রাজ্যে টিকাকরণ অভিযানে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হল না দ্বিতীয় দফাতেও, কাঠগড়ায় Co-Win
লক্ষ্য পৌঁছাতে না পারার কারণ কোভিড পোর্টাল।
নিজস্ব প্রতিবেদন: টিকাকরণ অভিযানে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হল না দ্বিতীয় দফাতেও। সোমবার দিনভর টিকাকরণ কর্মসূচি (Vaccination) চলে কলকাতা-সহ রাজ্যের ২০৭টি কেন্দ্রে। ভ্যাকসিন নেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। স্বাস্থ্য দফতরের আশা ছিল, প্রতিটি কেন্দ্রে যদি ১০০ জন করেও আসেন, তাহলে ২০ হাজার ৭০০ জন কোভিশিল্ডের ডোজ পাবেন। তবে শেষপর্যন্ত ভ্যাকসিন পেয়েছেন মোট ১৪,১১০ জন। আগেরবার একদিনে ভ্যাকসিন পেয়েছিলেন মোট ১৫,৭০৭ জন।
জানা গিয়েছে, এই লক্ষ্য পৌঁছাতে না পারার কারণ কোভিড পোর্টালই। কেন দ্বিতীয় দিনেও টিকাকরণের লক্ষ্যমাত্রা থেকে দূরে থাকল রাজ্য? স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানানো হচ্ছে, এর পিছনে অনেকাংশেই দায়ী কো উইন পোর্টাল। রবিবার বিকেলের পর থেকে কো উইল পোর্টাল মোটামুটি কাজ করতে শুরু করলেও, ঝুঁকি না নিয়ে অফলাইনেও যাতে টিকা দেওয়া যায়, তার ব্যাবস্থা করে রেখেছিল স্বাস্থ্যদপ্তর। আবার অনেকের কাছে পোর্টাল থেকে চলে যায় মেসেজ। তার মধ্যে শনিবারই টিকা পেয়েছেন এমন লোকও আছেন বলে খবর। এর জেরেই কিছু সংখ্যক টিকাগ্রহণকারী কম এসে থকতে পারেন বলে আপাতত মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।
প্রসঙ্গত, শনিবার টিকাকরণ অভিযানের তদারকি করতে গিয়ে স্বাস্থ্য কর্তাদের নজরে পড়েছে, একটি শিশি থেকে ১০ জনের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বহু জায়গায় সেই বাড়তি ভ্যাকসিন ব্যবহার না করে ফেলা দেওয়া হচ্ছে! কেন? কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ৫ মিলিলিটার হিসেবে একটি শিশি থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে ১০ জনকে। ভ্যাকসিনের অপচয় রুখতে এবার নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্য দফতর।
এদিকে, টিকা পরবর্তিতে রাজ্যজুড়ে আজ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মোট ১৪ জন। এদের মধ্যে ২ জনের অসুস্থতা কিছুটা বেশি হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ২ জনের ১ জনকে ডায়মন্ডহারবারের মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর বমি হচ্ছিল। অন্যজনকে ভর্তি করা হয় ফালাকাটা হাসপাতালে। তাঁর শ্বাসকষ্ট ও মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। দুজনের অবস্থাই বর্তমানে স্থিতিশীল।