আনোয়ার শাহ রহস্যমৃত্যু কাণ্ডে প্রশ্ন আবাসনের নিরাপত্তা নিয়ে

আনোয়ার শাহ রোডে আবাসনে তিনজন মহিলার দেহ উদ্ধারের ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে ওই আবাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। শুধু সন্ধ্যায় নয়, দুপুরেও মুকুতা মুখার্জি ওই আবাসনে যান বলে জানতে পেরেছে পুলিস।

Updated By: Sep 1, 2012, 04:30 PM IST

আনোয়ার শাহ রোডে আবাসনে তিনজন মহিলার দেহ উদ্ধারের ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে ওই আবাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। শুধু সন্ধ্যায় নয়, দুপুরেও মুকুতা মুখার্জি ওই আবাসনে যান বলে জানতে পেরেছে পুলিস। ঘটনায় চতুর্থ ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও, ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার পর সন্দেহের অনেকটাই নিরসন ঘটেছে বলে দাবি করেছে পুলিস।
গল্ফগ্রিনের বাসিন্দা অনিতা মুখার্জির স্বামী এবং মুকুতা ও কেয়ার বাবা নীহার মুখার্জির মৃত্যু হয় গত উনত্রিশে অগাস্ট। কিন্তু দেহ নেওয়া হয়েছিল প্রায় একদিন পর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার সময়। হাসপাতালের রেকর্ড সেরকম তথ্যই দিচ্ছে।
 
এ সময়ের মধ্যেই আত্মহত্যার পরিকল্পনা কষে ফেলেছিলেন মুখার্জি পরিবারের সদস্যরা। সেই মত রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পত্তি দানের অঙ্গীকার করে লেখা হয়েছিল একটি চিঠিও। নতুন করে সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিস জানতে পেরেছে, তিরিশে অগাস্ট দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ এক ব্যক্তির সঙ্গে ওই আবাসনে ঢোকেন মুকুতা মুখার্জি। কে এই ব্যক্তি? নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। খোঁজ নিয়ে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে পারে পুলিস। তাঁর সঙ্গে কথাও বলেন গোয়েন্দারা। তবে তাঁর বক্তব্যে সন্দেহজনক কিছুই মেলেনি।
 
দুপুরে আবাসনে যাওয়ার পর, মুকুতা মুখার্জি কখন আবাসন ছাড়েন তার কোনও তথ্য নেই। তবে সিসিটিভির ফুটেজে তাঁকে ফের দেখা যায় সন্ধ্যা সাতটা সাতান্ন মিনিটে। সঙ্গে অনিতা এবং কেয়া মুখার্জিকে নিয়ে ওই আবাসনে ফের ঢোকেন তিনি। এরপরও মুকুতার বেরিয়ে যাওয়ার কোনও তথ্য নেই। তবে আবার তাঁকে আবাসনে ঢুকতে দেখা যায় রাত এগারোটা নাগাদ। পুলিস মনে করছে, এই সময় তাঁর বাবা নীহার মুখার্জির শেষকৃত্য করতে গেছিলেন মুকুতা। পুলিস জানতে পেরেছে, দুপুরে যে ব্যক্তির সঙ্গে আবাসনে যান মুকুতা, তিনিও শেষকৃত্যের সময় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তারপর তিনি কোথায় গেছিলেন তা নিয়ে তথ্য না পেয়েই চতুর্থ ব্যক্তিকে নিয়ে রহস্য দানা বাঁধে।
 
প্রশ্ন উঠেছে, মুকুতা যখন বেরিয়ে যায়, তখন কেয়া এবং অনিতা মুখার্জি কোথায় ছিলেন, তা নিয়েও। আর এসব প্রশ্ন সামনে আসার পর নিরাপত্তায় যে গলদ ছিল, সে ব্যাপারে নিশ্চিত পুলিস।
 
ষোলশ ফ্ল্যাট বিশিষ্ট ওই আবাসনের ইন্টারকম ব্যবস্থা গত কয়েকদিন ধরেই খারাপ। সেদিনের কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষী জানিয়েছেন, সন্ধ্যাবেলায় মহিলাদের থার্টি-থ্রি জি ফ্ল্যাটের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দেন তিনি। ফ্ল্যাটের বেলও বাজিয়ে দেন। কিন্তু ফ্ল্যাটের কেয়ারটেকারের দাবি, সেদিন কেউ আসেননি। দুজনের বক্তব্যে এই অসঙ্গতি খতিয়ে দেখছে পুলিস। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি, মুখার্জি পরিবারের গাড়ির চালককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। 
 
শনিবার ওই আবাসনে যান জয়েন্ট সিপি ক্রাইম পল্লব কান্তি ঘোষ। আবাসনের রেকর্ড বুক খতিয়ে দেখেন তিনি। যে বহুতলের ছাদ থেকে মহিলারা ঝাঁপ মারেন বলে পুলিসের সন্দেহ, সেই ছাদ এবং  যে লনে দেহগুলি পড়েছিল--এই দুটি জায়গা ফের পরীক্ষা করে দেখা হয়।