন্ত্রীকে

স্বরূপ দত্ত

আজকের দিনটা দীর্ধদিন ধরেই আমাদের কাছে ঐতিহাসিক এবং গর্বের। কারণ, অনেকগুলো। তবে, মূল কারণ, আজ জন্মদিন হকির জাদুকর ধ্যানচাঁদের।আর সেইজন্যই আজ জাতীয় ক্রীড়াদিবস। সেটা তো গেল, দেশের পক্ষের কথা। কিন্তু আমরা যে 'সভ্য' এবং 'সামাজিক'! আমাদেরকে আর বৃহত্তর গণ্ডীতে আটকে রাখবে কে? তাই দেশের পর রাজ্য, তারপর জেলা, তারপর গ্রাম বা শহর, তারপর পাড়া আর তারপর নিজের পরিবার বা বাড়ি। বড় জিনিসটাকে ভেঙে টুকরো টুকরো করতে সভ্য মানুষদের কী আর জুড়ি আছে! তাই এবার আসি আমাদের রাজ্যের কথায়।

আজ ২৯ আগস্ট ২০১৬ যে, আমাদের রাজ্যের কাছেও ঐতিহাসিক হয়ে থাকল। কারণ, আজ থেকে আমাদের রাজ্যের নামটাই বদলে গেল! পশ্চিমবঙ্গ আর পশ্চিমবঙ্গ থাকল না! কী হল? সেটা আর জেনে দরকার কী! ও ঠিক থাকতে থাকতে আবার মুখস্থও হয়ে যাবে। আবার বলাও অভ্যাস হয়ে যাবে। নেতারা করলেন। রাজ্যবাসীরা মেনে নিলাম। এটা প্রবাদ যে, 'নামে কী এসে যায়'। কিন্তু সাধারণ মানুষ এতটাই তুচ্ছ যে, সে তাঁর রাজ্যের নাম বদলের ক্ষেত্রেও কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। মেনে নেওয়া ছাড়া আর তাঁর কাছে উপায়ই বা কী আছে! যাক, যা গেছে তা যাক অথবা হাতে থাকল শুধু পেন্সিল বলা ছাড়া আর কীই বা করতে পারে সাধারণ মানুষ। এ তো গেল নাম বদলের কথা।

এবার আসি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটা ধন্যবাদ দেওয়ায়। তিনি দীর্ধদিনের বাম সরকারকে সরিয়ে এ রাজ্যের সরকার চালাচ্ছেন। তিনি আসার পরই শহরের রঙটা নীল-সাদা করে দেন। সম্ভাবত, এর পিছনে কোনও যুক্তি সেভাবে ছিল না। যুক্তি বলতে বোধহয় মূলত দুটো। একটা হল এই যে, এত বড় শহরটাকে কোনও একটা বা দুটো রঙে সাজালে, দেখতে বেশ ভালোই লাগবে। আর দ্বিতীয়ত, নীল-সাদা রঙটাও বোধহয় তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ। এছাড়া নীল-সাদা নিয়ে বিরাট কোনও যুক্তি বোধহয় তাঁর ছিল না, পছন্দ করা ছাড়া। ধন্যবাদটা সেইজন্যই তাঁকে দিতে ইচ্ছে করছে।

জেনেই হোক অথবা না জেনেই হোক, আসলে এই শহরের একটা ভালো জিনিস করে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্তত কিছু তথ্য সেই কথাটাই বলছে। আজকের রাতে শহরের রাস্তায় বেরোলে অনেক জায়গাতেই দেখা যায় নীল আলো জ্বলতে। বেশ নীল আলোয় রাস্তার দুপাশটা সাজানো থাকে। দেখে উত্সব-উত্সব মনে হয়। এই নীল আলো অবশ্য শহরের সব জায়গাতে নেই। কিছু কিছু জায়গায় রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানলে খুশি হবেন যে, এই নীল আলো কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মন জয় করে নিয়েছে অনেকের।

মূলত, জাপানের টোকিও এবং স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরের কাছে বেশ কিছু রাস্তার পাশে নীল আলো দিয়ে সাজানো হয়। আরও পরিষ্কার করে বললে, জাপানের তোমাই এক্সপ্রেস ওয়ে-তে প্রায় দু' কিলোমিটার জায়গা জুড়ে মোট ১৫২টি নীল আলো জ্বালানো হয় প্রথমে। এর ফল পাওয়া যায় হাতে নাতে। কয়েক বছরের মধ্যেই দেখা যায় গ্লাসগো এবং টোকিওর কাছের ওই রাস্তাগুলোতে আশ্চর্যজনকভাবে আত্মহত্যার সংখ্যা এবং অপরাধের সংখ্যা কমে যায়! হ্যাঁ, কমার শতাংশটাও চোখ কপালে ওঠার মতো। যে রাস্তাগুলো আগে ছিল আত্মহত্যার জন্য বিখ্যাত, সেই রাস্তাতে একটাও নতুন আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায় না। চোখে পড়ার মতো কমে যায় অপরাধের সংখ্যাও। আমাদের রাজ্য, আমাদের শহরটাতেও আছে সবই। চাই শুধু একটু শান্তিতে বাঁচতে পারা।

যদি ক'টা নীল আলো এই শহরের মানুষের প্রাণ বাঁচায়, যদি ক'টা নীল আলো এই শহরের অপরাধের সংখ্যা আগামী কয়েক বছরে বেশ খানিকটা কমে যায়, তাহলে নীল আলোকে তো ধন্যবাদ দিতেই হবে। আর অবশ্যই ধন্যবাদ পাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে আপনি জেনেই কাজটা করুন অথবা না জেনেই। বরং, আজ যাঁরা এই লেখাটা পড়লেন, তাঁরাও পারলে বেশি মানুষের কাছে এই তথ্যটা পৌঁছে দেবেন। তাতে জনমানসেও প্রভাব পড়বে। হয়তো আত্মহত্যা করতে চলা মানুষটারও নতুন করে ওই নীল আলো দেখে নির্জনে বাঁচতে ইচ্ছে করবে। অথবা, অপরাধীও হয়তো ওই নীল আলো দেখে অপরাধ ভুলে ক্ষণিকের প্রেমিক হয়ে যাবেন! ভালো থাকুন এই শহরের সব মানুষ। এই রাজ্যের সব মানুষ। নীলীমায় হয়ে উঠুক সত্যিই নীল!

আরও পড়ুন যাঁর জন্মদিনে ১৩০ কোটির দেশের আজ ক্রীড়াদিবস, তাঁকেই জানবেন না?