পরীক্ষায় মিলেছে সাফল্য! করোনা রুখতে তৈরি শক্তিশালী প্রতিষেধক!

মার্কিন বিজ্ঞানীদের দাবি, করোনা থেকে সেরে ওঠা মানুষের শরীরের অ্যান্টিবডির চেয়েও বহুগুণ শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরিতে সক্ষম এই ওষুধটি।

Edited By: সুদীপ দে | Updated By: May 19, 2020, 09:56 PM IST
পরীক্ষায় মিলেছে সাফল্য! করোনা রুখতে তৈরি শক্তিশালী প্রতিষেধক!

নিজস্ব প্রতিবেদন: রাষ্ট্রসঙ্ঘ জানিয়েছে, প্রতিষেধক ছাড়া করোনাভাইরাসকে রোখা প্রায় অসম্ভব! করোনা মোকাবিলায় প্রায় ১০০টি প্রতিষেধকের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে। এর মধ্যে ৪টির ক্ষেত্রে অগ্রগতি ও সাফল্য সবচেয়ে বেশি। এই ৪টি প্রতিষেধকের মধ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি টিকার (ChAdOx1 nCoV-19) পরেই উল্লেখযোগ্য ভাবে সাফল্যে দিকে এগোচ্ছে মোদের্না আরএনএ ভ্যাকসিন (Moderna RNA vaccine)।

আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস-ভিত্তিক বায়োটেক সংস্থা মোদার্নার এই প্রতিষেধক মেসেঞ্জার আরএনএ (জেনেটিক উপাদান) ভাইরাল প্রোটিন বা অ্যান্টিজেন তৈরি করে। এই অ্যান্টিজেন প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্ররোচিত করে এবং শরীরকে COVID-19-এর বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

ইতিমধ্যেই মার্কিন সংস্থা মোদার্নার গবেষকরা দাবি করেছেন, প্রথম দফায় আটজন মানুষের উপর তাদের তৈরি করোনা প্রতিরোধী ওষুধ mRNA-1237 প্রয়োগ করে সাফল্য মিলেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, COVID-19-এর জেনেটিক কোড কাজে লাগিয়েই সংস্থা এই mRNA-1237 ওষুধটি তৈরি করেছে। সংস্থার দাবি, mRNA-1237 ওষুধটি সরাসরি ভাইরাসকে ধ্বংস না করলেও শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের শরীর থেকে অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করে, সেটির সাহায্যে এই ভাইরাস ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে মার্কিন সংস্থা মোদার্নার গবেষকরা জানান, করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের শরীর থেকে সংগৃহিত অ্যান্টিবডির চেয়েও বহুগুণ শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরিতে সক্ষম mRNA-1237 ওষুধটি। সংস্থার গবেষকদের দাবি, এই ওষুধের মাঝারি ক্ষমতার ডোজেই সবচেয়ে ভাল ফল মিলেছে।

আরও পড়ুন: প্রতিষেধক নয়, এই বিশেষ ওষুধে পাঁচ দিনেই নির্মূল হচ্ছে করোনা! দাবি চিনা গবেষকদের

সংস্থার চিফ মেডিক্যাল অফিসার টাল জ্যাকস জানান, আট জনের উপর mRNA-1237 ওষুধটি প্রয়োগের উদ্দেশ্য ছিল, করোনার বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া। এর পাশাপাশি এই ওষুধের প্রয়োগে কোনও বিরূপ প্রভাব আছে কিনা তা দেখে নেওয়া। চূড়ান্ত পর্বের প্রাথমিক পরীক্ষায় mRNA-1237 ওষুধটির প্রয়োগে সাফল্য মিলেছে। এ বার আরও বড় সংখ্যক মানুষের উপর এই ওষুধ প্রয়োগ করে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। তার পর এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে।

.